সিনেমা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন বাশার। ২০০০ সালে দেশে ফিরে কাজ শুরু করেন ভিডিও এডিটর হিসেবে। সেই থেকে টিভি নাটক, বিজ্ঞাপনে টানা কাজ করে চলেছেন। মধ্যখানে অমিতাভ রেজা ও নূরুল আলম আতিকের সঙ্গেও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন 'ইজ ইকুয়াল টু' ও 'মনে মনে' নাটকে। কিন্তু সেসবে মন ভরছিল না। বাশার মনে লুকিয়ে রেখেছেন সিনেমা বানানোর স্বপ্ন। এর মধ্যেই গত বছর যুক্ত হন বিবিসিরই আরেকটি টিভি সিরিজ 'বিশ্বাস'-এর সঙ্গে। সেটা শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় 'উজান গাঙের নাইয়া'র প্রস্তুতি। বাল্যবিবাহ আর গর্ভকালীন বিভিন্ন পরিস্থিতি উঠে এসেছে নাটকের গল্পে। নদীর পারের একটি গ্রামের পটভূমিতে তৈরি এই নাটকে বিভিন্ন চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ পরিবারগুলোর গল্প। কিন্তু সিনেমা না বানিয়ে আবারও কেন টিভিতে? 'ছবি তৈরির জন্য আরো কিছুটা সময় দরকার। আর বিবিসির কাজগুলো অনেকটা সিনেমার মতো করেই তৈরি হয়। নিজের অভিজ্ঞতা আরেকটু সমৃদ্ধ করতেই এখানে যুক্ত হওয়া', বললেন বাশার। তো কেমন হলো অভিজ্ঞতা? 'দারুণ। মানিকগঞ্জের নবগ্রাম ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে টানা তিন মাস শুটিং করেছি। আমরা শট ডিভিশন করে ছবি এঁকে প্রতিটি দৃশ্য শুট করেছি। টিভি নাটকে যা প্রায় হয় না বললেই চলে', বললেন নির্মাতা। মে মাসে শুরু হওয়া সিরিজটি এখন শেষের দিকে। সিরিজটি বিটিভিতে প্রচার হচ্ছে প্রতি রবিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে। ১৬ পর্বের এই ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, ফজলুর রহমান বাবু, ওয়াহিদা মল্লিক জলি, চঞ্চল চৌধুরী, দীপা খন্দকার, স্পর্শিয়া, কাজী নওশাবাসহ আরো অনেকে। এত তারকা নিয়ে কাজ করাও বাশারের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। 'উজান গাঙের নাইয়া' এবারের সিজন শেষ হওয়ার পর শুরু হবে পরের সিজনের কাজ। একই বিষয় নিয়ে নতুন পর্বগুলোতে দেখানো হবে উপকূলের মানুষের জীবনযাপন। শুটিং হওয়ার কথা কক্সবাজারে। নাটকের কাজের মধ্যেই বাশার নিজের প্রথম সিনেমার কাজও মোটামুটি গুছিয়ে ফেলেছেন। ইচ্ছা আছে সামনের বছরই আটঘাট বেঁধে নেমে পড়ার।