প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনা প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি ড. আলী আফজাল।
গতকাল বাজেট-পরবর্তী প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, বাজেট এখনো বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত যে বিষয়গুলো নজরে এসেছে, এতে আবাসন খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে যদি নির্মাণ ব্যয় বাড়ে, তবে ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে পারে। ড. আলী আফজাল বলেন, বিশেষ করে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব ফ্ল্যাটের বিক্রয়মূল্যের ওপর পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদেরই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। রিহ্যাব সভাপতি জানান, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। তাঁর মতে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে প্রকৃত লেনদেন বাড়বে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এবারের বাজেটে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আবাসন খাতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। এই খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি লিংকেজ শিল্প প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত। ফলে আবাসন খাতের গতি কমে গেলে শুধু ডেভেলপার বা ফ্ল্যাট ক্রেতারাই নয়, রড, সিমেন্ট, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাব, পরিবহনসহ অসংখ্য খাত এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ড. আলী আফজাল মনে করেন, দীর্ঘ মেয়াদে আবাসন খাতকে শক্তিশালী করতে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, গৃহায়ণবান্ধব করনীতি প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।





