• ই-পেপার

এইচএসসির প্রস্তুতি : বহু নির্বাচনী মডেল প্রশ্ন

  • বিশ্বজিৎ দাস, সহযোগী অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর

মজার গণিত

মজার গণিত

 

 

 

৫ এর ম্যাজিক

​তোমরা ৫ বন্ধু মিলে রেস্তোরাঁয় খাওয়াদাওয়া করলে। মোট বিল এলো ৪১২ টাকা। এবার প্রত্যেকের খরচের ভাগ বের করতে একে ৫ দিয়ে ভাগ করা একটু ঝামেলার মনে হতে পারে; কিন্তু ২ দিয়ে গুণ করে খুব সহজেই এটি বের করা সম্ভব।

​প্রথম ধাপ : বিলের মোট টাকা ৪১২-কে মনে মনে ২ দিয়ে গুণ করে দ্বিগুণ করে নাও
৪১২ × ২ = ৮২৪।

​দ্বিতীয় ধাপ : এবার ডান দিক থেকে ঠিক এক ঘর বামে একটি দশমিক বসিয়ে দাও। অর্থাৎ, ৮২৪ হয়ে যাবে ৮২.৪।

​ফলাফল : তোমাদের প্রত্যেককে দিতে হবে ৮২.৪ টাকা (অর্থাৎ ৮২ টাকা ৪০ পয়সা)।

 

শব্দের ব্ল্যাকহোল

যেকোনো একটি সংখ্যা ইংরেজিতে ভাবো (যেমন: ১2)| এটিকে বানান করে লেখো (T-W-E-L-V-E)। এখানে অক্ষর আছে 6টি। এবার প্রাপ্ত অক্ষর সংখ্যা ‘6’-কে বানান করো (S-I-X)। এখানে অক্ষর 3টি। এবার ‘3’-কে বানান করো (T-H-R-E-E); এখানে অক্ষর 5টি। ‘৫’ (F-I-V-E)-এ অক্ষর 4টি। আর ‘4’ (F-O-U-R)-এ অক্ষর 4টি!

​ম্যাজিক: তুমি মিলিয়ন বা বিলিয়নের যেকোনো সংখ্যা দিয়েই শুরু করো না কেন, শেষ পর্যন্ত ‘FOUR’ বা 4-এ এসে আটকে যাবে। 4 হলো ইংরেজি সংখ্যার ব্ল্যাকহোল!

 

নেটফ্লিক্স ও পিজা রিডিং

​তোমার ছোট ভাই ছুটির দিনে নেটফ্লিক্সের কোনো একটা নির্দিষ্ট সিরিজের কয়টি এপিসোড দেখেছে এবং কয় স্লাইস পিজা খেয়েছে তা সহজেই বলে দিতে পারবে।

​প্রথম ধাপ : ছোট ভাইকে সে কয়টি এপিসোড দেখেছে তা লিখতে বলো : যেমন ৪টি

​দ্বিতীয় ধাপ : সংখ্যাটিকে ৫ দিয়ে গুণ করতে বলো : ৪ × ৫ = ২০

​তৃতীয় ধাপ : এর সঙ্গে ৩ যোগ করতে বলো : ২০ + ৩ = ২৩

​চতুর্থ ধাপ : প্রাপ্ত যোগফলকে ২ দিয়ে গুণ করতে বলো : ২৩ × ২ = ৪৬

​পঞ্চম ধাপ : এবার সে কয় স্লাইস পিজা খেয়েছে (১-৯) তা যোগ করতে বলো : ৪৬ + ২ = ৪৮

ফলাফল : প্রাপ্ত সংখ্যাটি থেকে তুমি মনে মনে ৬ বিয়োগ করো। ৪৮ - ৬ = ৪২

এখানে প্রথম অঙ্ক ৪ হবে এপিসোড সংখ্যা, আর শেষের অঙ্ক ২ হবে তোমার ভাইয়ের খাওয়া পিজার স্লাইস।

 

৫২টি তাসে সৌর ক্যালেন্ডার

​তাসের ৫২টি কার্ড আসলে আস্ত একটি সৌর ক্যালেন্ডার, যা অনেকেই খেয়াল করেন না!

​৫২টি তাস = বছরের ৫২ সপ্তাহ।

​​৪টি স্যুট = দিনরাত্রির ৪টি প্রধান প্রহর (ভোর, দুপুর, গোধূলি ও রাত)।

​প্রতিটি স্যুটে ১৩টি তাস = প্রতিটি ঋতুর ১৩ সপ্তাহ।

​১২টি ফেস কার্ড (গোলাম, বিবি, সাহেব)

= বছরের ১২ মাস।

​সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, যদি ৫২টি তাসের মান যোগ করো (টেক্কা = ১, গোলাম = ১১, বিবি = ১২, সাহেব = ১৩ ধরে) এবং তার সঙ্গে একটি জোকার (১) যোগ করো, তবে মোট যোগফল হবে ঠিক ৩৬৫! যা বছরের মোট দিনের সমান।

 

স্মার্টফোনের ব্যাটারি ও অ্যাপ ম্যাজিক

​তোমার বন্ধুর ফোনের ব্যাটারি কত পার্সেন্ট এবং সে কয়টি অ্যাপ বেশি ব্যবহার করে, তা তুমি না দেখেই বলে দিতে পারবে!

​প্রথম ধাপ : প্রথমে তোমার বন্ধুকে তার ফোনের বর্তমান ব্যাটারি পার্সেন্টেজ ক্যালকুলেটরে লিখতে বলো : যেমন চার্জ ৬২%

​দ্বিতীয় ধাপ : চার্জের সংখ্যার  সঙ্গে ২ দিয়ে গুণ করতে বলো : ৬২ × ২ = ১২৪

​তৃতীয় ধাপ : গুণফলের সঙ্গে ৫ যোগ করতে বলো : ১২৪ + ৫ = ১২৯

​চতুর্থ ধাপ : এবার যোগফলকে ৫০ দিয়ে গুণ করতে বলো : ১২৯ × ৫০ = ৬৪৫০

​পঞ্চম ধাপ : এরপর তার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপের সংখ্যা যোগ করতে বলো : ৬৪৫০ + ১২ = ৬৪৬২

ফলাফল : চূড়ান্ত সংখ্যাটি থেকে তুমি মনে মনে ২৫০ বিয়োগ করো।

৬৪৬২ - ২৫০ = ৬২১২

এখানে প্রাপ্ত উত্তরের প্রথম অংশ ৬২ হবে ব্যাটারি পার্সেন্টেজ এবং শেষ দুই অঙ্ক ১২ হবে অ্যাপের সংখ্যা।

♦ আমানুর রহমান

 

 

পঞ্চম শ্রেণি : দূরের পাল্লা

বিশ্বজিৎ সুর, সহকারী শিক্ষক, গোয়ালনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোতোয়ালি, ঢাকা

পঞ্চম শ্রেণি : দূরের পাল্লা
ছবি : পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বই থেকে নেওয়া

আমার বাংলা বই

পাঠ ৩

‘দূরের পাল্লা’ কবিতার মূল ভাব লেখো।

উত্তর : ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ফুটে উঠেছে নদীতীরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা। নদীতে তিনজন মাঝি নৌকা বেয়ে দূর-দূরান্তে যায়। নদীর দুই তীরের পার ঝোপঝাড় জঙ্গলে পরিপূর্ণ। জেগে ওঠা চরে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মানুষ ঘর তৈরি করে। পানকৌটি বা পানকৌড়ি জলে ডুব দেয়, সেই সঙ্গে ডুব দেয় ঘোমটা পরা বউ। তারই পাশ দিয়ে তিনজন মাঝি গান গাইতে গাইতে ধীরগতিতে এগিয়ে চলে।

 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১। বন-হাঁস কী করছে?

   উত্তর : ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় কবি বলেছেন নদীতে চর জেগেছে। নদীর জেগে ওঠা চরে বন-হাঁস ডিম দিয়েছে। ডিমগুলো এরা শ্যাওলা দিয়ে ঢেকে রাখছে।

৩।          ঘোমটা দেওয়া বউটি কী করছিল?

   উত্তর : ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ঘোমটা দেওয়া বউটি নদীর ঘাটে যায়। টুপ টুপ করে ডুব দেয়। কলসিতে পানি ভরে। পানি ভরে ঘোমটা ফাঁকে আনমনে তাকিয়ে থাকে।

৪।          শৈবালকে কেন টাকশাল বলা হয়েছে?

   উত্তর : টাকশাল হলো টাকা তৈরির স্থান। যেখানে অনেক টাকা বা মূল্যবান সম্পদ থাকে। নদীর পানিতে সবুজ রঙের শৈবাল জন্মে। শৈবাল মূলত প্রকৃতির মূল্যবান একটি জলজ উদ্ভিদ, যার সঙ্গে কবি টাকশালের তুলনা করেছেন। কারণ শৈবাল প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, যা প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই উপমার মাধ্যমে কবি প্রাকৃতিক সম্পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাচুর্যকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

৫। কবিতাটি পড়তে ভালো লাগে কেন?

     উত্তর : ‘দূরের পাল্লা’ কবিতাটি পড়তে ভালো লাগার কারণ এর ছন্দ ও তাল। কবি মিল-শব্দ ব্যবহার করে কবিতাটিকে গতিময় করেছেন। এই গতিময়তা এবং নদী ও নদীতীরের সুন্দর একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বলে কবিতাটি পড়তে ভালো লাগে।

নবম ও দশম শ্রেণি : কবিতা : জীবন বিনিময়

আতাউর রহমান সায়েম, সিনিয়র শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল, ঢাকা

নবম ও দশম শ্রেণি : কবিতা : জীবন বিনিময়
পুত্র হুমায়ুনের রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছেন বাদশাহ বাবর

বাংলা প্রথম পত্র

[পূর্বপ্রকাশের পর]

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

৩৪।          ‘ফুকারি উঠিল’—এর অর্থ কী?

   উত্তর : উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠলেন।

৩৫।          বাবর চিকিৎসকদের কী প্রশ্ন করেছিলেন?

   উত্তর : তিনি জানতে চেয়েছিলেন, হুমায়ুন বাঁচবে কি না।

৩৬।          ‘বাদশাহজাদা’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?

   উত্তর : সম্রাটের পুত্র হুমায়ুনের কথা বলা হয়েছে।

৩৭।          ‘অন্তরবি’ বলতে কী বোঝায়?

   উত্তর : অস্তগামী সূর্য।

৩৮।          ‘দৃপ্ত’ শব্দটি এখানে কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

   উত্তর : উদ্দীপিত অর্থে।

৩৯। ‘বিশ্বনবী’ ও ‘মরুদুলাল’ কোন ধরনের রচনা?

   উত্তর : জীবনীমূলক রচনা।

৪০।          ‘শিকওয়া’ ও ‘জওয়াবে শিকওয়া’ কার লেখা থেকে অনুবাদ?

   উত্তর : আল্লামা ইকবালের।

৪১।          সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধন কী?

   উত্তর : নিজের জীবন।

৪২।          ‘নিদ’ শব্দের অর্থ কী?    

   উত্তর : ঘুম।

 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

১।           কবি ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন কেন?

   উত্তর : কবি নীরবতাকে নিষ্ঠুর বলেছেন, কারণ বাদশাহ বাবর যখন হুমায়ুনের আরোগ্যের সম্ভাবনা জানতে চান, তখন চিকিৎসক ও দরবেশরা নীরব থাকেন।

   এই নীরবতা আসলে একটি অমোঘ সত্যের ইঙ্গিত দেয়—হুমায়ুনের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই। বাবর উত্তর পাওয়ার জন্য ব্যাকুল ছিলেন, কিন্তু কারো মুখে কোনো কথা না থাকায় তাঁর মনে গভীর শঙ্কা ও কষ্টের জন্ম নেয়। এই নিঃশব্দতা তাঁর জন্য বেদনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কবি ‘নিষ্ঠুর’ বলে অভিহিত করেছেন।

 

২।           ‘সুপ্তি মগন’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

   উত্তর : ‘সুপ্তি মগন’ বলতে স্তব্ধ-গভীর রজনীতে পৃথিবীর সব প্রাণীর ঘুমে মগ্ন অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।

   ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় দেখা যায় যে গভীর রাতে পুরো বিশ্বপ্রকৃতি যখন ঘুমে অচেতন, তখন শুধু সম্রাট বাবরের চোখে ঘুম নেই। তিনি নীরব-নিস্তব্ধ গভীর রজনীতে নিভৃত গৃহকোণে অশ্রুসজল চোখে দুই হাত তুলে করুণাময়ের কাছে প্রার্থনারত প্রিয় পুত্রের রোগমুক্তি কামনায়। সেই অবস্থায় বাবর অনুভব করলেন বিশ্বপ্রকৃতিতে তাঁর প্রার্থনা ধ্বনিত হচ্ছে। বাদশাহ বুঝলেন, তাঁর প্রার্থনা কবুল হয়েছে। এই নীরব-নিথর অন্ধকার রাতে।

 

৩।           ‘হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করিল শয্যা সে মরণের’, কিভাবে বাবর শয্যা গ্রহণ করলেন?

   উত্তর : সম্রাট বাবরের প্রার্থনায় তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্র আরোগ্য লাভ করলে স্নেহবৎসল পিতা বাবর হৃষ্টচিত্তে মরণশয্যা গ্রহণ করলেন।

   কবি গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় দিল্লির সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। রাজ্যের সব বিজ্ঞ চিকিৎসক হুমায়ুনের রোগ নিরাময়ে ব্যর্থ হলে স্নেহবৎসল বাবর তাঁর নিজের জীবনের বিনিময়ে মহান আল্লাহর কাছে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইলেন। পিতৃহৃদয়ের আকুল নিবেদন মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হলো। অতঃপর হুমায়ুন নতুন জীবনলাভ করার সঙ্গে সঙ্গে সম্রাট বাবর মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলেন। এ মরণশয্যা তিনি হৃষ্টচিত্তে গ্রহণ করলেন।

 

৪।           ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় ‘দৃপ্ত জয়োল্লাস’ বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

   উত্তর : ‘দৃপ্ত জয়োল্লাস’ বলতে প্রদীপ্ত বা উদ্দীপিত হওয়ার মতো জয়ধ্বনিকে বোঝায়।

   কিন্তু ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় দৃপ্ত জয়োল্লাস বলতে নিজ জীবনের বিনিময়ে বাদশাহ বাবর পুত্র হুমায়ুনের জীবন ভিক্ষা চান এবং যখন বুঝতে পারেন, দয়াময় আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন, পুত্র হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তখন বাদশাহর নিরাশ হৃদয়ে যে আশার বা আশ্বাসবাণীর প্রতিক্রিয়ায় উল্লসিত ধ্বনি উচ্চারিত হয়, সেই ধ্বনিকেই ‘দৃপ্ত জয়োল্লাস’ বলা হয়েছে।

 

৫।           বাদশাহ বাবর কেন গভীর ধ্যানে বসেছিলেন?

   উত্তর : বাদশাহ বাবর আল্লাহর কাছে পুত্রের প্রাণ ভিক্ষার জন্য গভীর ধ্যানে বসেছিলেন।

   বাদশাহ বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে রাজ্যের কোনো বিজ্ঞ চিকিৎসক, কবিরাজ, হেকিম, কেউ-ই তাঁকে সুস্থ করে তুলতে সক্ষম হননি। তখন নিরাশ বাদশাহকে এক দরবেশ বললেন, তিনি যদি তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন আল্লাহকে উৎসর্গ করে খুশি করতে পারেন তবে তাঁর পুত্রের বাঁচার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ব্যাকুল বাদশাহ উপলব্ধি করলেন, তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন তাঁর নিজ প্রাণ। তখন তিনি একটি নিরিবিলি ঘরে গভীর ধ্যানমগ্ন হলেন। আল্লাহর কাছে নিজের প্রাণ কোরবানির বিনিময়ে পুত্রের প্রাণভিক্ষা চাইলেন এবং পুত্রকে মৃত্যুমুখ থেকে এভাবে ফিরিয়েও আনলেন।

 

৬।           বাদশাহর নিরাশ হৃদয়ে আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস কখন ধ্বনিত হয়েছিল?

   উত্তর : বাদশাহ বাবর যখন বুঝতে পারলেন, দয়াময় আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেছেন এবং পুত্র হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন, তখন বাদশাহর নিরাশ হৃদয়ে আশার দৃপ্ত জয়োল্লাস ধ্বনিত হয়।

   মুমূর্ষু হুমায়ুনকে সবাই যখন সুস্থ করে তুলতে ব্যর্থ, তখন দরবেশের পরামর্শ অনুযায়ী বাদশাহ বাবর নিজের শ্রেষ্ঠ ধন নিজ প্রাণ উৎসর্গ করে পুত্রকে বাঁচানোর প্রার্থনা করেন। তখন আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেন। তখন তিনি পুলকিত হয়ে পুত্রের চারপাশে ঘুরতে থাকেন এবং তাঁর নিরাশ হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়।

 

৭।           ‘উষার পূর্বাভাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

   উত্তর : ‘উষার পূর্বাভাস’ বলতে হুমায়ুনের রোগমুক্তির লক্ষণ বোঝানো হয়েছে।

   সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। বিজ্ঞ চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে তাঁর জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এমন সময় এক দরবেশ জানালেন, সম্রাট যদি তাঁর শ্রেষ্ঠ ধন উৎসর্গ করতে পারেন, তবেই তাঁর পুত্র জীবন লাভ করতে পারেন। সম্রাট বাবর উপলব্ধি করলেন নিজের জীবনের চেয়ে আর বেশি প্রিয় কিছু নেই। তিনি মহান আল্লাহর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ ধনের বিনিময়ে পুত্রের জীবন ভিক্ষা চাইলেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করলে শাহজাদা হুমায়ুন ধীরে ধীরে সুস্থ হতে লাগলেন। তাঁর এ রোগমুক্তির লক্ষণকেই কবি উষার পূর্বাভাস বলেছেন।

 

৮।           ‘প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবানি’ চরণের অর্থ বুঝিয়ে লেখো।

   উত্তর: হুমায়ুনের জীবন বাঁচাতে সম্রাট বাবর তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে প্রস্তুত।

   সম্রাট বাবরের পুত্র হুমায়ুন কঠিন রোগে আক্রান্ত। দিন দিন তাঁর অবস্থার অবনতিই হয়ে চলেছে। রাজ্যের অনেক বিজ্ঞ হেকিম-দরবেশ হুমায়ুনের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হন। এমন সময় এক দরবেশ এসে বাবরকে বলেন, বাবর যদি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ধন দান করতে পারেন, তবে তাঁর পুত্র বেঁচে উঠবেন। এ কথা শুনে বাবর বলেন, ‘তাই যদি হয়, প্রস্তুত আমি দিতে সেই কোরবানি।’

 

৯।           পুত্রের চিকিৎসা করাতে বাদশাহ বাবর সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন কেন?

   উত্তর : বাদশাহ বাবর পুত্রের প্রতি গভীর স্নেহবাৎসল্যের কারণে তাঁর সব চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

   একদা বাদশাহ বাবরের প্রিয় পুত্র হুমায়ুন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর বাঁচার আশা হারিয়ে ফেলেন। এতে পিতা বাবরের চারদিকে মরণ-অন্ধকার নেমে আসে। তিনি রাজ্যের যত বিজ্ঞ হেকিম, কবিরাজ ও দরবেশকে ডেকে এনে পুত্রের চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করেন। চিকিৎসা ও সেবাযত্নের একটুও ত্রুটি তিনি করেননি। পুত্রের জন্য বাবর এত কিছু করেছিলেন পিতার দায়িত্ব থেকে এবং সন্তানের প্রতি স্নেহের কারণে।

 

১০।          ‘জীবন বিনিময়’ কথাটিতে কী বোঝানো হয়েছে?

   উত্তর : ‘জীবন বিনিময়’ বলতে বোঝায় এক জীবনের পরিবর্তে অন্য জীবন দান বা প্রতিদান করা।

     কবি গোলাম মোস্তফার ‘জীবন বিনিময়’ কবিতায় ‘জীবন বিনিময়’ বলতে বোঝায় এক জীবনের পরিবর্তে অন্য জীবন দান বা প্রতিদান করা। সম্রাট বাবর তাঁর পুত্র হুমায়ুনের জীবন রক্ষার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। নিজের জীবন উৎসর্গ করাকেই কবিতায় বিনিময় বলে অভিহিত করেছেন।

 

 

সপ্তম শ্রেণি : সমান্তরাল সরলরেখা

সাধন সরকার, সহকারী শিক্ষক, লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সীগঞ্জ

সপ্তম শ্রেণি : সমান্তরাল সরলরেখা

গণিত : অষ্টম অধ্যায়

 

বহু নির্বাচনী প্রশ্ন

১। সম্পাদ্যের কয়টি অংশ?

     ক. ১            খ. ২

     গ. ৩            ঘ. ৪

২। উপপাদ্যের যে অংশে প্রতিজ্ঞার বিষয়টি বর্ণনা করা থাকে, তাকে কী বলে?

     ক. প্রমাণ       খ. অঙ্কন

     গ. বিশেষ নির্বচন   

     ঘ. সাধারণ নির্বচন

     নিচের তথ্যের আলোকে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও :

     >, < ও

     জ্যামিতিতে ব্যবহৃত তিনটি শব্দ।

৩। PQ রেখাংশ RS রেখাংশ অপেক্ষা বড় হলে PQ ও RS এর মাঝে কোন চিহ্নটি ব্যবহৃত হবে?

     ক. প্রথমটি      খ. দ্বিতীয়টি

     গ. তৃতীয়টি           ঘ. সব কটি

৪। PQR একটি ত্রিভুজ। এটি বোঝাতে কোন চিহ্নটি ব্যবহৃত হবে?

     ক. >          খ. <     

     গ.             ঘ. সব কটি

 

          উত্তর : ১. গ ২. ঘ ৩. ক ৪. গ।