• ই-পেপার

আজ স্পেনের সামনে রোনালদোর পর্তুগাল

প্রথম ‘হেভিওয়েট’ লড়াই

এখানেই শেষ নয়, নতুন চক্রের শুরু দেখছেন আনচেলত্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
এখানেই শেষ নয়, নতুন চক্রের শুরু দেখছেন আনচেলত্তি
ব্রাজিলের নতুন শুরু দেখছেন আনচেলত্তি। ছবি : রয়টার্স

কার্লো আনচেলত্তির ভেলায় ‘হেক্সা’ পূরণের স্বপ্ন দেখছিল ব্রাজিল। কিন্তু এবারও তা অধরাই রয়ে গেল। আজ নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

শেষ ষোলোয় হেরে বিদায়টা হতাশার হলেও নতুন শুরু দেখছেন আনচেলত্তি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘এই ধরনের পরাজয় হজম করতে হবে আপনাকে। এটি একটি নতুন অভিজ্ঞতা। এখন আমাদের কাজ হবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখে উন্নতির চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। আমি মনে করি না এখানেই শেষ। এখন থেকে একটি নতুন চক্রের শুরু।’

ম্যাচটা জেতা উচিত ছিল বলে জানান আনচেলত্তি। তিনি বলেছেন, ‘যা হয়েছে তাতে স্পষ্টতই সবাই খুবই হতাশ। মনে করি না আমরা একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটিয়েছি, তবে ভালো কাটিয়েছি। আর আমি মনে করি আজ আমাদের ম্যাচটি জেতা উচিত ছিল।’

ফুটবল এমনই জানিয়ে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য একটা অভিজ্ঞতা। ফলটা ভীষণ হতাশাজনক এবং আমরা ভীষণ মর্তাহত। তবে দলটা দারুণ ছিল। ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে। তবে মনে হয় না ম্যাচটা হারা উচিত ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই। আপনাকে পরাজয়ের তেতো স্বাদ আর দুঃখ মেনে নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে।’

নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড
জোড়ার গোল করার পর বেলিংহামের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

প্রত্যাবর্তনের দারুণ সুযোগ ছিল মেক্সিকোর। ৫৪ মিনিটে ইংল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায়। কিন্তু সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারল না স্বাগতিকরা। তাতে ফল যা হওয়ার তাই হলো। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো।

মেক্সিকো সিটিতে আজ ৩-২ ব্যবধানে পরাজয় দেখেছে মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন জুড বেলিংহাম। অন্যটি পেনাল্টি থেকে করেছেন হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর হয়ে জাল খুঁজে পান জুলিয়ান কুইনোনেসের বিপরীতে রাউল হিমিনেজ।

ইংল্যান্ডের জয়ের আগে নাটকীয় এক ম্যাচই দেখল ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের বয়স আধা ঘণ্টার বেশি পেরিয়েও গোলের দেখা না পাওয়া ম্যাচ হঠাৎ করেই জোড়া দেখল। সেটিও ২ মিনিটের ব্যবধানে। যেন কোনো ম্যাচের হাটলাইটস চলছিল।

সেই হাইলাইটসের কেন্দ্রীয় চরিত্র হলেন বেলিংহাম। ৩৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার ক্রসে প্রথম গোলটি হেডে করেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার। সেই গোলের রেশ শেষ না হতেই দ্বিতীয়টির দেখা পান রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার। ৩৮ মিনিটের গোলে অ্যাসিস্ট করেন অধিনায়ক সাকা। তাতে স্তব্ধ হয়ে যান স্বাগতিকদের সমর্থকরা।

তবে ম্যাচে ফিরতে খুব বেশি সময় নিল না মেক্সিকো। ৪২ মিনিটে গোল করে পুরো গ্যালারিকে উজ্জ্বীবিত করলেন কুইনোনেস। তাতে ২-১ গোলের ব্যবধানে বিরতিতে যায় মেক্সিকো। 

বিরতির পর দিল খুশ হওয়ার মতো এক সিদ্ধান্ত আসে মেক্সিকোর পক্ষে। মেক্সিকোর ডিফেন্ডার জেসুস গ্যালার্দোকে ফাউল করলে ৫৪ মিনিটে ভিএআরের সহায়তা জ্যারল কুয়েনশাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। তাতে বাকি সময় ১০ জন হয় ইংল্যান্ড।

কিন্তু ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারের মাঠ ছাড়ার সুবিধা নিতে পারেনি মেক্সিকো। উল্টো ৬০ মিনিটে পেনাল্টিতে আরেক গোল হজম করে তারা। সফল স্পটকিকটি নেন কেইন। বিপরীতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় মেক্সিকোও। ৬৯ মিনিটে তারাও একটি পেনাল্টি পায়। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন হিমিনেজ। ব্যবধান কমলেও বাকি সময় আর সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো। ১০ জনের ইংল্যান্ডকে পেয়েও তাই হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়তে হলো স্বাগতিকদের।

ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
গিমারাইসের পেনাল্টি মিসের মুহূর্তটি। ছবি : রয়টার্স

স্কোরকার্ডটা ২-১ নয়, ভিন্ন কিছু হতে পারত। ম্যাচের ১৪ মিনিটে যদি ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টিতে গোল করতে পারতেন। নিউক্যাসলের মিডফিল্ডার সফল স্পটকিক নিলে হয়তো হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ত ব্রাজিল।

‘নায়ক’ হওয়ার বিপরীতে তাই এখন ‘খলনায়ক’ গিমারাইস। নরওয়ের কাছে সেলেসাওরা হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তাই প্রশ্ন উঠেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থাকতে কেন গিমারাইস স্পটকিক নিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হচ্ছে। 

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। ম্যাচ শেষে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। স্পটকিক কারা নিবেন সেটার একটা তালিকা করেছিল ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। সেই তালিকায় শীর্ষ ৫ জনের মধ্যে নেই ভিনিসিয়ুস। 

মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই তালিকায় এগিয়ে ছিলেন গিমারাইস। আনচেলত্তির কণ্ঠে সেটাই ফুটে উঠেছে। ব্রাজিলের সহকারি কোচ বলেছেন, ‘আমাদের পেনাল্টির তালিকায় সবচেয়ে সেরা ছিল রাফিনিয়া। অ্যাভেইলএবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা ছিল নেইমার। এরপর ইগর থিয়াগো, গিমারাইস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। এ কারণেই গিমারাইসকে নির্বাচন করা হয়েছে। আর আমরা ভেবেছিলাম মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই সেরা।’

অর্থাৎ, পেনাল্টি তালিকার ছয়ে তার পরে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তালিকায় না থাকলেও পেনাল্টির আগে বল হাতে নিতে দেখা যায় রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গারকে। তবে ম্যাচে কারা পেনাল্টি মারবেন তা আগেই ঠিক করায় পরে গিমারাইসকে বল দিতে বাধ্য হন ভিনিসিয়ুস।

মাঠ ছাড়ার সময় আনচেলত্তির সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তিও। মিক্সড জোন দিয়ে বের হওয়ার সময় কার্লোর ছেলে ডেভিড বলেছেন, ‘গিমারাইস পেনাল্টি মারবে এটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ তাই ঘটেছে।’

‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করার পরও দলের ২-১ ব্যবধানের হার ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ব্রাজিলের ‘গ্লোভো টিভি’কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

কাকতালীয়ভাবে, ২০১০ সালে এই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই একই মাঠে দাঁড়িয়েই এবার বিদায়ের বার্তা দিলেন সেলেসাওদের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

যদি এই ম্যাচের মাধ্যমেই নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে, তবে ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্টের এক দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন তিনি। এদিকে হলুদ জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও কোন শিরোপা জিততে না পারা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন তিনি। থিয়াগো সিলভা এর আগে একমাত্র এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে অবসরে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে সেলেসাওদের হয়ে ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি স্বর্ণপদকই নেইমারের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাফল্য।