প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক মাধ্যম নিত্যদিনের বাস্তবতা হলেও সারা বিশ্বেই এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে এই ক্ষতির হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন দেশ নানা রকম পদক্ষেপ নিয়েছে; অনেক দেশ নেওয়ার কথা ভাবছে। হতাশার কথা হলো, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত শিশুদের সুরক্ষায় এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেই।
কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি ইউরোপীয় কমিশনের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দিতে যাচ্ছে। জানা গেছে, এতে অনেকেই নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সুপারিশ করেছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন এক ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার সময়ে আমরা যেমন আমাদের সন্তানদের শেখাতাম একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত ধূমপান, মদ্যপান করা যাবে না; আমি মনে করি, সামাজিক মাধ্যমের ক্ষেত্রে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।’ ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য পর্যালোচনায় তাঁর সেই কথারই প্রতিফলন ঘটবে। এটি হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৭টি দেশেই শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে কড়াকড়ি আসতে পারে।
গ্রিস ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে তারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করতে চায়। অস্ট্রিয়া এবং স্লোভেনিয়াও একই পথে হাঁটছে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। আইরিশ সরকার সতর্ক করেছে, ইইউ কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে তারা আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করবে। অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ। ব্রাজিলও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে সময় কাটায়। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত সময় হচ্ছে সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা। এতে এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় এবং ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথা ব্যথায় ভুগছে।
আমরা মনে করি, আগামী প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শিশুদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার অবশ্যই সীমিত করা দরকার। এ লক্ষ্যে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। এ ব্যাপারে সরকারের আশু পদক্ষেপ কাম্য। পাশাপাশি অভিভাবকমহলকেও সচেতন ভূমিকা নিতে হবে।

