• ই-পেপার

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৭

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২
ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৩৪২ জনে পৌঁছেছে। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে আহত ও গৃহহীন মানুষের সংখ্যাও আগের তুলনায় বেড়েছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৪৭০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে গৃহহীন হয়েছেন ১৭ হাজার ৩৪৫ জন। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ভূমিকম্পের পর সরকারের ভূমিকা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা বাড়ছে। অনেক মানুষ অভিযোগ করছেন, দুর্যোগের পর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত সহায়তাও পৌঁছায়নি। এ নিয়ে জনমনে অসন্তোষ বাড়তে থাকে।

এমন পরিস্থিতিতে রবিবার ভেনেজুয়েলার ২১৫তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। ভাষণে তিনি ভূমিকম্পের পর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের পক্ষে কথা বলেন এবং সমালোচনার জবাব দেন। রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পের পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়, যাতে উদ্ধারকাজ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়। তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরো দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য একটি নতুন সামরিক ইউনিট গঠন করা হবে। এই ইউনিট জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করবে।

সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি এখনও কঠিন। বহু মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতা

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতা
ছবি : রযটার্স

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে এসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে বাধ্য করতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানী অবকাঠামোয় উপর্যুপরি হামলা চালাচ্ছে। জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে। তারা ইউক্রেনের নতুন নতুন অঞ্চল দখলের দাবি করছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির টেলিফোন যুদ্ধ বন্ধে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

৪ জুলাই আমেরিকার ২৫০ বছর পুর্তির দিনে পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোন আলাপ হয়েছে। ৯০ মিনিট দীর্ঘ এ টেলিফোন আলাপে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে তার সহায়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শনিবার তা সঙ্গে ট্রাস্পের টেলিফোন আলাপ হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত দুই নেতার সঙ্গে ট্রাম্পের এই টেলিফোন সংলাপকে সাধারণ সৌজন্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে না।

বিশেষ করে পুতিনের সাথে ট্রাম্পের ৯০ মিনিট দীর্ঘ আলোচনা এবং তাতে যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার প্রস্তাব অনেককে আশাবাদী করছে। বিশেষ করে আগামীকাল  মঙ্গলবার তুরস্কের আঙ্কারায় শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে এ ত্রিপক্ষীয় ফোন কূটনীতি ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ন্যাটো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানা অস্বস্তি থাকলেও আঙ্কারা সম্মেলনে তিনি যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প এবং মার্কিন জনগণকে মার্কিন স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় আরো জানায়, চলতি বছরে এটি ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে চতুর্থ ফোনালাপ এবং কথোপকথনটি ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক।

ট্রাম্প ইউক্রেনীয় সংঘাতে যত দ্রুত সম্ভব শত্রুতা অবসানের সুবিধা করে দিতে তার প্রস্তুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।’ 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, ‘রাশিয়ান পক্ষ আবারও এই সংঘাতের একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিয়েছে।’ তবে তারা দাবি করেছে যে, ‘কিয়েভ এবং তার ইউরোপীয় পৃষ্ঠপোষকরা এই সংঘাতকে দীর্ঘায়িত এবং এমনকি আরও বাড়িয়ে তুলতে চাইছে।’

মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ‘আমাদের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন, যেখানে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে চলেছে।’

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, শনিবার ট্রাম্পের সাথে তারও একটি ‘খুব ভালো ফোনালাপ’ হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমেরিকার সংকল্পই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছিল যে তারা ন্যাটো বাহিনী মডেলে তাদের অংশগ্রহণ সঠিক আকারে কমিয়ে আনবে। জোটটি যাতে মার্কিন বাহিনীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়, সেটি মনে করিয়ে দিতেই মার্কিন এই ঘোষণা। তাই কাল থেকে শুরু হতে যাওয়া আঙ্কারা সম্মেলনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

তবে সম্মেলনের একদিন আগে পুতিন ও জেলেনস্কির সাথে যুদ্ধ বন্ধের ইস্যুতে টেলিফোন আলাপ করে ন্যাটো সম্মেলনের আলোচনার মূল ইস্যুই নিজের দিকে টেনে নিলেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধে সহায়তা চেয়েও না পাওয়ার পর থেকে ন্যাটোর ব্যাপারে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি ট্রাম্প।
 

যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে জলবিমানের ‘কঠিন অবতরণ’, উদ্ধার ৮ জন

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে জলবিমানের ‘কঠিন অবতরণ’, উদ্ধার ৮ জন
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ইস্ট নদীতে জরুরি অবতরণ করা একটি জলবিমান থেকে আটজনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে দমকল বিভাগ। দুর্ঘটনায় দুজন সামান্য আহত হলেও তারা হাসপাতালে যেতে বা চিকিৎসা নিতে রাজি হননি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ)।

স্থানীয় সময় দুপুরে ম্যানহাটানের ইস্ট ২৩তম স্ট্রিট ও এফডিআর ড্রাইভের কাছে ইস্ট নদীতে একটি বিমান পতিত হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিউ ইয়র্কের দমকল বিভাগের সদস্যরা। তখন জলবিমানটি পানিতে সোজা অবস্থায় ভাসছিল। পরে সেটিকে টেনে কাছের ঘাটে নিয়ে আসা হয়। দমকল বিভাগ জানায়, উদ্ধার হওয়া বিমানটি ছিল একটি কোডিয়াক ১০০ জলবিমান। এতে থাকা আটজনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের সামান্য আঘাত লাগে। তবে তারা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এফএএ জানায়, পাইলট বিমানটি খুবই দৃঢ়ভাবে অবতরণ করেছিলেন। এতে বিমানের ডানার একটি সহায়ক অংশ ভেঙে যায়। বিমান চলাচলের ভাষায় ‘কঠিন অবতরণ’ (হার্ড ল্যান্ডিং) বলতে এমন অবতরণকে বোঝায়, যখন বিমান স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জোরে বা বেশি গতিতে মাটি বা পানিতে নামে। এতে বিমানের নিরাপদ অবতরণের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম হয় এবং ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এফএএ আরো জানায়, দুর্ঘটনার সময় আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ওই বিমানটিকে কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশনা দিচ্ছিল না। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, জলবিমানটি নিউ ইয়র্কের জনপ্রিয় সমুদ্রতীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র হ্যাম্পটনস থেকে উড়ে এসেছিল। এটি একটি জলবিমান ঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় বিমানটি নদীর বড় একটি ঢেউয়ের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এর পর সেটি আংশিকভাবে উল্টে যায় এবং জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

এর আগেও একই নদীতে জলবিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র তিন সপ্তাহ আগে, ১৩ জুন, ইস্ট নদী থেকে উড্ডয়নের চেষ্টা করার সময় দুই আসনের একটি ছোট জলবিমান বড় একটি ঢেউয়ের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিবিএস নিউজ জানায়, ওই ঘটনায় বিমানটি কুইন্স এলাকার কাছে নদীতে পড়ে যায়। পরে দমকল বিভাগের সদস্যরা পাইলট ও একজন যাত্রীকে একটি নৌকায় তুলে নিরাপদে উদ্ধার করেন।

অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় দিল্লির একটি আবাসিক সোসাইটি থেকে আকৃতি সুতার (২৮) নামে এক নববধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পুষ্প বিহারের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লোধি কলোনির একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। আকৃতির পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার বেকার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আকৃতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল আট বছরের প্রেমের পর আরস্তু সিক্কা নামের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ছুটির পর শনিবারই আকৃতি ছাতারপুরের একটি বেসরকারি কম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অফিসে যোগ দিয়ে আকৃতি সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন। এমনকি মৃত্যুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার সময়ও তার আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তিনি মাকে জানিয়েছিলেন যে, পার্টি শেষ করে তিনি বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।

আকৃতির কাকা মনঞ্জয় সুতার জানান, সন্ধ্যা ৬টায় মায়ের সাথে কথা বলার ঠিক দুই ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত ৮টার দিকে আকৃতির স্বামী আরস্তু ফোন করে জানান যে আকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ পরিবারটিকে জানায় যে, লোধি কলোনির পালিকা কুঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক সোসাইটির নিচে এক নারীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। পরে জানা যায় সেটি আকৃতির মরদেহ।

আকৃতির ২৪ বছর বয়সী ভাই অময় সুতার আত্মহত্যার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার বোন মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন এবং তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বেকার স্বামী আরস্তু ও তার আত্মীয়রা আকৃতির ওপর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। যৌতুকের দাবিতে আকৃতিকে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও যৌতুক নিয়ে আরস্তুর সাথে আকৃতির ঝগড়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত হতে সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।