অন্যান্য চ্যানেল
ক্রিকেট
ইংল্যান্ড-ভারত
পঞ্চম টি-টোয়েন্টি, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস ৫

অন্যান্য চ্যানেল
ক্রিকেট
ইংল্যান্ড-ভারত
পঞ্চম টি-টোয়েন্টি, সরাসরি, সন্ধ্যা ৭-৩০ মিনিট, সনি স্পোর্টস ৫

ফিফা বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল
নরওয়ে-ইংল্যান্ড
সরাসরি, রাত ৩টা
স্পেন-বেলজিয়াম
পুনঃপ্রচার, ধারণকৃত, রাত ১টা
ক্রিকেট
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে
তৃতীয় ওয়ানডে, সরাসরি
দুপুর ১-৩০ মিনিট

এই ব্যর্থতা ও লজ্জার পর আনচেলোত্তির ব্রাজিলের কোচ হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি হলে তাঁর চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলতাম। এরপর চাইলে তিনি আমার বিরুদ্ধে মামলা করতেন।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি
রোমারিও
আমি আমার খেলোয়াড়দের মাথা উঁচু রাখতে বলেছি। কারণ আমরা আমাদের সবটুকু উজাড় করে সেরাটা দিয়েছি। তবে অবশ্যই আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে।
মরক্কো কোচ
মোহামেদ ওয়াহবি
আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা জানি যে স্বস্তি পাওয়ার একটাই উপায় আছে, আর তা হলো জয়ী হওয়া। তবে আমাদের এখনো অনেক পথ বাকি।
ফ্রান্স অধিনায়ক
কিলিয়ান এমবাপ্পে
এটি অবশ্যই বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি। ইংল্যান্ডেই আমার জন্ম। সেখানে আমার অনেক সতীর্থও আছে। তাই ম্যাচটি ভিন্ন রকমের অনুভূতি দেবে।
নরওয়ে স্ট্রাইকার
আর্লিং হালান্ড
আমরা এখানে অভিযোগ করতে আসিনি (ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসার দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা)। আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে এবং নরওয়েকে হারানোর জন্য প্রস্তুত একটি দল বেছে নিতে হবে।
ইংল্যান্ড উইঙ্গার
বুকায়ো সাকা
মেক্সিকোর বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর আমার মতো সবাই নিশ্চয়ই এটাই ভাবছে (ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়)। যদিও ম্যাচের আগে আমার সত্যিই এমনটা মনে হয়নি।
সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার
অ্যালান শিয়েরার

পেনাল্টি মিস করে নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লাগছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের। স্পট কিক থেকে গোল করায় তাঁর চেয়ে নির্ভরযোগ্য কম খেলোয়াড়ই যে আছেন! ফ্রান্সের জার্সিতে এর আগে ১৫ পেনাল্টির ১৪টিই জালে পাঠানো অন্তত সেটিরই সাক্ষ্য দেয়। কিন্তু
মরক্কোর বিপক্ষে এরই ধারাবাহিকতায় শতভাগ সাফল্য বজায় রাখতে পারননি এমবাপ্পে। পরে জানিয়েছেন, শট নেওয়ার আগে দীর্ঘ অপেক্ষায় মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলেন। তাই বলে ভেঙেও পড়েননি। ডেডলক ভেঙে পরে তাঁর গোলেই ম্যাচে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। একটি গোল করান উসমান দেম্বেলেকে দিয়েও। চিতাবাঘের ক্ষিপ্রতায় প্রতিপক্ষের উঠানে ঝড় তোলার অপেক্ষায় থাকা এমবাপ্পেকে হয়তো কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা যায়। কিন্তু তাঁর মানসিক দৃঢ়তাকে আটকে রাখার উপায় কী?
হার না মানা মানসিকতার মতো ক্লিশে হয়ে ওঠা কোনো কথার কথা নয়। এই এমবাপ্পে সত্যিকার অর্থেই যোদ্ধা। ম্যাচের মধ্যেই সমর্থকদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন গোড়ালিতে আঘাত পেয়ে বসে পড়ে। পরক্ষণে মাঠও ছেড়ে যান। সামনে সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচ। সমর্থকদের কপালে স্বাভাবিকভাবে চিন্তার ভাঁজ। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে তাদের আশ্বস্ত করলেন এভাবে, ‘আমি একদম ঠিক আছি।’ গোলের ঘোড়া ছোটানো এমবাপ্পেকে নিয়ে নতুন করে কী-ই বা বলার আছে? তবে এবার তাঁর কথার দৃঢ়তাও নজর কাড়ার মতো। এই এমবাপ্পেকে কি একটু নতুন করে চিনছেন? এখন তিনি অনেক বেশি পরিণত। অনেক বেশি সংকল্পবদ্ধ। এই এমবাপ্পেকে আরেকটু ভালো করে চিনিয়ে দেওয়া যাক। বেশি পেছনে ফিরে যেতে হবে না। শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের ‘ফ্ল্যাশব্যাকের’ পরতে পরতে লেখা লক্ষ্যে অটল চরিত্রের এই এমবাপ্পে।
স্বাভাবিকভাবে সেদিন অতিরক্ষণাত্মক খেলাই বেছে নিয়েছিল প্যারাগুয়ে। এমবাপ্পের জন্যও ছিল লাতিন আমেরিকার দলটির বিশেষ পরিকল্পনা। ম্যাচজুড়ে খুব একটা খেলার জায়গা দেওয়া হয়নি তাঁকে। কঠিন ট্যাকলের শিকার হয়েছেন। ক্রমাগত উসকানিও ছিল। তবু থামানো যায়নি এমবাপ্পেকে। পেনাল্টি থেকে তাঁর একমাত্র গোলেই ফ্রান্স জায়গা করে নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের কথাগুলো শুনলেই বোঝা যাবে, তাঁর মানসিকতায় শুধু গোল করাই এখন শেষ কথা নয়, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি কেমন হতে চলেছে। যদি কঠিন পথ বেছে নিতে হয়, আমরা তা করতে পারি। আমরা কুিসত ফুটবলও খেলতে পারি। ওরা ভেবেছিল আমরা কেতাদুরস্ত হয়ে মাঠে নামব। কিন্তু আমরাও আমাদের করণীয় জানতাম। এমনকি ওই ধরনের (কুিসত) ফুটবলেও আমরা ওদের চেয়ে ভালো ছিলাম।’ এই মানসিকতাই তাঁকে সমসাময়িকদের চেয়ে কয়েক সিঁড়ি এগিয়ে রেখেছে। সেটার প্রমাণ এই বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচে দিয়েছেন এমবাপ্পে।
মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে গেছেন, যেখানে একই চেয়ারে তাঁর সঙ্গী লিওনেল মেসি। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে দুজনের গোল আটটি করে। আট গোলের সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্টে এমবাপ্পের সরাসরি গোলে অবদান দশ ছাড়িয়েছে। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাফল্যের এই ঘোড়া ছুটিয়েছিলেন এমবাপ্পে। আট গোলের সঙ্গে ছিল দুটি অ্যাসিস্ট। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে বিশ্বকাপের দুটি আসরে ১০টি বা এর চেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড নেই আর কারো। আর দুটি গোলে সরাসরি অবদান রাখতে পারলে এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলবেন জার্ড মুলারকেও। ১৯৭০ বিশ্বকাপে এই জার্মান কিংবদন্তি এক টুর্নামেন্টেই সর্বোচ্চ ১৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছিলেন।
এখানেই শেষ নয়। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার লড়াইয়েও মেসিকে প্রতিনিয়ত তাড়া করছেন এমবাপ্পে। মেসির চেয়ে একটি কম ২০ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্রান্স তারকা। তবে এই মুহূর্তে তাঁর ভাবনাজুড়ে শুধু বিশ্বকাপের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ, ‘আমাদের এখনো অনেক পথ বাকি। সামনে যা আসছে, তা আরো কঠিন হবে। তবে আমরা যেকোনো কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’ এমবাপ্পের প্রতিটি কথায় যেন অবিচলতা।