সাতক্ষীরায় ইছামতী নদীর পারে প্রকাশ্যে চলছে বেআইনি কর্মকাণ্ড। বছরের পর বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ কেটে কিংবা ফুটো করে অবৈধভাবে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি ওঠানোর ব্যবস্থা করে থাকে। কালীগঞ্জের শুইলপুর থেকে দেবহাটার ভাতশালাসহ ইছামতী নদীর বিভিন্ন অংশে বর্তমানে এমন অসংখ্য অবৈধ পাইপের অস্তিত্ব দেখা যায়। কোথাও বাঁধ কেটে, কোথাও আবার বাঁধের নিচ দিয়ে পাইপ বসিয়ে নদীর পানি মাছের ঘেরে বা চিংড়ি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবছর সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলে। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রেই আলোচনা হয়, এর পেছনে অবৈধ কর্মকাণ্ড দায়ী। আরেকটি ভয়াবহ প্রভাব পড়ে কৃষিতে। লবণাক্ত নদীর পানি যখন বাঁধ ভেঙে ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ে, তখন শুধু একটি মৌসুম নয়, সেই জমির উৎপাদনক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং সর্বোপরি স্থানীয় জনগণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তরিকুল ইসলাম
সাংবাদিক ও উন্নয়নকর্মী




