kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

আরববিশ্বে যেভাবে ধর্মবিমুখতা ছড়াচ্ছে

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভি (রহ.)   

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরববিশ্বে যেভাবে ধর্মবিমুখতা ছড়াচ্ছে

আরববিশ্বে চিন্তা, সংস্কৃতি ও ধর্মবিমুখতার সূচনা হয়েছে। মুসলিম উম্মাহর জন্য এটা একটা বড় সংকট। আরবদের সর্বোচ্চ জাতীয় সম্মান, সুদৃঢ় সাহস, শক্তিশালী রাষ্ট্র ও বৃহৎ ঐক্য—এসব কিছু এই সংকট রোধ করতে পারবে না। এই অতুলনীয় ক্ষতির মোকাবেলা করা সত্যিই কঠিন।

বিজ্ঞাপন

পরিণতিতে তারা বারবার অপমানিত হবে এবং নিজেদের উদ্দেশ্যে বারবার ব্যর্থ হবে। তারা স্থায়ী অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার শিকার হবে। বস্তুত তারা আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর বাস্তবায়ন দেখতে পাবে। আল্লাহ বলেন, ‘বলো, আমি কি তোমাদেরকে সংবাদ দেব কাজে বিশেষ ক্ষতিগ্রস্তদের? তারাই তারা, পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়, যদিও তারা মনে করে যে তারা সৎকর্মই করছে। তারাই তারা যারা অস্বীকার করে তাদের প্রতিপালকের  নিদর্শনাবলি ও তাঁর সঙ্গে তাদের সাক্ষাতের বিষয়। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য ওজনের কোনো ব্যবস্থা রাখব না। ’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ১০৩-১০৫)

মিসরের সাহিত্যিকরা (যাদের ভেতর খ্রিস্টান লেখকরা অগ্রগামী) দীর্ঘ সময় থেকে সন্দেহ সৃষ্টি করার কাজে লিপ্ত আছে। তারা নিজেদের রচনা, লেখা, সাহিত্য জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও আলোচনা-সমালোচনা দ্বারা ধর্মীয় বিশ্বাস, ঐতিহাসিকভাবে সর্বসম্মত বিষয়গুলো, ইসলামী ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক নীতি, সাধারণ আচার-ব্যবহার এবং এ ধরনের বিষয়কে সন্দেহযুক্ত ও বিশ্বাসের অযোগ্য প্রমাণ করতে সচেষ্ট। শুধু তাদের বর্ণনারীতি নয়, বরং তারা বিভিন্ন প্রকার উসকানিমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তবে কখনো কখনো এসব কাজ নতুনত্বের আকাঙ্ক্ষা, ইউরোপের অন্ধ অনুকরণ, খ্যাতির মোহ বা তরুণ প্রজন্মের বাহবা পাওয়ার জন্যও করে। আবার কখনো কখনো ব্যাবসায়িক মনোভাব, আর্থিক স্বার্থ ও প্রচারের জন্য করে। এটা নিশ্চিত যে খ্রিস্টান সাহিত্যিক ও গ্রন্থকারদের উদ্দেশ্য সুদূরপ্রসারী। তাদের বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ সৃষ্টি করা ও ইসলামের প্রতি বিশ্বাস শিথিল ও দুর্বল করে দেওয়া। মিসরে প্রচার-প্রকাশের শক্তিশালী ধারা ও বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিদ্যমান থাকায় তাদের কাজ খুবই সহজ হয়েছিল। তার লক্ষ্যপানে এগিয়ে গেছে অতি দ্রুত। এ ছাড়া প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগ খ্রিস্টান বা মারোনি বা ধর্মহীন ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছিল।

অন্যদিকে পুরো আরবজগৎ মিসর থেকে প্রকাশিত প্রতিটি রচনা নির্বিচারে গ্রহণ করতে সব সময় প্রস্তুত থাকত। ফলে মিসরে নতুন নতুন বই, সাহিত্যকর্ম, মুদ্রণ ও প্রকাশনার উদ্দাম প্রবাহের সৃষ্টি হয়। তরুণ প্রজন্ম ছিল এসব নতুন বইয়ের আগ্রহী পাঠক। তাদের মন-মগজে এগুলোর গভীর প্রভাব বিদ্যমান। এই কারণে শুধু মিসর নয়, বরং সমগ্র আরববিশ্বের চিন্তাজগতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ভিত দুর্বল হয়ে গেছে। অথচ এসব ভিত্তির ওপর জ্ঞান ও সভ্যতার সৌধ স্থাপিত হতে পারত। আর তা হতো আকিদা, ব্যক্তিত্ব ও ইতিহাসের গৌরবের বিষয়। এর দ্বারাই জীবনযুদ্ধে মোকাবেলা করার শক্তি ও দৃঢ়তা অর্জন করা যেত এবং দ্বিনের ওপর অটুট থাকার প্রতিজ্ঞা ও আত্মমর্যাদা বোধ অর্জিত হতে পারত। কিন্তু বিপরীতে এখন স্থান করে নিয়েছে সন্দেহ, অস্থিরতা, দুর্ভাবনা, ভীরুতা, দুর্বলতা, অকর্মণ্যতা, স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয়তা ও আরাম-আয়েশ।

সন্দেহ সৃষ্টির এই ষড়যন্ত্র পূর্বপরিকল্পিত ছিল। আর তা সম্ভব হয়েছিল নিম্নমানের সাহিত্যের প্রভাবে, যার ভিত্তি হলো যৌনাচার ও পাপাচার। ফলে আরব জাতি আত্মিক শক্তি থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে, যা ছিল কঠিন সময়ে জাতির সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য শক্তি এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী কর্মক্ষমতা। সন্দেহমুক্ত মনোভাবের কারণে ইতিহাসের প্রতিটি যুগে বহু জাতিকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়েছে। অনেক সভ্যতা ও অনেক পুরনো সংস্কৃতি শুধু এ কারণেই জগৎ থেকে মুছে গেছে। বর্তমানে আরবজগতের এই অবস্থার জন্য বিশেষভাবে দায়ী এসব অনূদিত সাহিত্য, নাটক, গল্প-কাহিনি, উপন্যাস, টেলিভিশন ও রেডিওর প্রচার-প্রসার।

ভাষান্তর : মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

 



সাতদিনের সেরা