kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অসংগতি আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অসংগতি আছে

অধিবেশনে সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে বেশ অসংগতি রয়েছে। জবাবদিহির বেশ ঘাটতি রয়েছে। গত দুই দিনে এই সম্মেলনে আমরা গবেষণার যেসব তথ্য তুলে ধরেছি, আশা করি, তা নীতিনির্ধারণে সহায়তা করবে। ’

গতকাল সোমবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘মহামারি থেকে উত্তরণের পথে বাংলাদেশ : অভিজ্ঞতা অর্জন ও নীতি প্রণয়ন’ শীর্ষক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক রেহমান সোবহান এসব মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

অধিবেশনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘গত রাতে আমি একটি অনুষ্ঠানে দেখলাম, অর্থমন্ত্রী দাবি করছেন, তাঁর কাছে দারিদ্র্যসংক্রান্ত পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য রয়েছে, যা সিপিডির চেয়ে বেশি হালনাগাদ। আমি তাঁকে বলব, দ্রুত এই তথ্যগুলো আমাদের সঙ্গে শেয়ার করুন। আমাদেরও কাজ করতে অনেক সুবিধা হবে। ’

এর আগে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ‘কভিড-১৯ মোকাবেলা : খানা জরিপ থেকে কর্মসংস্থান সম্পর্কিত সমন্বয়ের ফলাফল’ শীর্ষক জরিপ তুলে ধরেন।

জরিপে বলা হয়, করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পরিবারের মাত্র ২০ শতাংশ সরকারি সাহায্য পেয়েছিল। এ সময় ৬০ শতাংশ নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ না কেউ চাকরি হারিয়েছেন। নতুন করে কেউ কেউ চাকরিতে ফিরলেও ৪৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমে গেছে। দেশের ১৬ জেলার দুই হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর করা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপের সদস্য আসিফ ইব্রাহিম।

অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কার পর ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জরিপটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, করোনার প্রভাব শুধু দরিদ্রদের ওপর পড়েছে এমনটি নয়, দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে, যারা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করেছিল, তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান পরামর্শ দিয়ে বলেন, এই মানুষকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে শ্রমবাজার চাঙ্গার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করাও জরুরি।

জরিপে বলা হয়, ৪০ শতাংশ পরিবার বলছে, তারা স্থায়ীভাবে করোনার প্রভাব থেকে বের হতে পারেনি এবং ৮৬ শতাংশ বলছে, তারা বর্তমানে যে আয় করছে তাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। ৪৫ শতাংশ পরিবার বলেছে, তারা করোনার আগের তুলনায় এখন কম আয় করছে।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও করোনার প্রভাব পড়েছে। জরিপে দেখা গেছে, ৫২ শতাংশ পরিবার ব্যয় কমাতে তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করেছে। ৭৮ শতাংশ সংসার চালাতে তাদের ব্যয় কমিয়েছে। ৪৭ শতাংশ পরিবার তাদের সঞ্চয় ভেঙেছে। করোনাকালে অনেকে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে ঋণ নিয়েছে। এখন তারা কর্মক্ষেত্রে ফিরলেও কত দিনে ঋণ শোধ করতে পারবে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ এবং এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী।

সম্মেলনে ‘অতিমারি-উত্তর বাংলাদেশ : একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সংগত পরিবর্তনের পথে’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এখন বাংলাদেশের সামনে চারটি উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। প্রথমত, করোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা, ২০২৬ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়া, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের জন্য লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়া। তবে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে অনেক কাজ করতে হবে।

অধিবেশনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সামনের দিনগুলোতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ ঝুঁকি আছে। এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ আগেও ভালো অবস্থানে ছিল। কিন্তু যখন আমরা নিজেদের খুব বেশি রোল মডেল দাবি করছি, তখনই আমাদের অর্জনগুলো কমে যাচ্ছে। ’ তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ২০১৮ সালের বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে মাতৃমৃত্যুর হার বেড়েছে। অথচ আগে দ্রুত কমছিল। শিশুমৃত্যুর হার ২০১৪ সাল থেকে কমছে না।

এ সময় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. রওনক জাহান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নিলর্মি, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মিনহাজ মাহমুদ, আন্ডারপ্রিভিলেজ চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রগ্রামস (ইউসেপ), বাংলাদেশের সভাপতি পারভীন মাহমুদ প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা