• ই-পেপার

খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ায় ভারতকে ইরানের ধন্যবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে জলবিমানের ‘কঠিন অবতরণ’, উদ্ধার ৮ জন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে জলবিমানের ‘কঠিন অবতরণ’, উদ্ধার ৮ জন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইস্ট নদীতে জরুরি অবতরণ করা একটি জলবিমান থেকে আটজনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে দমকল বিভাগ। দুর্ঘটনায় দুজন সামান্য আহত হলেও তারা হাসপাতালে যেতে বা চিকিৎসা নিতে রাজি হননি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ)।

স্থানীয় সময় দুপুরে ম্যানহাটনের ইস্ট ২৩তম স্ট্রিট ও এফডিআর ড্রাইভের কাছে ইস্ট নদীতে একটি বিমান পতিত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিউইয়র্কের দমকল বিভাগের সদস্যরা। তখন জলবিমানটি পানিতে সোজা অবস্থায় ভাসছিল। পরে সেটিকে টেনে কাছের ঘাটে নিয়ে আসা হয়। দমকল বিভাগ জানায়, উদ্ধার হওয়া বিমানটি ছিল একটি কোডিয়াক ১০০ জলবিমান। এতে থাকা আটজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের সামান্য আঘাত লাগে। তবে তারা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এফএএ জানায়, পাইলট বিমানটি খুবই দৃঢ়ভাবে অবতরণ করেছিলেন। এতে বিমানের ডানার একটি সহায়ক অংশ ভেঙে যায়। বিমান চলাচলের ভাষায় ‘কঠিন অবতরণ’ (হার্ড ল্যান্ডিং) বলতে এমন অবতরণকে বোঝায়, যখন বিমান স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জোরে বা বেশি গতিতে মাটি বা পানিতে নামে। এতে বিমানের নিরাপদ অবতরণের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হয় এবং ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এফএএ আরো জানায়, দুর্ঘটনার সময় আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ওই বিমানটিকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশনা দিচ্ছিল না। নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জলবিমানটি নিউইয়র্কের জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র হ্যাম্পটনস থেকে উড়ে এসেছিল। এটি একটি জলবিমান ঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বিমানটি নদীর বড় একটি ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এর পর সেটি আংশিকভাবে উল্টে যায় এবং জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

এর আগেও একই নদীতে জলবিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, ১৩ জুন, ইস্ট নদী থেকে উড্ডয়নের চেষ্টা করার সময় দুই আসনের একটি ছোট জলবিমান বড় একটি ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিবিএস নিউজ জানায়, ওই ঘটনায় বিমানটি কুইন্স এলাকার কাছে নদীতে পড়ে যায়। পরে দমকল বিভাগের সদস্যরা পাইলট ও একজন যাত্রীকে একটি নৌকায় তুলে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় দিল্লির একটি আবাসিক সোসাইটি থেকে আকৃতি সুতার (২৮) নামে এক নববধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পুষ্প বিহারের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লোধি কলোনির একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। আকৃতির পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার বেকার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আকৃতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল আট বছরের প্রেমের পর আরস্তু সিক্কা নামের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ছুটির পর শনিবারই আকৃতি ছাতারপুরের একটি বেসরকারি কম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অফিসে যোগ দিয়ে আকৃতি সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন। এমনকি মৃত্যুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার সময়ও তার আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তিনি মাকে জানিয়েছিলেন যে, পার্টি শেষ করে তিনি বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।

আকৃতির কাকা মনঞ্জয় সুতার জানান, সন্ধ্যা ৬টায় মায়ের সাথে কথা বলার ঠিক দুই ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত ৮টার দিকে আকৃতির স্বামী আরস্তু ফোন করে জানান যে আকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ পরিবারটিকে জানায় যে, লোধি কলোনির পালিকা কুঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক সোসাইটির নিচে এক নারীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। পরে জানা যায় সেটি আকৃতির মরদেহ।

আকৃতির ২৪ বছর বয়সী ভাই অময় সুতার আত্মহত্যার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার বোন মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন এবং তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বেকার স্বামী আরস্তু ও তার আত্মীয়রা আকৃতির ওপর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। যৌতুকের দাবিতে আকৃতিকে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও যৌতুক নিয়ে আরস্তুর সাথে আকৃতির ঝগড়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত হতে সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশবাহিনী। এতে সাতজন নিহত এবং আরো ২৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো ও মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন

মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার পর উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর বিধ্বস্ত ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য কাজ করেছে। রাজধানীর পোডিলস্কি জেলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই এলাকাটি থেকে মোট ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়টি শিশুও রয়েছে। 

কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎস্কি জেলাতেও রুশবাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, একটি ২৫ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোনের টুকরো আঘাত হানলে দুজন নিহত হন। পাশেই অবস্থিত একটি ৩০ তলা ভবনে আগুন লেগে যায়। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের (২ জুলাই) এক হামলায় এই ভবনটিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিল। সে সময় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোরে রাজধানী ও তার আশপাশে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং রুশ ড্রোন ঠেকাতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। ভয়াবহ এই হামলার পর কিয়েভের বহুতল ভবনগুলোতে আগুন লেগে যায় এবং ভেতরের অংশ ধসে পড়ে। হামলার কারণে বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শহরের বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। এ কারণে প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহরের হাজার হাজার বাসিন্দা মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজগুলোতে ভিড় জমান।

এই হামলার আগেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে সম্ভাব্য রুশ বিমান হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ পোল্যান্ড, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অল্প সময়ের জন্য আকাশে যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিল।

নৌ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে কিম জং উন

অনলাইন ডেস্ক
নৌ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে কিম জং উন
ছবি : রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে শক্তিশালী ও পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার লক্ষ্যে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলেন দেশটির শীর্ষ নেতা কিম জং উন। ৫০০০ টনের যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’ থেকে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিভিন্ন অত্যাধুনিক অস্ত্রের পরীক্ষা স্বশরীরে তদারকি করেছেন তিনি। রবিবার (৫ জুলাই) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

কেসিএনএ জানায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করে কিম জং উন এই সামরিক পরীক্ষাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। নতুন এই ডেস্ট্রয়ার বা যুদ্ধজাহাজটির যুদ্ধ সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা চালানো হয়। যার মধ্যে রয়েছে; একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, জাহাজের প্রধান কামান ও স্বয়ংক্রিয় কামানের নিখুঁত ফায়ারিং, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণের কার্যকারিতা মূল্যায়ন। পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের পর কিম জং উন সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে সমস্ত ট্রায়াল শেষ করে যুদ্ধজাহাজটিকে সরাসরি সক্রিয় ডিউটিতে (যুদ্ধক্ষেত্রে) মোতায়েন করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।  

উল্লেখ্য, এই ‘ক্যাং কন’ ডেস্ট্রয়ারটি ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথম উন্মোচন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার চংজিন বন্দরে উদ্বোধনের সময় একটি ত্রুটির কারণে জাহাজটি আংশিক উল্টে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনায় কিম জং উন তৎকালীন কর্মকর্তাদের ওপর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীতে কঠোর গোপনীয়তায় দীর্ঘ মেরামতের পর চলতি বছরের জুনে এটি আবার পানিতে নামানো হয়। নৌবাহিনীকে পারমাণবিক শক্তিধর করার মিশনব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি কিম জং উন এখন নৌবাহিনীর শক্তি আধুনিকায়নে জোর দিচ্ছেন। এর আগে, গত জুন মাসের শেষের দিকে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রথম ৫০০০-টনের ডেস্ট্রয়ার ‘চোয়ে হিয়ন’-কে নৌবাহিনীতে যুক্ত করে। সেই অনুষ্ঠানে কিম ঘোষণা করেছিলেন, তার নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার পরিকল্পনা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।  

দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের কারণেই এই ধরনের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে এই জাহাজগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনেক বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন। কিম জং উন আগামী পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর দুইটি করে নতুন ৫০০০ টনের যুদ্ধজাহাজ তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সীমানা আরো বাড়াতে একটি বিশাল ১০০০০ টনের শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার তৈরির কাজও শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।