বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ যে অহিংসার কথা বলে গেছেন, আজকে বাংলাদেশে সেই শান্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, 'আলোচনায় যাওয়ার আগে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকদের শুভেচ্ছা জানাতে চাই। বুদ্ধের বাণী ছিল শান্তির বাণী।' তিনি বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন র্যাব বিলুপ্ত করার জন্য। এ ছাড়া র্যাব নিয়ে অনেক অভিযোগ আছে। আমি মনে করি, র্যাবের মতো একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন আছে। দু-একজনের অপকর্মের জন্য পুরো বাহিনীকে বাতিল করা ঠিক হবে না। প্রয়োজনে নাম পরিবর্তন করা যেতে পারে বা তার চেয়েও বেশি অন্য কোনো সংস্কার করা যেতে পারে।' তিনি বলেন, 'রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, তবে তো বলার কিছু নেই। যে উদ্দেশ্য নিয়ে র্যাব গঠন করা হয়েছিল; তখনকার দিনে তা সময়োপযোগী ছিল। এর প্রমাণ র্যাব গঠনের পর সবাই স্বাগত জানিয়েছিল। কিন্তু তারা যখন একই ধরনের গল্প বানিয়ে বিনা বিচারে খুন করতে লাগল, তখনই তারা বিতর্কিত হতে শুরু করে। তাদের কাজ নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।' মঙ্গলবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের সংবাদ পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো প্রাণ ফ্রুটো নিউজ অ্যান্ড ভিউজ অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে ড. মাহবুব উল্লাহ এ কথা বলেন। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন। আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক জানতে চান, গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি র্যাব গঠন করেছিলেন, তাঁর বক্তব্য হলো, র্যাব এখন রক্তচোষা বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। এখনকার বাস্তবতায় র্যাবের প্রয়োজন নেই। তিনি র্যাবের বিলুপ্তি চান। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন? জবাবে অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, 'যে র্যাবকে এখন বিলুপ্ত করার কথা বলা হচ্ছে, তারা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিল। তাদের বিলুপ্ত করার কথা আসছে। আমি বলব, র্যাবের মতো একটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ সময় বিলুপ্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়। র্যাবে সংস্কার এনে র্যাবকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে হবে। এ বাহিনী যাতে মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।' আলোচনার এ পর্যায়ে সঞ্চালক জানতে চান, অর্থের বিনিময়ে যারা হত্যা করতে পারে, এমন অভিযুক্ত লোকদের আদালত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরও আমরা দেখছি, তারা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। বিশেষ করে, আদালত বলেছেন, তাদের যদি কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানো যায়, তবে তাদের ৫৪ ধারায় হলেও গ্রেপ্তার করা যায়। কিন্তু গত ৪৮ ঘণ্টায়ও তারা গ্রেপ্তার হয়নি। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন? জবাবে অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, 'মনে হয় সরকার ঠিক পথেই আছে। যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত র্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন; প্রধানমন্ত্রী ওই ঘটনার পরপরই তাদের সেনা ও নৌবাহিনী থেকে অবসরে পাঠিয়েছেন। এখন আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নেও সরকার কাজ করছে। আশা করি, তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তার হবে বা আদালতে আত্মসমর্পণ করবে।' আলোচনার এ পর্যায়ে টেলিফোনে অংশ নিয়ে একজন দর্শক জানতে চান, আজকে শুনলাম, যোগাযোগমন্ত্রী বলেছেন, র্যাবের বিষয়ে শিগগিরই আপনারা অগ্রগতি দেখতে পারবেন। কিন্তু আমাদের জিজ্ঞাসা হলো, যেখানে র্যাবের বিষয়ে কথা বলার জন্য একজন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন, সেখানে আগ বাড়িয়ে যোগাযোগমন্ত্রীকে কেন র্যাবের বিষয়ে কথা বলতে হবে? জবাবে ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, 'এটাই তো আমাদের সমস্যা, আমরা যা না করতে পারব, তা নিয়েও কথা বলি। আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের একটা সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।' তিনি বলেন, 'যে যে ব্যাপারে নিযুক্ত নয়, তার সে ব্যাপারে কথা বলা ঠিক না। কিন্তু আমরা তার পরও বলে যাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'নারায়ণগঞ্জের সাবেক তিন র্যাব কর্মকর্তার বিষয়ে আদালতের আদেশ সেভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। হলে হয়তো র্যাবের মধ্যে একটা সতর্ক বাণী যেত যে আর যদি কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়ে বেআইনি কাজ করে, তবে তাকেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।' তিনি বলেন, 'র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে তো বিএনপি বলতেই পারে। কারণ বিএনপির অভিযোগ, র্যাবের হাতেই তাদের অনেক নেতা-কর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। তবে র্যাব বিলুপ্ত না হয়ে সংস্কার হতে পারে।'