একলাম্পশিয়া কী? একলাম্পশিয়া এক ধরনের খিঁচুনি, যা গর্ভবতী নারীদের হয়। সাধারণত ২০ সপ্তাহের পর হয়। ডেলিভারির সময় এবং ডেলিভারির পরও হতে পারে। লক্ষণ ♦ প্রেশার অনেক বেড়ে যাওয়া। ♦ হাত-পা ফুলে ঢোল হওয়া, মাথা ব্যথা, চোখে অন্ধকার দেখা, বুকে ব্যথা, সর্বশেষ চোখ-মুখ উল্টিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। ♦ পড়ে যাওয়ার ফলে অনেকের ইনজুরিও হয়। এর মধ্যে জিহ্বা কেটে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে গর্ভফুল সেপারেট হয়ে বাচ্চা মারা যায়। হার্ট, লাং, লিভার, কিডনি অকেজো হয়ে যায়। এমনকি স্ট্রোক হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কেন হয়? কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর আছে। যেমন—কম বয়সে বিয়ে, কম বয়সে বাচ্চা ধারণ, দরিদ্রতা, অপুষ্টি, ক্যালসিয়ামের অভাব এবং আরো অজানা কারণ। ডায়াগনসিস কিভাবে করে? উচ্চ রক্তচাপ সঙ্গে প্রস্রাবে অনেক বেশি প্রোটিন (অ্যালবুমিন) যাওয়া। চিকিৎসা একলাম্পশিয়া হলে ডেলিভারি করিয়ে ফেলতে হয়, তা বাচ্চা যে অবস্থায় থাকুক না কেন। এটাই নিয়ম। এ ছাড়া পথ থাকে না আর। এখানে সেই পুরনো প্রবাদ—গাছ বেঁচে থাকলে ফল ধরবেই! রোগটাও এমন বেয়াড়া, যত চিকিৎসাই দেওয়া হোক না কেন, ডেলিভারি না করালে রোগীকে রোগ ছেড়ে যাবে না। প্রয়োজনে জান নিয়ে নেবে মা-বাচ্চা দুজনেরই। তবু দাঁত কামড়ে পড়ে থাকবে যতক্ষণ না ডেলিভারি করানো হয়। প্রতিরোধ কিছু উপায় আছে। তবে সব ক্ষেত্রে প্রতিরোধ করা যায় না। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট নামের এক ধরনের ওষুধ যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে এ ক্ষেত্রে। তা ছাড়া রিস্ক ফ্যাক্টর এড়িয়ে চললে কিছুটা সুফল পাওয়া যায়। একলাম্পশিয়া এবং প্রি-একলাম্পশিয়া মিলে শতকরা ২০ ভাগ মায়ের জান কবজ করে! লেখক : গর্ভবতী, প্রসূতি, স্ত্রী ও গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ এবং সার্জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা