সব রাজনৈতিক দলকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই। তাদের মধ্য থেকে জনগণ বেছে নেবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

সব রাজনৈতিক দলকে তাদের কর্মকাণ্ড করতে দিতে চাই। তাদের মধ্য থেকে জনগণ বেছে নেবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

বিশ্বকাপ জয়ের চেয়ে বড় কোনো অনুপ্রেরণা ছিল না লিওনেল মেসির। গত বিশ্বকাপে অধরা সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর। এবার একই রকম ক্ষুধা নিয়ে তিনি মাঠে নামতে পারবেন কি না, সেই আলোচনা আছে। তবে শিরোপা ধরে রাখার পাশাপাশি এবার নতুন কিছু রেকর্ডেও চোখ রাখতে পারেন আর্জেন্টাইন তারকা। একটি রেকর্ড তো ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই হয়ে যাচ্ছে তাঁর, যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি—ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড।
তাঁর সঙ্গে সেই রেকর্ডের অংশ হতে যাচ্ছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও মেক্সিকান গোলরক্ষক গিলের্মো ওচোয়াও। তবে রোনালদো যে লড়াইয়ে ততটা নেই, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সেই সুযোগটাও এবার বেশ ভালোভাবেই আছে মেসির সামনে। ২০১৪ থেকে এই রেকর্ড মিরোস্লাভ ক্লোজার দখলে। ব্রাজিলের রোনালদোকে ছাড়িয়ে সেই আসরেই ক্লোজা নিজের বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গিয়েছিলেন। এখনো সেই চূড়াতেই আছেন তিনি। ১৫ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রোনালদো নাজারিও। তিনি ভেঙেছিলেন ১৪ গোল করা জার্ড মুলারের রেকর্ড। সেখানে ১৩ গোল নিয়ে ফরাসি জুস্ত ফতেইনের সঙ্গে এর পরের অবস্থানেই মেসি। ফতেইন ১৯৫৮ সালের এক আসরেই করেছিলেন ১৩ গোল। অর্থাৎ এই বিশ্বকাপে ক্লোজাকে ছুঁতে বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আর্জেন্টাইন তারকাই। আর তিনটি গোল হলেই হয় তাঁর। তবে মেসিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলবেন নিশ্চিত কিলিয়ান এমবাপ্পে। পেলের সমান ১২টি বিশ্বকাপ গোল যে তাঁর নামের পাশেও।
পেলেকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে অ্যাসিস্টের রেকর্ডও হতে পারে মেসির। বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত আটটি অ্যাসিস্ট মেসির। পেলের ১০ অ্যাসিস্ট ছাড়িয়ে যেতে পারেন তিনি এবারই। যদিও এই পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা আর্জেন্টাইন তারকা নিজের করে নিয়েছেন গত আসরেই—২৬টি। এবার সেই সংখ্যা নিশ্চিত আরো বাড়িয়ে নিচ্ছেন তিনি। টুর্নামেন্টের কলেবর বাড়ায়, ফাইনাল পর্যন্ত যেতে এবার আটটি ম্যাচ খেলার সুযোগ আছে। আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ তিনটি ফাইনাল খেলার সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও ঢুকে যাবেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
হালকা চোট নিয়ে তিনি বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিলেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই তাঁর মাঠে থাকা নিয়ে অবশ্য সংশয় নেই। তবে তার আগে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ দুটি তিনি খেলবেন কি না সেটি নিশ্চিত নয়। আঙুলে চোট থাকায় এই দুটি ম্যাচ খেলবেন না গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসও। তবে বিশ্বকাপের শুরু থেকে তাঁকে পাওয়া নিয়ে সংশয় নেই বলে গত পরশু অনুশীলন শেষে এক ভক্তের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন মার্তিনেস নিজেই, ‘আমি সেখানে থাকছি।’ পরশু ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোকে নিয়েও সুখবর পেয়েছেন লিওনেল স্কালোনি। হাঁটুর চোট থেকে পুরো সেরে উঠে অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন টটেনহাম ডিফেন্ডার। বিশ্বকাপের শুরু থেকে পাওয়া যাবে তাঁকে। টিওয়াইসি স্পোর্টস

শেখ রবিউল আলম একই সঙ্গে সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। দেশের যোগাযোগব্যবস্থার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একাই পালন করছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি তাঁর বক্তব্যদান, একই সঙ্গে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনসহ নানা কারণে আলোচনায় এসেছেন। কেউ কেউ সমালোচনার বাণেও তাঁকে বিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন। নানা কথায় কান না দিয়ে নিজে কাজ, কাজ এবং কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন তিনি। সম্প্রতি ঈদযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পেছনে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ব্যবস্থা জোরদারে তাঁর ছিল নিরলস কর্মনিষ্ঠা। এত কিছুর পরও তাঁকে নিয়ে আলোচনা পিছু ছাড়ছে না।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে অর্পিত দায়িত্ব পালন করাই তাঁর লক্ষ্য। নিজের মন্ত্রণালয়গুলোর কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে কঠিন সব বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রকেট গতির সঙ্গে তাঁর গতি বেড়েছে সমানতালে। তিনি কাজ করতে গিয়ে দেখছেন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জও। কিন্তু তিনি এটিকে ‘ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে দেখছেন। ফলে কোনো চ্যালেঞ্জকেই তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানতে নারাজ। তাঁর ভাষায়—‘এভরিথিং ইজ ভেরি গুড’। গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপচারিতায় এভাবেই নিজের মনোভাব তুলে ধরেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান।
সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি চলছে। এর মধ্যে অতিবাহিত হয়েছে ১০০ দিন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘১৮০ দিনের কর্মসূচি নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করছি না আপাতত। সরকার এটা কেন্দ্রীয়ভাবে করবে। আমাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিয়েছি। বিচ্ছিন্নভাবে আমি কিছু বলতে চাইছি না। আমাদের যে টার্গেটগুলো ছিল তা পূরণ করার চেষ্টা করেছি। বেসিক্যালি তিন মাস কোনো টার্গেট না। আমাদের কর্মসূচি ১৮০ দিনের। এর মাত্র অর্ধেক সময় পার হয়েছে। এখনো কাজ চলছে।’ আরো এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যেখান থেকে যতটুকু বলা দরকার সেটা প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলবেন।’ এখন পর্যন্ত কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করতে হয়েছে, চ্যালেঞ্জ কী কী ছিল—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। এভরিথিং ইজ ভেরি গুড। যেকোনো কাজেই চ্যালেঞ্জ থাকে। আর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করাটাই হচ্ছে ব্যবস্থাপনা।’
মন্ত্রিপরিষদে রদবদল অথবা কোনো কোনো মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন আলোচনা আছে, এ প্রসঙ্গে এই আলোচিত মন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকের কাজ আর সাধারণ মানুষের কাজ কি এক হয়? সাংবাদিক চোখ এবং কান দিয়ে সঠিকটা জানবেন। কিছুটা জানার পর ক্ল্যারিফিকেশন জরুরি। কিন্তু একটা কথা বাজারে শুনলাম পরে এটা জানতে চাইলাম, এর কী উত্তর দেব? এর উত্তর দেওয়ার রুচিও থাকবে না। এর ভিত্তি বা কারণ থাকতে হবে, তাই না?’

নেপালের কাঠমাণ্ডু থেকে ভারতের গোয়া। আরো একটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আরো একটি ফাইনালে পা দেওয়া বাংলাদেশের মেয়েদের। হ্যাটট্রিক শিরোপা মিশন থেকে আর এক ধাপ দূরে পিটার বাটলারের দল। পণ্ডিত জওয়াহেরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে গতকাল নেপালের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। শুধু পিছিয়ে পড়াই নয়, ছন্নছাড়া ফুটবলে ভিন্ন কিছুরও ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু এই মেয়েরা যে হাল ছাড়েন না তারই প্রমাণ রাখলেন আরো একবার। ঋতুপর্ণা চাকমার অবিশ্বাস্য গোলের পর শেষ দিকে আত্মঘাতী গোলে বাংলাদেশের জয় ২-১ ব্যবধানে।
সাফের গত দুই ফাইনালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালের সেই ২-১ গোলের স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি হয়ে গেল গোয়ার সেমিফাইনালে। এদিন তিন পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। ভারত ম্যাচে খেলা মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে খেলান আফঈদা খন্দকার, উমেহলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতিকে। আগের দিন মা হারানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজমিকেও রাখেন বেঞ্চে। শুরু থেকেই অগোছালো ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। রক্ষণ ছিল না জমাট। গতবারের রানার্সআপ নেপাল তাই আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে। ২২ মিনিটে এগিয়েও যায় তারা। কর্নারে উড়ে আসা বল মিলি আক্তার দুর্বল ফিস্টে ক্লিয়ার করতে পারেননি পুরোপুরি। বক্সে জটলার ভেতরে বল পেয়ে গীতা রানী চিপ শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
খেলায় ধার ফেরাতে বাটলার দুটি পরিবর্তন আনেন ৩৮ মিনিটে। উমহেলা ও প্রীতিকে তুলে শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে নামান। এরপর বাংলাদেশের খেলায় গতি ফেরে। ৪৫ মিনিটে ওই দৃষ্টিনন্দন গোলে দলকে সমতার স্বস্তি এনে দেন ঋতুপর্ণা চাকমা। ডান দিক থেকে এই ফরোয়ার্ডের কর্নারে বল বাতাসে ভেসে লাফিয়ে ওঠা গোলকিপার আঞ্জিলা সুব্বাকে ফাঁকি দিয়ে সরাসরি দূরের পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
মোমিতা খাতুনের জায়গায় মনিকাকে নামিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুতেই পোস্টের বাধায় বেঁচে যায় দল। রেখা পাডৌলের শট পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা মিলিকে ফাঁকি দিলেও পোস্টে লেগে ফেরে।
এরপর সময় যত বাড়ে বাংলাদেশ নিজেদের গুছিয়ে নিতে থাকে। নেপালের ওপর চাপও বাড়াতে থাকে। তাতে মনে হচ্ছিল এই বুঝি গোল পেয়ে যাবে বাংলাদেশ। সেই মাহেন্দ্রক্ষণও চলে আসে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে শামসুন্নাহার জুনিয়র বক্সে ঢুকে পড়েন দারুণ ক্ষিপ্রতায়। ঠাণ্ডা মাথায় তিনি বল বাড়ান গোলমুখে। সেখান থেকে বক্সে জটলার মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রীতি রায়ের পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় জালে। তাতে জয়ের সঙ্গে ফাইনালও নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের। আগামী ৬ মে ফাইনাল। প্রতিপক্ষ ভারত ও ভুটানের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনাল জয়ী দল।