kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

ময়মনসিংহের বিপিন পার্ক

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিময় স্থান, জানে না নতুন প্রজন্ম

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিময় স্থান, জানে না নতুন প্রজন্ম

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের জাতীয়ভাবে আলোচিত স্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলা। আর ময়মনসিংহ নগরে সেই আন্দোলনের আলোচিত এবং স্মৃতিময় স্থান হলো বিপিন পার্ক। তবে নতুন প্রজন্মের কাছে এর ঐতিহাসিক ভূমিকা অজানা। ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে জুবিলীঘাট এলাকায় পার্কটির অবস্থান। একসময় পার্কটি অবহেলায় পড়ে থাকলেও এখন পেয়েছে নান্দনিক রূপ। এর ঐতিহাসিক ভূমিকাটি তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।

ভাষা আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বইপত্র সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশ) যে কয়টি জেলা শহরে ভাষা আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল ময়মনসিংহ তার অন্যতম। এখানে মুসলিম লীগের প্রবল দাপটের মধ্যেও ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া। ভাষা আন্দোলনে তিনি কারাবরণও করেন। এ ছাড়া সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শামছুল হক, অধ্যাপক সৈয়দ বদরুদ্দিন হোসাইন, মোস্তফা এম এম এ মতিন, কমরেড আলতাব আলী, আহমেদ সালেক প্রমুখ ময়মনসিংহের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন।

ইতিহাস পাঠে দেখা যায়, ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বরে মাসেই ময়মনসিংহ শহরের বিপিন পার্কে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে এক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া। এরপর ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের একাধিক সভা এখানে অনুষ্ঠিত হয়। বৃদ্ধিজীবী অধ্যাপক যতীন সরকার এ ব্যাপারে বলেন, ১৯৫২ সালে তিনি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া আশুজিয়া স্কুলে পড়তেন। এ সময়ে তাঁরা স্কুলছাত্ররা মিলে পার্শ্ববর্তী বসুর বাজার এলাকায় মিছিল করেন। এর এক-দুই দিন পর তাঁদের কাছে একটি প্রচারপত্র (লিফলেট) পৌঁছে। এতে ভাষা আন্দোলন নিয়ে ময়মনসিংহের বিপিন পার্কের সভার বিবরণ ছিল। অধ্যাপক যতীন আরো বলেন, তিনি ১৯৫৭ সালে ময়মনসিংহে আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হন। এরপর বিপিন পার্কে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি সভায় তিনি যোগ দেন।

স্থানীয় একাধিক রাজনীতিবিদ জানান, ভাষা আন্দোলন ছাড়াও পরে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা-সমাবেশ বিপিন পার্কে অনুষ্ঠিত হতো। দেশের স্বাধীনতার পর পার্কটিতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ কমে আসতে থাকে। গত ২০-২৫ বছরে সেখানে বলতে গেলে কোনো সমাবেশই হয় না। এখন সভা-সমাবেশ হয় টাউন হল মাঠ অথবা সার্কিট হাউস মাঠে। দীর্ঘ সময় পার্কটি অনাদরে, অবহেলায় পড়ে ছিল। এখানে লোকজনও তেমন আসত না। তবে বেশ কয়েক বছর আগে পার্কটি দৃষ্টিনন্দন রূপ পেয়েছে। বর্তমান সিটি করপোরেশন মেয়র ইকরামুল হক টিটু সাবেক পৌরসভায় মেয়র থাকাকালেই এর উন্নয়ন করেন। বর্তমানে এখানে অসংখ্য মানুষ আসে সময় কাটানো কিংবা বিনোদনের প্রত্যাশায়। কিন্তু বিনোদনের সুবিধার আড়ালে হারিয়ে গেছে এর গৌরবময় অতীত, পরিচয়।

নাম শুনেই বুঝা যায় কোনো বিশিষ্টজনের নামে পার্কটির নাম। কে ছিলেন সেই বিপিন? তাঁর পুরো নাম বিপিন বিহারী সেন। তিনি ময়মনসিংহ শহরের একজন কৃতী পুরুষ। একাধিকবার পৌরসভার কমিশনার এবং চেয়ারম্যানও ছিলেন। বিপিন বিহারী ছিলেন একাধারে চিকিৎসক এবং স্বদেশি আন্দোলনের বিপ্লবী। দরিদ্র লোকদের বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিয়ে তিনি অনেক মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, বিপিন পার্কটিকে তাঁরা দুর্দশার জায়গা থেকে তুলে এনেছেন। এর সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে। এখন এখানে এর ঐতিহাসিক ভূমিকা, বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনে এই স্থানের ভূমিকা সাইনবোর্ডে বড় করে লিপিবদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। দ্রুতই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা