ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কংগ্রেস নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। মঙ্গলবার কংগ্রেস প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এ কর্মসূচির দৃশ্য দেখা যায়।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আন্দোলন করছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার নয়াদিল্লিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এতে অন্তত ১৮০ জন আহত হয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, ‘গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর যে নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তার জবাবদিহি চাইতে আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদির বাসভবন পর্যন্ত মিছিল করেছি।’
সোমবার যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনেক বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভেঙে সংসদের দিকে এগিয়ে যান। তাদের থামাতে সংসদ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বাস দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানান, বহু স্তরের ব্যারিকেড, প্রায় ৩ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার পরও বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারী সংসদের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সিজেপির প্রথম বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা দলটির প্রতিনিধিদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, তাদের দাবিগুলো সরকার অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা করবে। সোমবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
তবে সিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মসূচিতে দিল্লি পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। দলটির দাবি, বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে. আংমোর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ মঞ্চ সরিয়ে দেওয়ার পরও সিজেপি কেরালা হাউসের কাছে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।