• ই-পেপার

উত্তপ্ত মিয়ানমার

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে আবারও গুলির শব্দ

  • ► চাপে পড়ে রোহিঙ্গাদের দলে ভেড়াচ্ছে জান্তা, নাগরিকত্বের প্রলোভন
  • ► পুলিশ স্টেশনের দখল নিয়েছে আরাকান আর্মি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ

মাহমুদুল হাসান
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করার উদ্যোগ

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দুই মাস পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় দলের হাইকমান্ড। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূলে সংকট তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসবের লাগাম টানতে চান দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি দলীয় সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয়ে দলের এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্কাইপে এই বৈঠকে যোগ দেন। 

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক দীর্ঘদিন পরে হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও ছিল। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলগত প্রস্তুতির জন্য সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৈঠকের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়। বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য কাউন্সিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে দলের চেয়ারম্যান বলেন, দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।

বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বেগম সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, বৈঠকে দেশ ও সার্বিক অবস্থা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিস্তারিত জানাবেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।

উক্তি

উক্তি

আগে সরকারি কর্মকর্তারা খিচুড়ি রান্না শেখা কিংবা কচুরিপানা পরিষ্কার করার মতো বিষয়ে বিদেশ সফরে যেতেন। সেই সময় এখন আর নেই।

ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষামন্ত্রী

বিশেষ লেখা

শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন

মামুন রশীদ

শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন
মামুন রশীদ

মাত্র তিন বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সতর্কবার্তার নাম ছিল শ্রীলঙ্কা। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ২০২২ সালে দেশটি সার্বভৌম ঋণখেলাপি হয়। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কার্যত শূন্যে নেমে আসে, জ্বালানি ও ওষুধ আমদানিও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ গাড়ির সারি, বিদ্যুৎবিভ্রাট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন ছিল যে অনেকেই দেশটির অর্থনীতিকে হারানো কেস বলে মনে করেছিল।

কিন্তু মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে সেই শ্রীলঙ্কাই আবার বিশ্বব্যাংকের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশ এবং মাথাপিছু জাতীয় আয় উচ্চ-মধ্যম  আয়ের দেশের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে। সংকট থেকে উত্তরণের এই গতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিস্ময় তৈরি করেছে।

শ্রীলঙ্কার সাফল্যের রহস্য কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়। তারা নতুন কোনো অর্থনৈতিক তত্ত্ব আবিষ্কার করেনি; বরং বহু পরীক্ষিত অর্থনৈতিক নীতিগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষা এখানেই।

অর্থনৈতিক সংকটের পর শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কর্মসূচির অধীনে রাজস্ব সংস্কার, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি খাতে মূল্য বাস্তবায়ন, মুদ্রানীতিতে কঠোরতা এবং ঋণ পুনর্গঠনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব সিদ্ধান্ত তারা মাঝপথে পরিবর্তন করেনি। রাজনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে আইএমএফ-সমর্থিত বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, বিনিময় হার ব্যবস্থায় পরিবর্তন, ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণএসব পদক্ষেপের আলোচনা হয়েছে ও চলছে। কিন্তু আলোচনার চেয়ে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নীতি ঘোষণা করা সহজ; কঠিন হলো সেটিকে শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা।

শ্রীলঙ্কার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির সবচেয়ে বড় শক্তি সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করা। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে এবং নিয়মিতভাবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেছে। উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমস্যার মূল অনেক সময় নীতির অভাবে নয়; বরং নীতি বাস্তবায়নের দুর্বলতা। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, কর আহরণের সীমাবদ্ধতা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের অদক্ষতা কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতাএসব সমস্যা বহুদিন ধরেই চিহ্নিত। প্রশ্ন হলো, আমরা সমস্যাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সমাধানের পথে এগোতে পারছি কি না?

শ্রীলঙ্কার পুনরুদ্ধারে ঋণ পুনর্গঠনও বেশ বড় ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার একসঙ্গে এগিয়েছে। ফলে অর্থনীতি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু বাইরের সহায়তা তখনই কার্যকর হয়, যখন দেশের নিজস্ব নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কিংবা উন্নয়ন সহযোগীরা কোনো দেশের হয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারে না, সেটি করতে হয় দেশকেই।

শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রবৃদ্ধিতে রূপান্তর করেছে পর্যটন, প্রবাস আয় এবং শিল্প উৎপাদনের পুনরুদ্ধার। অর্থাৎ স্থিতিশীলতা নিজে কোনো লক্ষ্য নয়; এটি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি আরো শক্তিশালী হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নীতির ধারাবাহিকতা। শ্রীলঙ্কায় সরকার পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক সংস্কারের মূল কাঠামো অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি একটি বড় শিক্ষা। কারণ অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণত এক বা দুই বছরে আসে না, এর জন্য ধারাবাহিকতা অপরিহার্য। প্রতিটি সরকার যদি পূর্ববর্তী সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ বাতিল করে নতুন করে শুরু করতে চায়, তাহলে কোনো সংস্কারই পরিণতি পায় না।

বাংলাদেশ আজ শ্রীলঙ্কার মতো সংকটে নেই। আমাদের অর্থনীতির ভিত্তি অনেক বিস্তৃত, রপ্তানি খাত শক্তিশালী, কৃষি উৎপাদনে সক্ষম, রেমিট্যান্সের ভিত্তিও তুলনামূলক স্থিতিশীল। অর্থাৎ আমাদের সামনে সুযোগ আরো বেশি। কিন্তু সুযোগ কখনোই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। সুযোগকে সাফল্যে রূপান্তর করতে হলে প্রয়োজন সঠিক নীতি, কার্যকর প্রতিষ্ঠান এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিক বাস্তবায়ন।

শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কোনো শর্টকাট নেই। কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। যে দেশ তিন বছরের মধ্যে ঋণখেলাপির অবস্থান থেকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে ফিরতে পারে, সে দেশ আমাদের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে; অনুকরণ নয়, অনুপ্রেরণা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনা শ্রীলঙ্কার চেয়ে কম নয়। আমাদের বাজার বড়, জনসংখ্যা তরুণ, শিল্পভিত্তি বিস্তৃত এবং উদ্যোক্তা শ্রেণি অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই শ্রীলঙ্কা পারলে বাংলাদেশ পারবে না কেন? উত্তরটি আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বাস্তবায়ন এবং সুশাসনের সক্ষমতার মধ্যেই নিহিত।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান

আইএমএফের মিশন ঢাকায়

৪৫০ কোটি ডলার নতুন ঋণ চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৫০ কোটি ডলার নতুন ঋণ চায় সরকার

নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের আশায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আইএমএফের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছার কথা। 

আজ রবিবার থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক শুরু করবে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। আগামীকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তাদের বৈঠকের সূচি রয়েছে। এবারের মিশনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আইএমএফের মুদ্রা ও পুঁজিবাজার বিভাগের ডেপুটি ডিভিশন প্রধান ইভো ক্রজনার।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকার নতুন কর্মসূচির আওতায় তিন বছরের জন্য ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করছে। এই অর্থ বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবেলা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান।

চিঠিতে সরকার উল্লেখ করে, আগের ঋণ কর্মসূচি গ্রহণের সময় দেশের অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতা যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানে তা অনেকটা পরিবর্তিত হয়েছে। রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক লেনদেনের চাপ এবং আর্থিক খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার সংস্কার কর্মসূচি থেকে সরে আসছে না, বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক উঠে আসবে। সদ্য ঘোষিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিভিন্ন কর ছাড়ের যৌক্তিকতা, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতির কারণ, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংস্কারের অগ্রগতি এবং কর ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা ও রাজস্ব সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় নিয়েও মতবিনিময় হবে।

ব্যাংকিং খাতও আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। খেলাপি ঋণের উচ্চ হার, ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন, অবসায়ন কার্যক্রম এবং এসব কার্যক্রমে অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবে আইএমএফ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও আলাদা মূল্যায়ন করবে সংস্থাটি। সরকারি কর্মচারীর সংখ্যা, নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, বিভিন্ন ভাতা এবং এসব সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাইবে আইএমএফ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি আমদানির খরচ, বিদ্যুতের দাম সমন্বয় এবং সরকারি ভর্তুকির পরিমাণ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলাকে দেওয়া সরকারি সহায়তা, প্রাকৃতিক গ্যাসে ভর্তুকি এবং পুরো জ্বালানি খাতের আর্থিক প্রবাহও বিশ্লেষণ করা হবে।

এ ছাড়া সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ভারসাম্য, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের দায়, সরকারি গ্যারান্টি এবং ভবিষ্যৎ ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা নিয়েও আলোচনা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ব্যয় ও কার্যকারিতা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থ ব্যবহারের দক্ষতাও আইএমএফের মূল্যায়নের আওতায় থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই বৈঠকগুলোর মাধ্যমে নতুন ঋণ কর্মসূচির সম্ভাব্য শর্ত, অগ্রাধিকার ও সংস্কার এজেন্ডা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সরকার বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার অগ্রগতি, মুদ্রানীতির আধুনিকায়ন, ব্যাংক রেগুলেশন ও আমানত সুরক্ষা আইন, ঝুঁকিভিত্তিক ব্যাংক তদারকি এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরবে। ঢাকা সফর শেষে আইএমএফ প্রতিনিধিদল তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন ওয়াশিংটনে সংস্থাটির সদর দপ্তরে জমা দেবে। সেই মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে আগামী অক্টোবর মাসে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার পর নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে আরেকটি মিশন ঢাকায় আসতে পারে।

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে আবারও গুলির শব্দ | কালের কণ্ঠ