kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ধর্মীয় বিষয়ে খামখেয়ালি নয়

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা   

১৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মীয় বিষয়ে খামখেয়ালি নয়

আল্লাহ তাআলা কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের জন্য ইসলামকে চূড়ান্ত দ্বিন হিসেবে মনোনীত করেছেন। তাই দ্বিনের সংরক্ষণ ও বিশুদ্ধতা রক্ষাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর আল্লাহ তাআলা দ্বিনের বিশুদ্ধতা রক্ষায় দুটি বিধান দান করেছেন। এক. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য, দুই. সকল প্রকার বিদআত পরিহার।

বিজ্ঞাপন

অর্থাৎ  আল্লাহর হুকুম ও নির্দেশনাকে ঠিক সেভাবে আমল করা, যেভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় কোরো যেভাবে আমাকে নামাজ আদায় করতে দেখো। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০০৮)

একইভাবে উম্মতের জন্য দ্বিনের নামে বা দ্বিন মনে করে মনগড়া কোনো কাজ করাও নিষিদ্ধ। কেননা মানবীয় জ্ঞানবুদ্ধির একটি নির্ধারিত সীমা আছে। যার মাধ্যমে চূড়ান্ত কল্যাণ ও সত্য জানা সম্ভব নয়। তাই দ্বিনের মানুষকে আল্লাহর ওপর নির্ভর করতে হবে। দ্বিনের ব্যাপারে খামখেয়ালি আচরণ করার ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের হুঁশিয়ারি হলো—‘তাদের পরে এলো একদল অপদার্থ অনুসারী, যারা নামাজ নষ্ট করল ও খেয়াল-খুশির অনুগত হলো। সুতরাং তারা অচিরেই কুকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। ’ (সুরা মারিয়াম, আয়াত : ৫৯)

উল্লিখিত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে দ্বিনের ব্যাপারে যখন কোনো জাতি নিজেদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে, তখন তাদের দ্বিনের ব্যাপারে বহুমুখী সংকট দেখা দেয়, তাতে বিকৃতি ঘটে এবং বিশুদ্ধতা হুমকির মুখে পড়ে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বিনের ব্যাপারে বিদআত তথা ভিত্তিহীন নব-আবিষ্কৃত বিষয়ের অনুসরণ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের অসিয়ত (কারো মৃত্যুর পর অনুসরণ করা হবে এমন নির্দেশনা ও উপদেশ) করছি, তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে। তোমাদের নেতৃবৃন্দের নির্দেশ শুনবে এবং তা মেনে চলবে। এমনকি সেই নেতা হাবশি দাস হলেও। আর তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরেও জীবিত থাকবে তারা শিগগিরই দেখতে পাবে উম্মতের মধ্যে নানা রকমের মতভিন্নতা। এ সময় তোমাদের করণীয় হবে তোমরা আমার সুন্নাহ ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের অনুসৃত পথ শক্ত হাতে ধরে রাখবে এবং মাড়ি দাতের সাহায্যে কামড় দিয়ে রাখবে। সাবধান! নতুন নতুন তরিকা ও পদ্ধতি থেকে দূরে থাকবে। কেননা প্রত্যেক নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিই বিদআত। আর প্রত্যেক বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা। অন্য বর্ণনায় আছে, আর প্রত্যেক গুমরাহির পরিণতিই জাহান্নাম। ’ (সুনানে তিরমিজি : ২/৯২; সুনানে আবি দাউদ : ২/২৭৯)

বিপরীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘হে লোকেরা, আমি তোমাদের কাছে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা এ জিনিসদ্বয়কে যদি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো তাহলে পথভ্রষ্টতা তোমাদের কখনো স্পর্শ করতে সক্ষম হবে না। তা হলো, আল্লাহ তাআলার কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ। (মুসতাদরিকে হাকিম : ১/৯৩)

অন্য হাদিসে মহানবী (সা.) বলেন, ‘সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত কথা। সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ (সা.) নির্দেশিত পথনির্দেশনা। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট জিনিস হলো দ্বিনের মধ্যে সৃষ্ট নতুন জিনিস। কেননা সব নবসৃষ্ট বিষয়ই পথভ্রষ্টতার শামিল। ’ (সহিহ মুসলিম)

লেখক : সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা

 



সাতদিনের সেরা