• ই-পেপার

ডেটিং অ্যাপে পরিচয়ের পর অচেতন করে ১৪ নারীকে ধর্ষণ, জার্মান ব্যক্তি গ্রেপ্তার

১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতন, ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতন, ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বহু শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৩২৯টি মামলার মুখোমুখি হওয়া এক ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিচর্যাকর্মী হ্যামিশ টেইটের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডে কেয়ার কেন্দ্রে ১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ৩২৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের গোপনীয়তা আদেশ প্রত্যাহারের পর সোমবার এই পরিচর্যাকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী টেইটকে গত বছরের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরির ১৬২টি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কার্যকলাপের ভিডিও ধারণের ৮১টি অভিযোগসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ১২১টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো ২২ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লিউক নিডহ্যাম বলেন, ‘শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতনই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও জঘন্য। এমন অভিযোগ যখন এমন একজনের বিরুদ্ধে ওঠে, যার দায়িত্ব ছিল শিশুদের দেখভাল করা, তখন তা আরো উদ্বেগজনক।’

পুলিশ জানিয়েছে, হ্যামিশ টেইট ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিডনির ৬২টি শিশুশিক্ষা ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বা সেখানে যাতায়াত করেছেন। তবে তিনি মূলত শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনাগুলো চারটি শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র এবং টেইটের নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি স্থানে ঘটেছে। পুলিশ একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে টেইট যে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কাজ করতেন সেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

টেইটের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরি করেছেন। এ ধরনের ২২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনভাবে স্পর্শ করার ১৮টি অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের জুনে তারা প্রথম টেইটকে অবৈধ অনলাইন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। পরে সিডনির বাইরে গ্লেনোরি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলোতে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম অ্যাশলি পল গ্রিফিথের মামলা। তিনি ২০২৪ সালে কুইন্সল্যান্ড ও বিদেশের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে ২০ বছর ধরে সংঘটিত ৩০৭টি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া গত বছর জোশুয়া ডেল ব্রাউনের বিরুদ্ধে চারটি ডে কেয়ার কেন্দ্রে শিশু নির্যাতনের বহু অভিযোগ আনা হয়। এরপর পুলিশ ভিক্টোরিয়ার এক হাজার ২০০-র বেশি শিশুর যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষা করার আহ্বান জানায়।

যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
যৌন নিপীড়ন মামলায় ৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিলেন ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় লেখিকা ই জিন ক্যারলকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ মিলিয়ন ডলারের (৩.৭ মিলিয়ন পাউন্ড) বেশি অর্থ প্রদান করেছেন বলে তার আইনজীবীরা নিশ্চিত করেছেন। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তিন বছর পর ট্রাম্পকে এই ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে। 

ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ আমরা আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ওই রায়ের ফলস্বরূপ জুরি তাকে যে ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করার নির্দেশ দিয়েছিল, তা তিনি পেয়েছেন।’

ট্রাম্প এই অর্থ পরিশোধে দেরি করতে চেয়েছিলেন, যাতে তিনি সুপ্রিম কোর্টকে তার আপিল শুনতে অস্বীকৃতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করতে পারেন। তবে গত সপ্তাহে মামলার দায়িত্বে থাকা বিচারক তাকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। ট্রাম্পের আইনি দলের একজন প্রতিনিধি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ক্যারলের আইনি দলের একটি বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে, তাকে ৫.৬২ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদত্ত ৫ মিলিয়ন ডলার এবং আপিল চলাকালীন অর্জিত সুদসহ।

৮২ বছর বয়সী প্রাক্তন ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ম্যানহাটানের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিংরুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন এবং পরে ২০২২ সালে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ ওয়েবসাইটে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাকে অপমান করেছিলেন।

রায় ঘোষণার পরপরই ট্রাম্প ক্ষতিপূরণের অর্থ একটি আদালত-নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে জমা করেন এবং আপিল প্রক্রিয়া চলাকালীন তা সেখানেই রাখা হয়। ট্রাম্পের আইনজীবীরা তাকে অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে বিচারকের দেওয়া রায়ের তীব্র নিন্দা করেছেন।

এই মামলার বাইরে ২০২৪ সালের আরেকটি পৃথক বিচারের রায়ে ক্যারলকে দেওয়া তিরাশি মিলিয়ন বা আট কোটি ত্রিশ লাখ ডলারের অন্য একটি বড় অঙ্কের মানহানির ক্ষতিপূরণের বিরুদ্ধেও ট্রাম্প বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিল আবেদন সচল রেখেছেন।

৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন সেনা, শেষ হবে ২৩ বছরের অধ্যায়

অনলাইন ডেস্ক
৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক ছাড়বে মার্কিন সেনা, শেষ হবে ২৩ বছরের অধ্যায়
ছবি: রয়টার্স

ইরাক থেকে নিজেদের সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের কর্মকর্তারা। এর মাধ্যমে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে।

২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে সরাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু হয়। পরে এই সামরিক উপস্থিতির প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরাকে এখন আর বড় ধরনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন রয়েছে বলে ওয়াশিংটন মনে করছে না। ট্রাম্প বলেন, ইরাকের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, বর্তমানে অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরাককে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজন হলে দেশটির পাশে থাকবে। তবে এখন সেখানে সেনা রাখার প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

বৈঠকের পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা ইরাক ছেড়ে যাবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই সেনা প্রত্যাহার ২০২৪ সালে ইরাকের সঙ্গে করা চুক্তির বাস্তবায়নের অংশ। ওই চুক্তিতে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মিশন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে আইএসবিরোধী অভিযানের দায়িত্ব ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিয়েছে মার্কিন সেনারা। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে তাদের সেনা সংখ্যা কমিয়েছে, কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ছেড়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে থাকা কার্যক্রম একত্র করেছে।

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালের মার্চে। সে সময় সাদ্দাম হোসেনের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে অভিযান চালায়। তবে পরে ওই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। তবে পরে সেনা সংখ্যা কমতে থাকে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা একটি চুক্তির ভিত্তিতে ২০১১ সালে অধিকাংশ যুদ্ধরত মার্কিন সেনা ইরাক ছেড়ে যায়। তবে নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের নিরাপত্তার জন্য কিছু সেনা থেকে যায়। ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট ইরাক ও সিরিয়ার বড় অংশ দখল করলে ইরাক সরকারের অনুরোধে আবার দেশটিতে ফিরে আসে মার্কিন সেনারা। তাদের প্রধান দায়িত্ব ছিল ইরাকি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে সহায়তা করা।

২০২১ সালের মধ্যে আইএস তাদের দখলে থাকা বেশিরভাগ এলাকা হারায়। এরপরও ২০২৪ সালের প্রত্যাহার চুক্তি হওয়া পর্যন্ত ইরাকে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা ছিল। তারা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহায়তা করত। এরপর থেকে ইরাকে থাকা মার্কিন সেনার সংখ্যা আরো কমানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শুধু সীমিতসংখ্যক পরামর্শক সদস্য রয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে সেনা প্রত্যাহার শেষ হলে ২০২৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মিশনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এর মাধ্যমে ২০০৩ সালের যুদ্ধ দিয়ে শুরু হওয়া এবং পরে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতায় রূপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ সামরিক অধ্যায়ের শেষ হবে।

মন্দার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম হীরা খনিতে উৎপাদন বন্ধ করল ডি বিয়ার্স

অনলাইন ডেস্ক
মন্দার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম হীরা খনিতে উৎপাদন বন্ধ করল ডি বিয়ার্স

বিশ্ববাজারে মন্দার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম হীরার খনিতে আগামী দুই বছরের জন্য উৎপাদন স্থগিত ঘোষণা করেছে খনি জায়ান্ট ডি বিয়ার্স। মূলত হীরা বিক্রি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে রত্নপাথরের দাম পতন ও ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম হীরার সাথে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে লোকসান এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সুদূর উত্তরে অবস্থিত ‘ভেনেটিয়া’ নামক এই খনিটি থেকে দেশটির মোট হীরা উৎপাদনের ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে। এখানে প্রায় ৪ হাজার কর্মী কর্মরত আছেন। ডি বিয়ার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী হীরার বাজারে মন্দা চলায় তাদের খরচ কমানো এবং কার্যক্রম সুবিন্যস্ত করার জন্য এই সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে দুই বছরের এই বিরতিতে তারা খনির অবকাঠামোকে আরো উন্নত করবে, যাতে বাজার পরিস্থিতি ভালো হলে আবার পুরোদমে এবং আরো দক্ষ উপায়ে উৎপাদন শুরু করা যায়।

১৯৪৭ সালে ‘হীরা চিরন্তন’ (এ ডায়মন্ড ইজ ফরএভার) স্লোগান দিয়ে হীরার আংটিকে বিয়ের অপরিহার্য অংশ হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলেছিল ডি বিয়ার্স। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ সাল থেকে অপরিশোধিত হীরার মূল্য সূচক প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিশেষ করে খনি শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ও পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি চিন্তা করে অনেক তরুণ ক্রেতা এখন খনির প্রাকৃতিক হীরার চেয়ে ল্যাবরেটরিতে তৈরি সস্তা হীরার দিকে ঝুঁকছেন। এই বাজার পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ডি বিয়ার্সের ব্যবসায়। ডি বিয়ার্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা রয়েছে ‘অ্যাংলো আমেরিকান’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রসারের কারণে তামার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। ফলে অ্যাংলো আমেরিকান এখন তামার খাতের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে ডি বিয়ার্সকে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

১৮৭১ সালে বিতর্কিত ইংরেজ উপনিবেশবাদী সেসিল রোডসের হাত ধরে ডি বিয়ার্স প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রোডসের রেখে যাওয়া বিপুল সম্পদ ও বর্ণবাদী ইতিহাসের কারণে কোম্পানিটি এবং তার প্রতিষ্ঠিত স্কলারশিপগুলো (যেমন অক্সফোর্ডের রোডস স্কলারশিপ) এখনো প্রায়ই নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তবে এবার শত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিহাসের চেয়ে বড় সংকটে পড়েছে বৈশ্বিক বাজারের আধুনিক রূপান্তরের কারণে।