• ই-পেপার

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি বন্দি, দাঙ্গার পর শ্রীলঙ্কার কারাগার সংস্কারের দাবি

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ৯ দিন পর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন মা

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি বাহিনীর গুলি, ৯ দিন পর ছেলের মরদেহ উদ্ধার করলেন মা
রয়টার্স ছবি

ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন মোহাম্মদ আবু খাম্মাশ। এরপর টানা ৯ দিন খোলা আকাশের নিছে পড়েছিল তার মরদেহ। অবশেষে অনুমতি পেয়ে ছেলে মরদেহ উদ্ধার করলেন মা।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে স্বজনরা জানিয়েছেন, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ‘ইয়েলো লাইন’ নামে পরিচিত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করলে ৯ দিন আগে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

পরিবারের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ার পর মরদেহটি দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিছে পড়ে ছিল। মরদেহ উদ্ধারের অনুমতি পেতে তাদের নয় দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। 

অবশেষে মরদেহটি একটি কালো ব্যাগে করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় খোলা স্থানে পড়ে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছিল বলে স্বজনরা জানান।

ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি হামলায় হামাসের শীর্ষ কমান্ডার নিহত
সংগৃহীত ছবি

গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলছে, শুক্রবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত ওই কমান্ডারের নাম ইয়াহইয়া সাঈদ মোহাম্মদ হামদান। তিনি হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের নুখবা ইউনিটের প্রধান ছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের রেইম এলাকায় চালানো হামলার নেতৃত্বে জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ গাজায় বৃহস্পতিবার পরিচালিত একটি নির্ভুল বিমান হামলায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ওই কমান্ডার সেখানে অভিযান পরিচালনাকারী তাদের সেনাদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি হয়ে উঠেছিলেন।

মমতার দলকে ভাঙতে বিজেপির কৌশল

অনলাইন ডেস্ক
মমতার দলকে ভাঙতে বিজেপির কৌশল
সংগৃহীত ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলের ৩ সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন।

তারা হলেন সুশ্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় ও প্রকাশ চিক বরাইক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলটি তাদের শূন্য হওয়া তিনটি রাজ্যসভা আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে। আগামী ২৪ জুলাই এসব আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর বিজেপির পরিকল্পনা এখানেই শেষ নয়। তৃণমূলের আরেক রাজ্যসভা সদস্য রুক্মিণী মল্লিক ইতোমধ্যে ই-মেইলে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন এবং শিগগিরই সরাসরি সাক্ষাৎ করে তা জমা দেবেন।

এ ছাড়া দলটির অবশিষ্ট রাজ্যসভা সদস্যদের মধ্য থেকে আরো দুজন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে দাবি করেছে সূত্র।

তৃণমূল তত্ত্ব

তৃণমূলের সাবেক নেতাদের দলে নেওয়ার বিষয়ে বিজেপির আগের অবস্থানের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্তের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

এর আগে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের দলে না নেওয়ার কথা বললেও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য এই তিন নেতাকে দলে নেওয়াকে ‘ব্যতিক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও এর আগে তিনি ‘ভালো তৃণমূল’ ও ‘খারাপ তৃণমূল’ তত্ত্বও তুলে ধরেছিলেন।

রাজ্যসভায় বিজেপির শক্তি বাড়ছে

রাজ্যসভায় ভাঙনের আগে তৃণমূলের সদস্যসংখ্যা ছিল ১৩। দলত্যাগ করে সরাসরি দল ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা (৯ জন) না পাওয়ায় বিজেপি পদত্যাগ করিয়ে নিজেদের প্রতীকে পুনর্নির্বাচিত করার কৌশল নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একদিকে তৃণমূলের শক্তি কমছে, অন্যদিকে রাজ্যসভায় বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

২৪ জুলাইয়ের উপনির্বাচনের পর রাজ্যসভায় বিজেপির সদস্যসংখ্যা বেড়ে ১১৭-এ পৌঁছাবে, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এককভাবে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১২৩ জন) জন্য তখন তাদের প্রয়োজন হবে মাত্র ছয়টি আসন।

এর সঙ্গে সাতজন মনোনীত সদস্য এবং তিনজন স্বতন্ত্র সদস্য (পরিমল নাথওয়ানি, কার্তিকেয় শর্মা ও দিলীপ রায়) সমর্থন দিলে বিজেপির সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৭ জনে, যা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অতিক্রম করবে। মিত্রদের নিয়ে দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার (১৬৪ জন) আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। 

বর্তমানে বিজেপির জোটসঙ্গীদের রাজ্যসভায় মোট ২৬ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি), এআইএডিএমকে, জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং এনসিপির চারজন করে সদস্য রয়েছেন। শিবসেনা ও ইউপিপিএলের দুজন করে সদস্য এবং আরপিআই (এ), এজিপি, এমএনএফ, এনপিপি, আরএলএম ও জনসেনা পার্টির একজন করে সদস্য রয়েছেন।

এদিকে বর্তমানে এনডিএ জোটের রাজ্যসভায় মোট সদস্যসংখ্যা ১৫৩, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে মাত্র ১১ কম।

লোকসভাতেও তৃণমূলে ‘ভাঙন কৌশল’

লোকসভাতেও তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর পৃথক কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে তৃণমূলের ২৮ জন এমপির মধ্যে ২০ জন একটি ছোট দল এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হয়ে এনডিএকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই একীভূতকরণ কার্যকর করতে লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন প্রয়োজন।

এর ফলে লোকসভায় এনডিএর শক্তি বাড়লেও এখনও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমায় পৌঁছাতে পারেনি।

দ্বিমুখী আইনি লড়াই মমতার

দিল্লি থেকে কলকাতা—দুই জায়গাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে চাপে ফেলতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬০ জনের বেশি বিধায়ক তৃণমূল ছেড়ে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

এই গোষ্ঠী নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছেও দলীয় প্রতীক পাওয়ার আবেদন করেছে। কমিশন শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন দুই ফ্রন্টে আইনি লড়াই করতে হবে। প্রথমত, কলকাতায় তার গোষ্ঠীই প্রকৃত তৃণমূল—এটি প্রমাণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দিল্লিতে প্রমাণ করতে হবে যে বিদ্রোহী ২০ জন লোকসভা সদস্য আইনগতভাবে দলত্যাগ করতে পারেন না এবং তাদের সদস্যপদ বাতিল করা উচিত। 

এ বিষয়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ২০ জন এমপির এনসিপিআইয়ে একীভূত হওয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব
ছবি : রয়টার্স

ফিলিপাইনের ওরিয়েন্টাল মিন্ডোরো প্রদেশে পাখিদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।

বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে পোল্ট্রি খাতে বড় ক্ষতি করেছে। এর ফলে খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন, দাম বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়েছে।

বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ফিলিপাইনের কাপালান শহরের একটি খামারের ৩৯টি পোল্ট্রির মধ্যে এইচ৫এন১ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে খামারের সব পাখি মেরে ফেলা হয়েছে। এদিকে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার একটি সামুদ্রিক পাখির মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। 

এতোদিন অস্ট্রেলিয়া এই ভাইরাসের এই স্ট্রেইন থেকে মুক্ত ছিল। জুন মাস থেকে দেশটিতে ১২টি এইচ৫ সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে, যা সবই পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখির মধ্যে পাওয়া গেছে। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার রোব শহরে একটি গ্রেটার ক্রেস্টেড টার্ন পাখি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেছেন, ঘটনাটি উদ্বেগজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত এইচ৫ বার্ড ফ্লুর কারণে ব্যাপক হারে পাখি মারা যাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। তিনি আরো বলেন, ভাইরাসটি অন্যান্য প্রাণী, হাঁস-মুরগি বা কৃষি খাতে ছড়িয়ে পড়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি এবং মানুষের জন্য ঝুঁকিও কম। তবে বিজ্ঞানীরা কীভাবে ভাইরাসটি অস্ট্রেলিয়ার ওই পাখির মধ্যে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখছেন।

কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স বলেন, আক্রান্ত সামুদ্রিক পাখিটির বিচরণক্ষেত্র পরিযায়ী সামুদ্রিক পাখিদের চলাচলের এলাকার সঙ্গে মিলে যায়। এর আগে ওই পরিযায়ী পাখিদের শরীরেও এইচ৫ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। তিনি জানান, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্য সরকার পাখিটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেই এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই মারাত্মক ভাইরাস অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণীর জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠতে পারে। দেশটির অনেক প্রাণী ও পাখির প্রজাতি পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। অস্ট্রেলিয়ার প্রায় অর্ধেক বন্য পাখির প্রজাতি এবং ৮৩ শতাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী দেশটির নিজস্ব।

এইচ৫ বার্ড ফ্লুতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে জলচর পাখি, উপকূলীয় পাখি, সামুদ্রিক পাখি এবং শিকারি পাখি। এ ছাড়া সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর পাশাপাশি বিড়াল, ছাগল, আলপাকা ও শূকরের মধ্যেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখছেন, উপ-অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের মাধ্যমে ভাইরাসটি অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করেছে কি না।  গত জুনে বিজ্ঞানীরা জানান, উপ-অ্যান্টার্কটিকায় অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যন্ত হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জের একটি প্রজনন কলোনিতে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর সংক্রমণে ১৩ হাজারের বেশি এলিফ্যান্ট সিলের শাবকের মৃত্যু হয়েছে।