• ই-পেপার

বিকাশ-বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগ ৪০০ স্কুলে বই পড়া কর্মসূচি

আবহাওয়া পূ র্বা ভা স

আবহাওয়া পূ র্বা ভা স

গতকালের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ : ঢাকা ২৯.৬ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রাম ২৮.৮ডিগ্রি সে.। রাজশাহী ৩১.৮ডিগ্রি সে.। রংপুর ৩২.২ডিগ্রি সে.। খুলনা ৩১.৫ডিগ্রি সে.। বরিশাল ৩১.৬ডিগ্রি সে.। ময়মনসিংহ ২৯.৩ডিগ্রি সে.। সিলেট ৩১.৫ডিগ্রি সে.

গতকালের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন : ঢাকা ২৬.০ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রাম ২৬.৬ডিগ্রি সে.। রাজশাহী ২৬.০ডিগ্রি সে.। রংপুর ২৫.৮ডিগ্রি সে.। খুলনা ২৬.২ডিগ্রি সে.। বরিশাল ২৬.৪ডিগ্রি সে.। ময়মনসিংহ ২৭.৫ডিগ্রি সে.। সিলেট ২৪.৫ডিগ্রি সে.

 

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতিভারি বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সূত্র : আবহাওয়া অধিদপ্তর

 

শুভ কাজে সবার পাশে

বান্দরবানে ত্রাণ বিতরণ

কেশবপুরে সাহিত্য আসর ভালুকায় চারা উপহার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বান্দরবানে ত্রাণ বিতরণ
বান্দরবানে গতকাল বন্যাকবলিতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে গতকাল রবিবার বান্দরবানে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেশবপুরে সাহিত্য আসর এবং ভালুকায় চারা উপহার দেওয়া হয়। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের খবরে

বান্দরবানে ত্রাণ বিতরণবান্দরবান : সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিক্রিছড়ামুখ লেমুঝিরি চরুইপাড়ার বন্যাকবলিত ৬০টি পরিবারের মধ্যে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ পেয়ে এক উপকারভোগী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তিন দিন ধরে আমরা পানিবন্দি ছিলাম। আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ ছিল না। চারদিকে শুধু পানি আর পানি। খাওয়ার জন্য নিরাপদ পানিও ছিল না। এমন কঠিন সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সহযোগিতা আমরা কখনো ভুলব না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মানবিক সংকটে কোনো মানুষ যেন অসহায় না থাকে, সে লক্ষ্যেই বসুন্ধরা শুভসংঘ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

কেশবপুর (যশোর) : উপজেলা শাখার আয়োজনে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, সুসাহিত্যিক মনোজ বসু, চলচ্চিত্র অভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্য ও সাহিত্যিক মানকুমারী বসুর জীবন ও সৃষ্টির ওপর সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার কেশবপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সাহিত্য আসরে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর শাখার সহসভাপতি প্রবীর সরকার।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত নিয়ে আলোচনা করেন মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ। মনোজ বসুকে নিয়ে আলোচনা করেন আবু শরাফ সাদেক কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক  কানাইলাল ভট্টাচার্য। মানকুমারী বসুকে নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ সাহিত্য সেবা সংসদের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসাইন। ধীরাজ ভট্টাচার্যকে নিয়ে আলোচনা করেন লেখক, প্রাবন্ধিক ও জামিরা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার।

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের ভালুকায় দুই নবজাতকের পরিবারকে গত শনিবার এসব চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা শাখার উপদেষ্টা ও অ্যাপোলো ইনস্টিটিউট অব কম্পিউটারের অধ্যক্ষ এ আর এম শামছুর রহমান লিটন, উপদেষ্টা ও শিশু বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুশফিকুর রহমান, উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ভালুকা প্রতিনিধি মোখলেছুর রহমান মনির প্রমুখ।

রাজধানী

অব্যবস্থাপনার শহরে বৃষ্টির আরেক নাম দুর্ভোগ

জুবায়ের আহমেদ
অব্যবস্থাপনার শহরে বৃষ্টির আরেক নাম দুর্ভোগ

প্রতিবছরই বর্ষা আসে, বর্ষা যায়। কিন্তু যায় না রাজধানী ঢাকাবাসীর দুর্ভোগ। অল্প বৃষ্টিতেও নগরের অব্যবস্থাপনার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সড়কে জলাবদ্ধতা, গণপরিবহনের সংকট, আশ্রয় নেওয়ার মতো যাত্রীছাউনির অভাব, ভাঙাচোরা ও কাদাময় ফুটপাতসব মিলিয়ে বর্ষা যেন রাজধানীবাসীর জন্য প্রতিবছরের পুনরাবৃত্ত এক দুর্ভোগের নাম।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ জুলাই থেকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে রাজধানীতে দফায় দফায় বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল রবিবারও ছিল একই চিত্র। জীবিকার তাগিদে বৃষ্টির মধ্যেই নগরবাসীকে ঘর থেকে বের হতে হয়েছে। তবে পথে নেমেই তাদের পড়তে হয়েছে একের পর এক ভোগান্তিতে। সড়কের জমা পানি মাড়িয়ে বাসে ওঠা-নামা, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা আর গাদাগাদি করে যাতায়াত যেন নগরজীবনের অবধারিত বাস্তবতা।

গতকাল সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, কারওয়ান বাজার, প্রগতি সরণিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কর্মজীবী মানুষ ছাতা হাতে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আশপাশের দোকানের ছাউনির নিচে। কারণ অনেক স্থানে যাত্রীছাউনি নেই। যেখানে আছে, সেগুলোর অনেকটাই হকার, চা ও সিগারেটের দোকানের দখলে। ফলে বৃষ্টির সময় যাত্রীদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ থাকে না। কোনো মতে দাঁড়ালেও বৃষ্টির পানি থেকে রেহাই মেলে না।

বৃষ্টি শুরু হলেই গণপরিবহন সংকট আরো প্রকট হয়ে ওঠে। বাস সড়কে কম নামে। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বাস এলেও সড়কের মাঝখানে কিংবা জমে থাকা পানির মধ্যেই থামে। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাদাপানি মাড়িয়ে বাসে ওঠা-নামা করতে হয়। বাসের ভেতরেও নেই স্বস্তি। অনেক বাসের জানালা ভাঙা থাকায় বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে যাত্রীদের ভিজিয়ে দেয়। ভেজা আসন, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্নতার মধ্যেই দীর্ঘ সময় যাতায়াত করতে হয়। কোথাও কোথাও তীব্র যানজট সেই দুর্ভোগকে আরো বাড়িয়ে তোলে।

বৃষ্টির দিনে ফুটপাত দিয়ে হাঁটাও আরেক যুদ্ধ। রাজধানীর অনেক ফুটপাতই ভাঙাচোরা। কোথাও পানি জমে থাকে, কোথাও দোকানের মালপত্র, হকারের স্টল কিংবা নির্মাণসামগ্রী পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে রেখেছে। অনেককেই সড়কে নেমে হাঁটতে হয়। অনেক সময় চলন্ত যানবাহনের নোংরা পানি গায়ে লাগে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। শিশুদের স্কুলে নেওয়া কিংবা কর্মজীবী নারীদের অফিসে পৌঁছাতে বারবার কাদাপানি মাড়াতে হয়। মিরপুর-১১ নম্বরে বাসের জন্য অপেক্ষারত যাত্রী নুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টি দুর্ভোগ সৃষ্টি করে না, দুর্ভোগের কারণ এই শহরের অব্যবস্থাপনা। বাস নেই, দাঁড়ানোর জায়গা নেই, হাঁটার মতো ফুটপাত নেই। ড্রেনগুলো ঠিকমতো কাজ করে না। এসব সমস্যার সমাধান না হলে প্রতিবছরই বৃষ্টি হবে, আর মানুষ একই ভোগান্তিতে পড়বে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, যেহেতু বৃষ্টিতে বের হতে হয়, সেহেতু আমার পরামর্শ থাকবে যতটা সম্ভব দ্রুত শরীর মুছে ফেলা। চলাচলে রেইনকোট ব্যবহার সবচেয়ে কার্যকর। অন্যথায় শ্বাসকষ্ট, এজমাসহ নানা সমস্যায় ভুগতে হতে পারে।

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বৃষ্টির পানিকে আমরা সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারিনি; বরং সেটিকে ভোগান্তির কারণ বানিয়েছি। শুধু কৃত্রিম ড্রেন নির্মাণ করে এ সমস্যার সমাধান হবে না। নগরকে এমনভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত মাটিতে শোষিত হয়, খাল-জলাশয়ে পৌঁছাতে পারে। বর্ষা মৌসুমে অপ্রয়োজনীয় সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখা এবং কার্যকর, আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

 

ভ্রূণ নষ্ট ও নির্যাতনের মামলায় যুবক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভ্রূণ নষ্ট ও নির্যাতনের মামলায় যুবক কারাগারে
শাহরীম আহসান

ভ্রূণ নষ্ট, যৌতুক দাবি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় ১ নম্বর আসামি শাহরীম আহসানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। গতকাল রবিবার শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। তবে একই মামলার দ্বিতীয় আসামি ও শাহরীমের মা জেসমিন হকের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর আগে গত বুধবার রাজধানীর সবুজবাগ থেকে স্থানীয় থানার পুলিশের সহযোগিতায় তাঁদের গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানার পুলিশ। সে সময় তাঁদের যেন গ্রেপ্তার না করা হয়, সে জন্য ব্যাপক প্রভাব খাটানো হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া গেছে জেসমিন হকের বিরুদ্ধে।

এদিকে মামলাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় জেসমিন হক পুলিশের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযানের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন।

এর আগে রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় ভুক্তভোগী সুমাইয়া আহমেদ বৃষ্টি অভিযোগ করেন, কর্মক্ষেত্রে পরিচয়ের পর প্রেম এবং পারিবারিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে শাহরীম আহসানের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন শুরু হলেও বিয়ের পর তাঁকে স্বামীর সংসারে গ্রহণ করা হয়নি। পরে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে গর্ভের ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বৃষ্টির অভিযোগ, ভ্রূণ নষ্ট করার পরও নির্যাতন থামেনি। বরং সামাজিকভাবে সংসারে তুলে নেওয়ার দাবি জানালে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মাত্রা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। মামলা করার পর থেকে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। বাদী সুমাইয়া আহমেদ বৃষ্টি কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার সন্তানের মৃত্যুর ন্যায়বিচার চাই। যারা আমার সঙ্গে এমন নিষ্ঠুর আচরণ করেছে, তাদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক।

বৃষ্টি অভিযোগ করে আরো বলেন, মামলায় মেডিক্যালসংক্রান্ত সব তথ্য থানার পুলিশ অদৃশ্য কোনো কারণে সংযুক্ত করেননি। আশা করি, পরবর্তী তদন্তকাজ নির্বিঘ্নে করতে এসব তথ্য যথার্থ ব্যবহার করে ঘটনার সত্যতা তুলে আনবেন। এদিকে ভাটারা থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে দ্রুতই মামলাটি তদন্তের জন্য ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে স্থানান্তর করা হবে।