• ই-পেপার

খাতুনগঞ্জে বেচাকেনা কমেছে ৮৮%, বন্দরের ক্ষতি ১০০ কোটি ছাড়াল

মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে বিল পাস

সাইবার স্পেসেও মাদক কারবারের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রেখে বিল পাস

মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনে নতুন আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ শীর্ষক বিল পাস হয়েছে।

পাস হওয়া বিলে সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কেনাবেচা, সরবরাহ ও প্রচারের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গতকাল সোমবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে সংসদে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের ওপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। তবে তাঁদের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

পাস হওয়া বিলের বিধান অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকো-অ্যাক্টিভ সাবস্টেন্সের অবৈধ ক্রয়, বিক্রয়, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, মধ্যস্থতা ও যোগাযোগ করেন বা করার চেষ্টা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি (যেমন বিটকয়েন) ইত্যাদি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করাও অপরাধের শামিল হবে।

নতুন আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, এই সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধীর কাছ থেকে সরাসরি মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না; ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ ও লেনদেনের ওপর ভিত্তি করেই বিচার করা যাবে। এই অপরাধের সাজা হিসেবে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং অনূর্ধ্ব ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, এই ধরনের অপরাধ যদি আন্তর্জাতিকভাবে বা কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের মাধ্যমে সংঘটিত অথবা পুনঃসংঘটি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অনূর্ধ্ব ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ ছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা, ই-ওয়ালেট, ভার্চুয়াল সম্পদ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ইত্যাদি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের বা ক্ষেত্রবিশেষে, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের আদেশক্রমে ব্লক, অপসারণ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে ন্যস্ত করা যাবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই অপরাধের বিস্তার রোধে নতুন বিধানের পাশাপাশি বিলে এখতিয়ারসম্পন্ন সাধারণ আদালতে বিচারের বিদ্যমান বিধান অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের মাদকসংক্রান্ত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধানটি পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযান আরো জোরদার করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুকূলে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রাধিকার এবং চোরাচালান ও মাদক চিহ্নিত করতে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের আইনি বিধানও বিলে যুক্ত করা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক কেনাবেচায় খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের জড়িত থাকার অভিযোগ এসেছে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। গত ২৮ জুন সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

 

সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামছে

বিশেষ প্রতিনিধি
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামছে

ব্যয় সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা অর্ধেকে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ অনুযায়ী বর্তমানে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া ভাতা কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হবে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে
জানা গেছে।

এর আগে ব্যয় সংকোচন নীতির আওতায় সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য দেওয়া ৩০ লাখ টাকার সুদমুক্ত ঋণ চলতি বছরের এপ্রিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত প্রাধিকারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের সুদমুক্ত বিশেষ অগ্রিম এবং গাড়ি সেবা নগদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী উপসচিব থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা সুদমুক্ত ঋণ পেতেন। ঋণটি ১০ বছরে ১২০টি সমান কিস্তিতে পরিশোধের বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ব্যয় ও চালকের বেতন বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হতো।

সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির কারণে নতুন করে এই ঋণ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। এখন রক্ষণাবেক্ষণ ভাতাও কমিয়ে মাসে ২৫ হাজার টাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরে বিচারকদের জন্যও বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের সুদমুক্ত ঋণ এবং গাড়িসেবা নগদায়ন নীতিমালা-২০২৪ প্রণয়ন করা হয়। এই নীতিমালার আওতায় যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও সরকারি কর্মকর্তাদের মতো সুদমুক্ত ঋণের সুবিধা পান। তবে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য।

আজকের খেলা

আজকের খেলা

শাহ আমানতে ২.১৬ কেজি সোনাসহ যাত্রী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
শাহ আমানতে ২.১৬ কেজি সোনাসহ যাত্রী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই কেজি ১৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণ জব্দ করা হয়।

এ সময় মোহাম্মদ শহীদুল আলম চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকার বাসিন্দা। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দুবাই থেকে আসা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছান। ব্যাগেজ নিয়ে কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনরত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) প্রতিনিধিরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর পায়জামার বেল্টের অংশ এবং অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা স্বর্ণালংকার ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, উদ্ধার করা স্বর্ণের চালান বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাপাচার ও স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স, বিমানবন্দর কাস্টমস, সর্বোপরি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সর্বোচ্চ নজরদারি ও চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।