• ই-পেপার

নিয়মিত মনিটরিং প্রয়োজন

  • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার আধুনিকায়ন

যাত্রীবান্ধব পদক্ষেপ নিন

যাত্রীছাউনির করুণ দশা

যাত্রীবান্ধব পদক্ষেপ নিন

ঢাকা মহানগরীতে গণপরিবহনের যেমন করুণ দশা, তেমনি করুণ দশা রাস্তার পাশে থাকা যাত্রীছাউনিগুলোরও। প্রায় প্রতিটি যাত্রীছাউনি হয় ময়লা-নোংরা, না হয় হকারদের দখলে। কোনো কোনোটি মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। সোজা কথায়, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছাউনিগুলো যাত্রীদের ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাসচালকরাও ছাউনির কাছে নির্ধারিত স্থানে না দাঁড়িয়ে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করান। অথচ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এসব ছাউনি নির্মাণ করেছিল দুই সিটি করপোরেশন। গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

খবরে বলা হয়েছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে মহানগরজুড়ে ২২৯টি স্থানে যাত্রীছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ১৬৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (সিএসসিসি) এলাকায় ৬১টি স্থান নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ১০৪টি। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এসবের বেশির ভাগই বেদখল হয়ে আছে। সরেজমিনে মোহাম্মদপুর, ধানমণ্ডি, গুলিস্তান, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, দোলাইরপাড়, মহাখালী, বিমানবন্দর সড়ক, কুড়িল, মালিবাগ ও আজিমপুর এলাকায় যাত্রীছাউনির করুণ  দশার একই চিত্র পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রীছাউনির লোহার রেলিং খুলে নেওয়া হয়েছে, ভেঙে গেছে টেম্পার্ড গ্লাস, বেঞ্চ নেই। কোথাও ফল ও চায়ের দোকান, কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। বসিলা এলাকায় একটি যাত্রীছাউনি প্রায় দুই বছর ধরে টেম্পোস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যাত্রীছাউনিগুলো দখলমুক্ত রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের, কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হয়, নিয়মিত হয় না। আবার সিটি করপোরেশন বলছে, নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামানোর দায়িত্ব ট্রাফিক পুলিশের। তাদের অভিযোগ, এই কাজটি ঠিকঠাক হচ্ছে না বলে ছাউনিগুলো সচল করা যাচ্ছে না। এ রকম একে অপরকে দোষারোপের নজিরও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যাত্রীছাউনির উদ্দেশ্য হলো যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেওয়া এবং নির্ধারিত স্টপেজ থেকে ওঠানামার ব্যবস্থা করা। কিন্তু রাজধানীর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাস নির্ধারিত স্টপেজে না থামায় পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে।

মাঝেমধ্যেই ঢাকাকে স্মার্ট ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়। আমরা মনে করি, এ জন্য গণপরিবহন ব্যবস্থার মতো প্রাথমিক ও জরুরি সেবার দিকে নজর দিতে হবে। যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীজুড়ে ছাউনিগুলো দখলমুক্ত করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা একান্ত প্রয়োজন। এ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন

মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন

বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন

বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও জাতি গঠনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, যদি না মাদকের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন থামানো যায়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এই সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। শুধু যুবক-তরুণের পাশাপাশি বাড়ছে মাদকাসক্ত কিশোর, এমনকি কিশোরীদের সংখ্যাও। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধনের পাশাপাশি ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দেশের আইনগত কাঠামোকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করতে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে। নতুন আইনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ব্যবসা দমন, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার ঠেকানো, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ শাখা, ডগ স্কোয়াড, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, মানি লন্ডারিং তদন্ত, হাজতখানা, মালখানা, প্রসিকিউশন শাখা, বিশেষ মামলা ব্যবস্থাপনা সেল এবং সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত অভিযানের মতো বিষয়ে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার এর গেজেট প্রকাশিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশোধিত আইনে ডিএনসিকে শুধু প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ কালের কণ্ঠকে বলেন, আইনটি সংশোধনের ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।

মাদক শুধু মাদকাসক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাদকের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অন্যান্য অপরাধও। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বাড়ছে খুনাখুনি। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরেও দেখা যায়, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দেবীনগর গ্রামে মাদক ব্যবসার বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মাদকসংক্রান্ত বিরোধে খুনাখুনির ঘটনা গণমাধ্যমে আসছে। এ ছাড়া মাদকের অর্থ সংগ্রহের জন্য কিশোর-তরুণরা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। খুন, ধর্ষণ, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আরো অনেক সামাজিক অশান্তির কারণও এই মাদকাসক্তি।

আমরা মনে করি, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সমন্বিত কার্যক্রম চালাতে হবে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। গডফাদারসহ ছোট-বড় সব কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে

ডিজিটাল প্রতারণার জাল

নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রতারকচক্রের নতুন হাতিয়ারও হয়ে উঠেছে। নিত্যনতুন কৌশলে তারা সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে অর্থ লোপাট করছে। নানা ধরনের সেবার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক সময় তথ্য চুরি করে, সেই তথ্য দিয়ে আবার ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। আবার অনেক সময় নিজেদের অজান্তেই সংবেদনশীল তথ্য কুচক্রীমহলের হাতে আমরাই তুলে দিচ্ছি। উদ্বেগের ব্যাপার হলো, বহু মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলেও নানা কারণে চুপ থাকে, থানায় অভিযোগ করে না। এতে ডিজিটাল প্রতারণা যতটা গুরুতর হয়ে উঠেছে, তার অনেক কমই আমাদের সামনে আসছে।

কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, ফেসবুকসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন, বিদেশ গমন, ভিসা প্রসেসিং, চাকরি প্রদানসহ নানা সেবা প্রদানের জাল বিছিয়ে রেখেছে প্রতারকচক্র। শুধু দেশেই নয়, দেশের বাইরেও তাদের হাত রয়েছে। তাদের ফাঁদে পড়া ভুক্তভোগী মো. আনিসুর রহমানের তিক্ত অভিজ্ঞতায় জানা গেছে, ‘প্রবাসী লোন বিডি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণের বিজ্ঞাপন দেখে মেসেঞ্জারেনককরলে তাঁকে প্রথমে সাত হাজার টাকা বিকাশ করতে বলা হয়। এভাবে ধাপে ধাপে ৪৩ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু সেই লাখ টাকার ঋণ আর মেলেনি। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। এ ছাড়া অনলাইনে জুয়ার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। আর তাতে অনেকে নিঃস্ব হচ্ছে।

ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা। খবরে বলা হয়েছে, দেশে প্রতি পাঁচজন কিশোরী ও তরুণীর মধ্যে তিনজনই সাইবার বুলিংয়ের শিকার। আবার অনেক ঘটনায় দেখা গেছে, প্রতারকচক্র প্রথমে আস্থা অর্জনের কৌশল নেয়, পরে সুযোগ বুঝে তরুণীদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। এরপর তাদের জিম্মি করে। শুধু তরুণীরাই নয়, সব বয়সী মানুষ তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছে। জানা গেছে, সম্মানহানির ভয়ে ৮৯ শতাংশ ভুক্তভোগী এসব অভিযোগ নিয়ে থানায় পর্যন্ত যায় না। এ কারণে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে আসে। অন্যদিকে পুলিশের পৃথক সাইবার ইউনিট না থাকায় এসব অপরাধ দমনে সক্ষমতাও আশানুরূপ নয়।

বাস্তবতা হলো, আমাদের দেশে বেশির ভাগ মানুষ প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত হলেও এর নিরাপত্তার দিকগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। অনেকে পাসওয়ার্ড সুরক্ষার প্রাথমিক নিয়মগুলোও জানে না। অন্যদিকে সাইবার অপরাধীরা অত্যন্ত চতুর এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ হওয়ায় চটজলদি তাদের শনাক্ত করা কঠিন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ও সাইবার অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে সঠিক বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ চলতি বছরের ১১ মে পৃথক ‘সাইবার পুলিশ ইউনিট’ গঠনের ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।

আমরা মনে করি, প্রতারণা থেকে নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে। প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে ডিজিটাল মাধ্যমের নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে অনেক লক্ষ্য অর্জন করাই কঠিন হবে। সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করতে আমাদের পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে পৃথক সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদেরও প্রাথমিক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

প্রতিকারে উদ্যোগ নিন

বাড়ছে পুলিশ সদস্যদের আত্মহত্যা

প্রতিকারে উদ্যোগ নিন

সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, বন্ধুর মতো বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোএমন আরো অনেক প্রত্যাশা থাকে পুলিশ বাহিনীর প্রতি। কিন্তু সেই পুলিশ সদস্যদেরই যদি জীবনের নিরাপত্তা না থাকে, স্বস্তি ও সুস্থতা না থাকে, তাহলে কী হবে? জানা যায়, অভাব-অনটনের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপ, বিপর্যস্ত আবাসন ব্যবস্থায় ঠিকমতো ঘুমাতে না পারাসহ নানা প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করতে হয় পুলিশ সদস্যদের। ফলে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে আত্মহত্যার শিকার হন।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সর্বশেষ গত শুক্রবার রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনসের একটি ভবনে সাইদুল ইসলাম (২১) নামের একজন কনস্টেবল আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি ভিডিও পোস্টে তিনি পারিবারিক জটিলতাসহ হতাশার নানা চিত্র তুলে ধরেন। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৯ জন পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাত বছরে পুলিশের ৭৯ জন সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। অর্থাৎ বছরে গড়ে ১০ জনের বেশি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তাঁদের বড় অংশই কনস্টেবল ও এএসআই পদমর্যাদার। বছরভিত্তিক হিসাব বলছে, ২০২০ সালে আত্মহত্যা করেন ১০ জন পুলিশ সদস্য। ২০২১ সালে ১১, ২০২২ সালে ছয়, ২০২৩ সালে ১৩, ২০২৪ সালে তিন এবং ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪। চলতি বছর এ পর্যন্ত অর্থাৎ সাড়ে ছয় মাসেই ৯ জনের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, পুলিশ সদস্যদের ১২ ঘণ্টার ডিউটি প্রায়ই বিরতি ছাড়া ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টায় গিয়ে ঠেকে। অপ্রতুল বেতনে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। ব্যারাকগুলো এতটাই জনাকীর্ণ যে একটি কক্ষে অনেককে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও অত্যন্ত নিম্নমানের। ঘুমের ব্যাঘাত হয়। বর্তমানে পুলিশে দুই লাখ ১৫ হাজারের বেশি সদস্য কর্মরত। ঢাকার রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগ থাকলেও স্থায়ী কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নেই। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে একজন সাইকিয়াট্রিস্ট দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ৫৯টি জেলায় পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও কোথাও পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেই। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সুস্থ ও সর্বাঙ্গীণ পুলিশি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। এই বিভাগের সদস্যরা যদি কর্মক্ষম না থাকেন, নিজেরাই ভঙ্গুর হয়ে পড়েন, তাহলে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। আমরা মনে করি, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কর্মস্থল ও আবাসন পরিবেশ মানসম্মত হতে হবে। আমরা আর কোনো পুলিশ সদস্যের এমন দুঃখজনক পরিণতি দেখতে চাই না।