সীতাকুণ্ড উপজেলার বারআউলিয়া ফুলতলা বাজারে মাছ বিক্রি করতে পারেন না স্থানীয় জেলেরা। চারজনের একটি সিন্ডিকেট জেলেদের ওপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাছ বিক্রি করতে দেয় না। এতে সাধারণ মানুষকে সব ধরনের মাছ কিনতে হচ্ছে উচ্চ মূল্যে। ফলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় মিলছে না। তবে বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বারআউলিয়া ফুলতলা বাজারটি ওই ইউনিয়নের ৩, ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের মানুষের একমাত্র কেনাকাটার বাজার। এই বাজারে প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়। কিন্তু স্থানীয় জেলেরা এখানে মাছ বিক্রি করতে পারেন না। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এলাকার মোহাম্মদ মানিক, মো. জসীম, মো. ইসমাইল ও মোহাম্মদ নাসির নামের চার প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ী জেলেদেরকে মাছ বিক্রি করতে না দিয়ে নিজেরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো মূল্যে মাছ বিক্রি করেন। ফলে ক্রেতারা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। কিন্তু প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না জেলেরা। বারআউলিয়া ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ফুলতলা বাজারে হাজার হাজার ক্রেতা আছে। আমরা সবই বাজারে পাই। কিন্তু ভালো কোনো মাছ পাই না। কারণ, স্থানীয় জেলেরা এখানে মাছ বিক্রি করতে পারছেন না। একটি মাছ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জেলেদেরকে মাছ বিক্রি করতে দেয় না।’ এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন জেলে জানান, ফুলতলা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে জেলেরা প্রবেশ করতে পারে না, মাছও বিক্রি করতে পারে না। তাদের প্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা। গত ৭/৮ বছর ধরে এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে চারজনের একটি সিন্ডিকেট। তারা বাইরের আর কাউকে বাজারে মাছ বিক্রি করতে দেয় না। যার ফলে এলাকার কেউ সামুদ্রিক মাছ কিনতে পারছে না। অতীতে এই সিন্ডিকেটের হামলার শিকার হলেও প্রতিকার পায়নি। এ কারণে কোথাও অভিযোগও করছে না। সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে মো. মানিক গতকাল সোমবার বিকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার। আমরা কাউকে মাছ বিক্রিতে বাধা দেইনি। অন্য কেউ বিক্রি করলে আমাদের সমস্যা নেই।’ সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি আমাকে কেউ লিখিতভাবে জানায়নি। তবে আমি এ ধরনের কথা শুনেছি। অতি শিগগিরই আমি সেখানে অভিযান চালাব। জেলেরা অবশ্যই অন্যান্য বাজারের মতো এখানেও ব্যবসা করবে।’