• ই-পেপার

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২

যুক্তরাষ্ট্র ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ নয়, ভারতকে টেনে ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ নয়, ভারতকে টেনে ভ্যান্সকে নেতানিয়াহুর পাল্টা জবাব
সংগৃহীত ছবি

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, বিশ্বের যেসব দেশ ইসরায়েলকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন করে, তাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। তিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আরো অনেক দেশ তাদের পাশে রয়েছে।

রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হলেও ভারত থেকেও তারা ব্যাপক সমর্থন পেয়ে থাকেন। নেতানিয়াহু বলেন, তিনি জেডি ভ্যান্সকে সম্মান করেন এবং তার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন। তিনি বলেন, 'ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে থাকাকালে আমরা সবচেয়ে বড় বন্ধুকে পেয়েছি। এ বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমাদের আর কোনো শক্তিশালী বন্ধু নেই।' এরপর তিনি ভারতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। নেতানিয়াহু বলেন, 'ভারত একটি বিশাল দেশ। সেখানে প্রায় ১৪০ কোটি মানুষ বাস করেন। আমরা সেখান থেকে অসাধারণ সমর্থন পাই। আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভারতের মানুষের সমর্থনের অসংখ্য বার্তা আসে।'তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কিছু অংশে ইসরায়েলের সমালোচনা দেখা গেলেও বাস্তবে বিশ্বের অনেক দেশ এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

নেতানিয়াহুর দাবি, বিভিন্ন দেশের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তা, সামরিক কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সাইবার নিরাপত্তার মতো খাতে ইসরায়েলের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চান। তিনি বলেন, 'অনেক নেতা আমাকে ফোন করে বলেন, নিজেদের দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তারা প্রকাশ্যে সব সময় অবস্থান জানাতে পারেন না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তারা ইসরায়েলকে সম্মান করেন এবং আমাদের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে আগ্রহী।' প্রযুক্তি খাতে ইসরায়েলের অবস্থান নিয়েও কথা বলেন নেতানিয়াহু। তার দাবি, সাইবার প্রযুক্তিতে ইসরায়েল বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। তিনি বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের কারণে অনেক দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করতে চায়।

জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যের জবাব দিতেই নেতানিয়াহু এসব কথা বলেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স বলেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত তাদের ‘একমাত্র শক্তিশালী মিত্র’ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আক্রমণাত্মক অবস্থান না নেওয়া। সে সময় ভ্যান্সের এই মন্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে। ইসরায়েলের কিছু নেতা ওই আলোচনা এবং সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স বলেছিলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করতেন না। 

এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পর এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পও জানিয়েছেন, টেলিফোনে আলোচনার পর দুই নেতা শিগগিরই মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের ব্যস্ত সফরসূচির কারণে বৈঠকটি আগামী সপ্তাহে হতে পারে। ইরান, লেবানন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কিছু মতপার্থক্যের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সেই মতভেদ থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলের আগামী অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই নেতা ওয়াশিংটনে বৈঠক করতে সম্মত হয়েছেন।


 

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচার শুরু আজ
ছবি: রয়টার্স

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন অভিযোগের বিচার শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। এ জন্য দেশটির সিনেট অভিশংসন আদালত হিসেবে বসবে। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে সারা দুতের্তের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই এই বিচার শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ বিচার দেশটির রাজনৈতিক উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিচার শুরুর আগে রাজধানী ম্যানিলায় সিনেট ভবন ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ছয় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, বিচার শুরুর দিন সারা দুতের্তের সমর্থক ও বিরোধী- উভয় পক্ষই বিক্ষোভ করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের দেখা বিচার-সংক্রান্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিচার শুরুর দিনে সারা দুতের্তে অথবা তার আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারবেন। পুরো বিচারপ্রক্রিয়া ৯২ দিন চলার কথা রয়েছে। 

সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্থায়ীভাবে সরকারি যেকোনো পদে দায়িত্ব পালনের অযোগ্য হয়ে যেতে পারেন। এতে ২০২৮ সালে তার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনাও বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। ওই নির্বাচনেই প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের ছয় বছরের মেয়াদ শেষ হবে। ভাইস প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অজানা উৎস থেকে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া গোপন রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ ছাড়া প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে সারা দুতের্তে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিচার শুরুর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দিতে রাজি হননি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও তাঁর রাজনৈতিক মিত্ররা পরিকল্পিতভাবে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সিনেট সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

২০২২ সালের নির্বাচনে ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও সারা দুতের্তে একই জোট থেকে প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হন। সে সময় ফিলিপাইনের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই রাজনৈতিক পরিবারের সমর্থন একত্রিত করতেই এই জোট গড়ে উঠেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। সারা দুতের্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের মেয়ে। রদ্রিগো দুতের্তে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) নির্দেশে গ্রেপ্তার হন। পরে তাকে নেদারল্যান্ডসের হেগে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানেই আটক রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামী ৩০ নভেম্বর তার বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল ভিত্তি তার প্রেসিডেন্ট থাকাকালে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযান। ওই অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন দরিদ্র এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তি। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল, পশ্চিমা দেশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। যদিও রদ্রিগো দুতের্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সারা দুতের্তের অভিযোগ, তার ৮১ বছর বয়সী বাবাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের হাতে তুলে দেওয়ার পেছনে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের ভূমিকা রয়েছে। দুই পরিবারের পররাষ্ট্রনীতিতেও বড় পার্থক্য রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বাড়তে থাকা তৎপরতার বিরোধিতা করে আসছে তার সরকার। 

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকিও দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী ফিলিপাইনের নৌবাহিনী ও জেলেদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জলকামান ব্যবহার করলেও সারা দুতের্তে প্রকাশ্যে তার নিন্দা করেননি। এ কারণে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। গত মাসে ফিলিপাইনের প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল ভোটে সারা দুতের্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট মার্কোসের সমর্থকদেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সারা দুতের্তেকে দোষী সাব্যস্ত করতে ২৪ সদস্যের সিনেটে অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন লাগবে। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এবং সরকারি পদে থাকার অধিকার হারাতে পারেন।

এদিকে বিচার শুরুর আগেই দুতের্তে-সমর্থক কয়েকজন সিনেটর আইনি সমস্যায় পড়েছেন। দুতের্তে-ঘনিষ্ঠ সিনেটর জিংগয় এস্ট্রাডাকে গত মাসে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। দুতের্তে-সমর্থক আরেক সিনেটর রোদান্তে মারকোলেতার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণ এবং সম্পদের ঘোষণায় সেই অর্থ গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনিও কোনো অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এ ছাড়া সাবেক জাতীয় পুলিশপ্রধান ও বর্তমান সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা আত্মগোপনে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত রদ্রিগো দুতের্তের আমলের হত্যাকাণ্ডে সহঅভিযুক্ত হিসেবে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। দুতের্তের মাদকবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অপহরণচেষ্টা থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
অপহরণচেষ্টা থেকে নারীকে বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত
সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক নারীকে অপহরণের চেষ্টা থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন দিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। নিহত ওই কর্মকর্তার নাম গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক, যিনি বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। রবিবার (৫ জুলাই) ইসলামাবাদে বিমানবাহিনীর সদর দপ্তর এবং এয়ার ইউনিভার্সিটির কাছে ‘শাহীন চক’ এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে

পাকিস্তান বিমানবাহিনী ও স্থানীয় পুলিশের তথ্য মতে, ঘটনার সময় গ্রুপ ক্যাপ্টেন আসিম তারিক শাহীন চক এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি দেখতে পান, এক নারী মোটরসাইকেল আরোহী এক ব্যক্তির সঙ্গে তীব্র তর্ক করছেন এবং ওই নারী অত্যন্ত বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন। নারীটিকে বিপদে পড়তে দেখে আসিম তারিক অবিলম্বে এগিয়ে যান এবং মোটরসাইকেল আরোহীকে বাধা দেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তারিকের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে মোটরসাইকেল আরোহী ওই ব্যক্তি আচমকা একটি হ্যান্ডগান (পিস্তল) বের করে তারিকের ওপর সরাসরি গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন এই কর্মকর্তা এবং ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তাকর্মীরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারী ব্যক্তি তার মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে ভুক্তভোগী ওই নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করে। তদন্তে জানা যায়, হামলাকারী ব্যক্তি ওই নারীর অপরিচিত কেউ ছিল না, বরং তার অফিসেরই একজন সহকর্মী। ওই নারী পুলিশকে জানান, কাজ শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সহকর্মীর মোটরসাইকেলে লিফট নেওয়ার প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর ওই সহকর্মী তার অনুমতি ছাড়াই পরিকল্পিত রাস্তা পরিবর্তন করে একটি নির্জন এলাকার দিকে (শাহীন চকের দিকে) যেতে শুরু করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই নারী মোটরসাইকেল থেকে নামার চেষ্টা করেন এবং তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা আসলে একটি অপহরণের চেষ্টা ছিল।

হত্যাকাণ্ডের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি এবং তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়েও তাৎক্ষণিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী

অনলাইন ডেস্ক
খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যুক্তরাজ্য থেকে তেহরানে ফিরলেন ইরানি নারী
ছবি : রয়টার্স

খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাজ্য থেকে ৪০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তেহরানে এসেছেন মাজিয়া নামে এক ইরানি নারী। তিনি জানান, শুধু এই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্যই তিনি দেশে ফিরেছেন।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় যাওয়ার পথে তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বকে জানাতে এসেছি যে ৪ হাজার বছরের পুরনো একটি সভ্যতাকে কেউ ধ্বংস করতে পারবে না। যে এটি ধ্বংস করতে চায়, সে আসলে নিজের দেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’ তার এই মন্তব্যকে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। তবে মাজিয়ার মতে, যুদ্ধের প্রভাব হয়েছে ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ ইরানকে আরো শক্তিশালী করেছে। এটি দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।’ মাজিয়া আরো দাবি করেন, বিদেশি চাপ ইরানিদের জাতীয় ঐক্য ও সংকল্পকে  দৃঢ় করেছে। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর হস্তক্ষেপমূলক নীতিরও সমালোচনা করেন।

তার ভাষায়, ‘যারা অন্য দেশের সম্পদ কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে হবে।’ এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ করেন। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় প্রবেশের আগে তিনি পশ্চিমা গণতন্ত্রের ধারণাকেও প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ‘সিরিয়া, ইরাক বা আফগানিস্তানে যে ধরনের গণতন্ত্র দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই।’

মাজিয়া বলেন, মিনাবের ট্র্যাজেডির স্মৃতি এখনো তাদের মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই শোকাবহ ঘটনা ভুলে যাইনি। এক দিনের জন্যও না।’ তিনি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতে তাদের সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানান। তার দাবি, নিরীহ শিশুদের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এসব যুদ্ধ মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থ দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে ইরানের পতাকা হাতে শোকাহত মানুষের ঢল তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে অব্যাহত রয়েছে, যেখানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মরদেহ শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে। প্রয়াত নেতার শাহাদাত স্মরণে শিয়া সম্প্রদায়ের শোকগীতি রাজধানীজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ ধৈর্য ধরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

তেহরানের প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা, কালো শোকের ব্যানার ও ধর্মীয় প্রতীকে সজ্জিত। শহরের প্রায় প্রতিটি মোড়ে অবস্থান নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা ক্রমেই বাড়তে থাকা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও পথনির্দেশনায় কাজ করছেন। আয়োজকদের ধারণা, শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আলী খামেনি ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁকে বিদায় জানাতে তেহরানজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীজুড়ে শোক, ধর্মীয় আবেগ ও রাজনৈতিক প্রতীকের ছাপ স্পষ্ট। তবে এরই মধ্যে আরেকটি দৃশ্যও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মিনাবের একটি মেয়েদের স্কুলে কথিত মার্কিন হামলায় নিহত ১৫০ জনেরও বেশি শিশুর ছবি সংবলিত পোস্টার টাঙানো হয়েছে। শোকবার্তার পাশে রাখা এসব ছবি মানুষকে বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতার কথা।

ইরান যখন সাম্প্রতিক দশকগুলোর সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতার দাফন সম্পন্ন করছে, তখনো যুদ্ধের ক্ষত দেশটির মানুষের মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে। নিহত শিশুদের ছবি সেই বেদনাদায়ক স্মৃতিকে আরো স্পষ্ট করে তুলছে। তেহরান থেকে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা সোমবার কুম শহরে যাবে। এরপর মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায়। সবশেষে ৯ জুলাই উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সারা দিন ধরে খামেনির জানাজা ও শোকানুষ্ঠান চলছে। সবচেয়ে আবেগঘন দৃশ্যগুলোর একটি হলো খামেনির কনিষ্ঠ নাতি-নাতনির ছবি, যা তার কফিনের পাশে রাখা হয়েছে। ছবিটি দেখে অনেক শোকাহত মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

এদিকে গ্র্যান্ড মোসাল্লায় মানুষের ঢল অব্যাহত রয়েছে। পুরো তেহরানজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষত এখনো মানুষের মনে তাজা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটির নেতৃত্ব অন্তত সাময়িকভাবে জনগণের বড় একটি অংশকে নিজেদের পাশে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।