প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হেনেছে চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন এই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়টি সোমবার (৬ জুলাই) সকালে নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের ‘রোটা’ দ্বীপের ওপর দিয়ে অতিক্রম করতে শুরু করে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, ঝড়টির কেন্দ্রস্থলে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১৮০ মাইলেরও বেশি, যা এই অঞ্চলে গত এপ্রিলের পর দ্বিতীয় কোনো শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত।
প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘গুয়াম’ থেকে মাত্র ৫০ মাইল উত্তরে ঝড়টি অবস্থান করায় সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী। টাইফুন ‘বাভি’র প্রভাবে গুয়াম ও এর আশপাশের দ্বীপাঞ্চলে ধ্বংসাত্মক বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেড় লাখের বেশি জনসংখ্যার এই দ্বীপে অ্যান্ডারসন বিমান ঘাঁটি ও নৌঘাঁটিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে। এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বি-১, বি-২ ও বি-৫২ বোমারু বিমান এবং পাঁচটি পরমাণুচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন মোতায়েন রয়েছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ঘাঁটিতে নিয়োজিত ৭০০০ এরও বেশি সক্রিয় সেনা সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম রক্ষায় সর্বোচ্চ স্তরের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, টাইফুনের প্রভাবে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগ অতিক্রম করার পরেও মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা ডেকে আনতে পারে। এ ছাড়া সাগরে ওঠা বিশাল ঢেউ ও প্রাণঘাতী জলোচ্ছ্বাসের কারণে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রোটা দ্বীপের উত্তরের দুই দ্বীপ সাইপান ও টিনিয়ানের বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অঞ্চলটি এখনো গত এপ্রিল মাসে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-৪ ঝড় ‘সুপার টাইফুন সিনলাকু’র ক্ষয়ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সিনলাকুর ধীরগতির কারণে সে সময় ২০ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত ও ব্যাপক বন্যা হয়েছিল, যার ফলে সাইপানের কিছু অংশ এখনো বিদ্যুৎহীন। সেই ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বাভির প্রভাবে সেখানে ঘণ্টায় ৭৪ মাইল বেগে ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ টিনিয়ান দ্বীপটির ওপর দিয়েও এই ঝড়ের প্রভাব যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ওপর পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপকারী মার্কিন বি-২৯ বোমারু বিমানগুলো এই দ্বীপ থেকেই ওড়া শুরু করেছিল। বর্তমানে গুয়ামের বিকল্প বিমানঘাঁটি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মার্কিন প্রশাসন এই দ্বীপটির সংস্কার কাজ চালাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, সুপার টাইফুন বাভি সোমবার বিকেল নাগাদ মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জ এলাকা ছেড়ে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৩ মাইল বেগে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে।





