• ই-পেপার

নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে

  • আর্থিক সংকটে শিল্প খাত

নজরদারি নিশ্চিত করুন

স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়ম

নজরদারি নিশ্চিত করুন

শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের তরফ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠ পর্যায়ে এসবের যথাযথ বাস্তবায়ন হয় না। একই অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং প্রকল্পেও। শিশুদের ঝরে পড়া রোধ, পাঠের প্রতি আগ্রহ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার পাঁচ হাজার ৪৫২ কোটি টাকার প্রকল্পটি গ্রহণ করে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনের পর দিন এই খুদে শিক্ষার্থীদের মানহীন খাবার দেওয়া হচ্ছে, কোথাও খাবারই দেওয়া হচ্ছে না; আবার কোথাও কম দেওয়া হচ্ছে।

কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ১৭৭টি স্কুলে এক মাস ধরে খাবার যাচ্ছে না। নেত্রকোনা সদর উপজেলার স্কুলগুলোয় পাঠানো হচ্ছে ১০ ভাগের এক ভাগ খাবার। কোথাও কোথাও পচা কলা, বাসি পাউরুটি-ডিম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব খাবার খেয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সমতা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রায় কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, মাঠ পর্যায়ে এসব অনিয়মের তথ্য পর্যন্ত নেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে । প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো স্কুলে খাবার না পৌঁছানো বা কম পৌঁছানোর তথ্য আমাদের কাছে নেই। অথচ গৌরীপুরের নওপাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানিয়েছেন, গত ৭ জুন আমাদের স্কুল খুললেও কোনো খাবার আসছে না।

দেখা যাচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার ঠিকই টাকা ঢালছে; কিন্তু শিক্ষার্থীরা সুফল পাচ্ছে না। সেই অর্থ লোপাট করছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, কোনো স্কুলে যদি মানহীন খাবার দেওয়া হয় বা কোথাও যদি খাবার না পৌঁছায়, তাহলে আমরা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সব ধরনের ব্যবস্থা নেব। আমরা তাঁর কথার প্রতিফলন দেখতে চাই।

প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা একটি জাতির মূল ভিত। এখানে মানসম্পন্ন শিক্ষা একটি দেশকে বহুদূর এগিয়ে নিতে পারে। কাজেই এ পর্যায়ে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা রোধে কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে হবে

ফের পাহাড়ধস, ফের প্রাণহানি

ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরাতে হবে

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক ধারাবাহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এবারও সেই অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পাওয়া গেছে। অতিবর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও শহরে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরেই আটজন মারা গেছে। আহত হয়েছে আরো কয়েকজন।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং ও জামশিয়া আশ্রয়শিবিরে দফায় দফায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিল। এমন সময় ঘরের ওপর পাহাড় আছড়ে পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে বেশ কয়েকজন। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, আগামী কয়েক দিন আরো ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং এতে আরো পাহাড়ধস হতে পারে। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নেওয়া।

২০১৭ সালে উখিয়া ও টেকনাফের প্রায় আট হাজার একর বনভূমি উজাড় করে ৩৪টি আশ্রয়শিবির তৈরি করা হয়। এসব আশ্রয়শিবিরে বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। জানা গেছে, এর মধ্যে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা ভূমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর আগেও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

পাহাড়ধস প্রাকৃতিক দুর্যোগ; তবে এর পেছনে মানবসৃষ্ট কারণও যোগ হয়েছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী চক্র আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে আবাসন, বাণিজ্যিক স্থাপনা বা রাস্তা তৈরির নামে নির্বিচারে পাহাড় কাটছে। এতে মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্ষায় ভারি বৃষ্টিপাত হলেই আলগা মাটি ধসে নিচে নেমে আসছে। আর পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা দরিদ্র ও আশ্রয়হীন মানুষই পাহাড়ধসের নির্মম শিকার হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞমহল বলছে, পাহাড়-বনাঞ্চল সুরক্ষায় দেশে বিদ্যমান পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও শাস্তির বিধান থাকলেও তা প্রয়োগের নজির অত্যন্ত কম। প্রশাসনের নজরদারিও আশানুরূপ নয়। এতে একদিকে দিন দিন যেমন পাহাড়-বন ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নতুন বনায়ন কর্মসূচিও নেই। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলছে।

আমরা মনে করি, পাহাড়ধসে প্রাণহানি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। পাহাড়ের কোলে যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে, তাদের শুধু সতর্কবার্তা দিলেই হবে না, তাদের নিরাপদ আশ্রয়ও নিশ্চিত করতে হবে।

আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন

বিনিয়োগে স্থবিরতা

আস্থার পরিবেশ প্রয়োজন

অর্থনীতির প্রাণ বা প্রধান চালিকাশক্তি বলা হয় বেসরকারি খাতকে। অথচ দেশে বেসরকারি খাতের সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানিসংকট, পাহাড়সম খেলাপি ঋণ এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতিএই চতুর্মুখী আক্রমণের শিকার হয়েছে আমাদের বেসরকারি খাত। বেসরকারি খাত কতটা বিপর্যস্ত তার কিছুটা প্রমাণ মেলে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার থেকে। কয়েক মাস ধরেই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে, যার অর্থ বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি নিম্নমুখী।

দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না কর্মসংস্থান। আবার কয়েক বছর ধরে চলে আসা প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক চালু কারখানাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বেকারত্ব আকাশছোঁয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও সমাজ গবেষকরা বলছেন, বেসরকারি খাতের এই সংকটের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমিত থাকবে না, সামাজিক নানা ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান তৈরি হবে না, বেকারত্ব বাড়বে। আর বেকারত্ব বাড়লে তা সামাজিক অস্থিরতারও কারণ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪.৯৮ শতাংশ, যা এপ্রিলে ছিল ৪.৭৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের মে মাসে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে মোট ১৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৬৯.৮০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছিল, যা এক বছর পরে বেড়ে ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৪১৯.৭০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ ঋণের মোট পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও প্রবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা ছিল প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। কিন্তু বছরের প্রথম পাঁচ মাসের কোনো মাসেই সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এতে স্পষ্ট যে ব্যাংকিং খাত থেকে প্রত্যাশিত মাত্রায় ঋণপ্রবাহ না থাকায় বিনিয়োগ কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, যা উদ্যোক্তাদের নতুন বিনিয়োগে নিরুৎসাহ করছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নীতিগত অস্থিরতা ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে নতুন বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণের চাপও নতুন ঋণ বিতরণে বাধা সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সম্মাননীয় ফেলো হেলাল আহমেদ জনি বলেন, ঋণের সুদহার সহনীয় পর্যায়ে আনা, ব্যবসাবান্ধব নীতি নিশ্চিত করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করা এবং খেলাপি ঋণ কমানো প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনতে পারলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়তে পারে। অন্যথায় এই নিম্নগতি দীর্ঘস্থায়ী হলে অর্থনীতির ওপর আরো চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আমরা মনে করি, দেশের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে নীতি সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিন

সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকরা বিপাকে

অবিলম্বে পদক্ষেপ নিন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার পর ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁরা নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন না। এতে তাঁরা শুধু আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তা-ই নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) কাজ শুরু না হওয়ায় শিক্ষকরা নতুন গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন না। এই ছয় মাসেও বেতন নির্ধারণের দাপ্তরিক কাজটুকু কেন সম্পন্ন হলো না, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো সুরাহা না হলে তাঁরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সর্বাত্মক অবস্থান নেবেন।

কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড-১১ থেকে গ্রেড-১০-এ উন্নীত করা হয়। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারির দিনই প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বরাবর দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের জন্য চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, কিন্তু হতাশার ব্যাপার হলো, আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের বেতনকাঠামো সময়োপযোগী করার দাবি আজকের নয়। ২০১৪ সালে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু দশম গ্রেড ও গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদার দাবিতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট করেন। তাঁদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৪৫ জন শিক্ষককে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার রায় দেন আদালত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সে অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর সব প্রধান শিক্ষক একযোগে মামলার প্রস্তুতি নিলে প্রধান শিক্ষকের পদটিই দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার।

বাস্তবতা হলো, সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকদের টানাপোড়েন অনেক। দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯ হলেও মাত্র ৩০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আছেন। বাকিগুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলতি দায়িত্ব বা ভারপ্রাপ্ত দিয়ে দায়িত্ব চালানো হচ্ছে। অনেক দিন হলো পদোন্নতি নেই।

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধান শিক্ষকদের বেতন ফিক্সেশন না হওয়ার ব্যাপারটি এত দিন আমার নজরে আনা হয়নি। সম্প্রতি ব্যাপারটি জানতে পেরেছি। যেকোনো মূল্যে বিষয়টি আমরা সমাধান করব।

আশা করি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অবিলম্বে বেতন নির্ধারণে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করা হবে।