• ই-পেপার

মন্দার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বৃহত্তম হীরা খনিতে উৎপাদন বন্ধ করল ডি বিয়ার্স

ওপেনএআইয়ের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য হবে স্মার্ট স্পিকার: ব্লুমবার্গ

অনলাইন ডেস্ক
ওপেনএআইয়ের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য হবে স্মার্ট স্পিকার: ব্লুমবার্গ
ছবি: রয়টার্স

অ্যাপলের বাণিজ্যিক গোপন তথ্য চুরির অভিযোগে মামলার মুখে পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ভোক্তাদের জন্য একটি বহনযোগ্য, পর্দাহীন স্মার্ট স্পিকার বাজারে আনতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ নিউজ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পিকারের মতো দেখতে এই নতুন যন্ত্রটি এখনো উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে। এটি এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে, যা ঘরের ভেতরে ব্যবহারকারীর বিভিন্ন কাজে সাহায্য করতে পারবে। এই নতুন পণ্য এমন সময়ে আসছে, যখন ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে অ্যাপল বাণিজ্যিক গোপন তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ এনেছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে করা মামলায় অ্যাপল অভিযোগ করে, ভোক্তা হার্ডওয়্যার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ওপেনএআই পরিকল্পিতভাবে অ্যাপলের গোপন তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করেছে।

অ্যাপলের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি সাবেক কর্মী, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ওপেনএআই এখনো কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য ওপেনএআইয়ের জন্য আয়ের একটি নতুন উৎস তৈরি করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার সেবার জন্য পরিচিত হলেও হার্ডওয়্যার খাতে প্রবেশের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসা আরো বিস্তৃত করতে চাইছে।

গত বছর ওপেনএআই অ্যাপলের সাবেক প্রধান নকশাবিদ জনি আইভের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক যন্ত্র নির্মাতা স্টার্টআপ 'আইও' কিনে নেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের জন্য নতুন ধরনের যন্ত্র তৈরির লক্ষ্যেই এই অধিগ্রহণ করা হয়। এ জন্য ওপেনএআই প্রায় ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের নতুন যন্ত্রটিতে কোনো প্রচলিত পর্দা থাকবে না। তবে এতে ক্যামেরা ও বিভিন্ন ধরনের সেন্সর থাকবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে যন্ত্রটি ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ বুঝতে পারবে এবং আরো স্বাভাবিকভাবে সহায়তা দিতে পারবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্মার্ট স্পিকার দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পাশাপাশি গান শোনা, বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া, বার্তার জবাব দেওয়া এবং ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির উন্নত সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে।

ওপেনএআইয়ের পরিকল্পিত এই যন্ত্রে বর্তমান স্মার্ট স্পিকারের তুলনায় আরো উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর সঙ্গে আরো স্বাভাবিক ও কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা। এদিকে, ওপেনএআইয়ের হার্ডওয়্যার উদ্যোগে সহায়তা করছে জনি আইভের ডিজাইন প্রতিষ্ঠান 'লাভফ্রম'। প্রতিষ্ঠানটিতে অ্যাপলের অনেক সাবেক নকশাবিদ ও প্রকৌশলী কাজ করছেন, যারা আগে আইফোন ও ম্যাকের মতো জনপ্রিয় পণ্য তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নতুন পণ্য বাজারে আনার বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে মন্তব্য চাওয়া হলেও ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রক্সি গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব ব্রিটেনের

অনলাইন ডেস্ক
প্রক্সি গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব ব্রিটেনের
সংগৃহীত ছবি

ইউরোপে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনায় ইরানের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে দেশটির সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করেছে ব্রিটেন। মঙ্গলবার লন্ডনে ইরানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আলি নাসিমফারকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে এ বিষয়ে সরকারের উদ্বেগ জানানো হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্স চলতি বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর জন্য একটি প্রক্সি গোষ্ঠীকে নির্দেশ দিয়েছিল বলে তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আলি নাসিমফারকে তলব করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ওই প্রক্সি গোষ্ঠীর নাম ‘ইসলামিক মুভমেন্ট অব দ্য কম্প্যানিয়নস অব দ্য রাইট’। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, এই ধরনের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো জানায়, বহুবার সতর্ক করার পরও ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বরং তারা ইউরোপে এসব কর্মকাণ্ড আরো বাড়ানোর চেষ্টা করেছে বলে যুক্তরাজ্যের অভিযোগ।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নিয়মিত দাপ্তরিক সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা বিদেশে হামলা চালাতে কোনো প্রক্সি গোষ্ঠী ব্যবহার করে না। এর এক দিন আগে, সোমবার, নতুন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করে আইআরজিসি এবং এর সঙ্গে যুক্ত একটি গোষ্ঠীকে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। সরকারের ভাষ্য, বিদেশি রাষ্ট্রগুলো যাতে প্রক্সি গোষ্ঠীর মাধ্যমে নজরদারি, নাশকতা বা অন্য কোনো গোপন অভিযান চালাতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। মঙ্গলবার ইরান জানায়, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি আনুষ্ঠানিক অংশ। তাই একটি রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে এমন পদক্ষেপ নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করেছে তারা। কুদস ফোর্স হলো আইআরজিসির বিশেষ শাখা, যা ইরানের বাইরে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আগেই আইআরজিসিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ব্রিটেন ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কূটনৈতিক টানাপড়েন বেড়েছে। ইউরোপে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই প্রক্সি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ এবং ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলবের ঘটনাকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গাজায় পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৭

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৭
ছবি : রয়টার্স

গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা, আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার জাবালিয়ার একটি ব্যস্ত বাজারের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে পুলিশ পোস্টটি লক্ষ্য করে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। হামলার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের মানুষ আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে স্থানীয় থানার প্রধান কর্নেল মোহাম্মদ মারওয়ান সালেম রয়েছেন। এ ছাড়া আরো কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, কর্নেল মারওয়ান সালেম হামাসের সেন্ট্রাল জাবালিয়া ব্যাটালিয়নের সামরিক নিরাপত্তা প্রধান ছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় তার সঙ্গে আরো তিনজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছেন। 

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত অন্য তিনজন হলেন আবদুল মালিক আল-জাবিন, ঘাসান আল-দাকাস এবং ইয়ামান আবু ওবেইদা। সেনাবাহিনীর দাবি, প্রথম দুজন পুলিশ কর্মকর্তা হলেও তারা হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। হামলায় নিহত ও আহতদের গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিহত এক পুলিশ কর্মকর্তার চাচা মোহাম্মদ মুসা বলেন, তার ভাতিজা কোনো যোদ্ধা ছিলেন না, তিনি বেসামরিক পুলিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, তার ভাতিজা একটি বেসামরিক গাড়িতে করে ফালুজাহ রাউন্ডঅ্যাবাউট এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিলেন। সেই সময় একটি নজরদারি ড্রোন তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন বেসামরিক পুলিশ সদস্যকে কেন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো। এদিকে একই দিনে দক্ষিণ গাজাতেও পৃথক হামলায় আরো দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, খান ইউনিস এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় হামাসের একজন সদস্যকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। অন্যদিকে রাফাহ এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে ১০ বছর বয়সী মুয়াতাজ আবু শার নামে এক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। শিশুটির ফুফু সুজান আবু শার বলেন, হামলার সময় মুয়াতাজ নিজের তাঁবুর ভেতরে কাপড় বদলাচ্ছিল। তার ভাষায়, ছেলেটি ছিল তার মায়ের একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন, এখন গাজায় কোথাও নিরাপদ আশ্রয় নেই। সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। তিনি যুদ্ধ বন্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।

রাফায় শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাস প্রায় প্রতিদিনই একে অপরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। উভয় পক্ষই বলছে, অপর পক্ষ যুদ্ধবিরতির শর্ত মানছে না। গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ১১০ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, একই সময়ে ফিলিস্তিনি হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে ইসরায়েল গাজায় বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেই অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।


 

বিশেষ উপায়ে কেক বানিয়ে মহাকাশেই জন্মদিন পালন নভোচারীদের

অনলাইন ডেস্ক
বিশেষ উপায়ে কেক বানিয়ে মহাকাশেই জন্মদিন পালন নভোচারীদের
সংগৃহীত ছবি

পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল উঁচুতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) উদযাপিত হলো নাসা মহাকাশচারী জেসিকা মেয়ারের জন্মদিন। মহাকাশের শূন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে (মাইক্রোগ্র্যাভিটি) উপেক্ষা করে সহকর্মী নভোচারীরা তার জন্য তৈরি করেছেন এক বিশেষ স্পেস কেক। মহাকাশ স্টেশনে কেক বানানোর এই অবিশ্বাস্য ও মজার ভিডিওটি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা হয়েছে।

মহাকাশে সাধারণত ওভেনের মাধ্যমে বেকিং করা সম্ভব নয়। কারণ সেখানে খাবারের গুঁড়ো বাতাসে ভেসে বেড়ালে তা মহাকাশ স্টেশনের সংবেদনশীল যন্ত্রপাতির ক্ষতি করতে পারে। তাই কেক তৈরিতে নভোচারীদের বেশ সৃজনশীল উপায় বেছে নিতে হয়েছে। রুশ নভোচারী আন্দ্রেই ফেদায়েভ পুরো কেকটি তৈরি করেন এবং এর প্রস্তুতপ্রণালী ক্যামেরাবন্দি করেন। কেকটির মূল উপকরণ ছিল মিষ্টি কনডেন্সড মিল্ক, হালকা মধু রুটির স্তর, দই ও পানিতে ভিজিয়ে রাখা বেরি ফল। বাতাসে যাতে উপাদানগুলো উড়ে না যায়, সে জন্য একটি বিশেষ প্লেটের ওপর আঠালোভাবে কেকের স্তরগুলো সাজানো হয়।

জন্মদিনের এই বিশেষ আয়োজনে উচ্ছ্বসিত জেসিকা মেয়ার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমাদের সহকর্মীরা মহাকাশের রান্নাঘরে এতটাই পারদর্শী যে আমি পৃথিবীতে থাকার চেয়ে এখানে অনেক বেশি কেক খেয়েছি! আমার জন্মদিনকে এতটা বিশেষ করে তোলার জন্য এক্সপেডিশন ৭৪-এর সবাইকে ধন্যবাদ।’

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থাও (ইএসএ) ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে কেকটিকে ‘অত্যন্ত সুস্বাদু’ বলে মন্তব্য করেছে। ভিডিওটি অনলাইনে আসার পর মহাকাশে কিভাবে সব কিছু আটকে রইলো, তা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে।