• ই-পেপার

নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড

আজ স্পেনের সামনে রোনালদোর পর্তুগাল

প্রথম ‘হেভিওয়েট’ লড়াই

শাহজাহান কবির, ডালাস থেকে
প্রথম ‘হেভিওয়েট’ লড়াই
শেষ ষোলোয় আজ মুখোমুখি রোনালদো-লামিনে। ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ ইউরোপের প্রতিবেশী দুই দেশ প্রায় পাঁচ হাজার মাইল পেরিয়ে আজ ডালাসে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা পেতে। ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে।

ইউরোপীয় দুই পরাশক্তিরও কোনো একটির বিদায় হয়ে যাবে আজ। লামিন ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বেঁচে থাকবে, নয়তো বা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।

প্রথম ‘হেভিওয়েট’ লড়াইপর্তুগাল হেরে গেলে বিশ্বকাপে হয়তো আজই শেষবার রোনালদোকে দেখা যাবে। নাকি এই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে সেই সোনালি ট্রফিও ধরা দেবে, গত বিশ্বকাপে যেমন ধরা দিয়েছিল লিওনেল মেসির হাতে? স্প্যানিয়ার্ডদের হারিয়ে রোনালদোকে সেই স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রাখতে হবে আজ।

শেষ ষোলোর এই ম্যাচ বিশ্বকাপ জয়ের সেই সামর্থ্যেরও প্রমাণ নেবে আসলে। ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন ফেভারিট হয়েই এসেছে এবার, তাদের হারানো পর্তুগিজদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। স্পেন এই টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি। কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে তাদের মিশন শুরু হলেও ক্রমে উজ্জ্বল হয়েছে লা ফুরিয়া রোহারা।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে তারা এটিও বুঝিয়েছে যে কেন তারা ফেভারিট। তবে নিঃসন্দেহে এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচ আজ তাদের সামনে।  দুই দলের জন্যই নয় শুধু, আসরে এ পর্যন্ত সবচেয়ে হেভিওয়েট ম্যাচও বোধ হয় এটি, তারকাবহুল—রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ভিতিনিয়া, ইয়ামাল, রদ্রি, পেদ্রি।
রোনালদোকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি ভালো যায়নি, তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে স্বরূপে দেখা গেছে তাঁকে।

পেনাল্টিতে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছেন ক্রোয়েশিয়াকে হারানোর দিনও। যদিও শেষ মুহূর্তে তাঁকে তুলে তুলে নেওয়া হয় আর ম্যাচ জেতান গনসালো রামোস। রামোসকেই শুরু থেকে খেলানো উচিত কি না, রোনালদো দলটিকে পেছন থেকে টেনে ধরে রাখছেন কি না—এমন আলোচনাও আছে। ম্যাচের আগে স্প্যানিশ তারকা গাবিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, প্রতিপক্ষ দলে রোনালদোর ভূমিকাকে তাঁরা কিভাবে দেখছেন। গাবি সম্মান দেখিয়েছেন রোনালদোকে, ‘তাঁকে নিয়ে এসব কথা আমিও শুনেছি। তবে এগুলো বলছে আসলে বাইরের মানুষ। দলের কারো কাছ থেকে আমি এ ধরনের কথা শুনিনি। রোনালদোর প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে। তিনি বিশ্বসেরাদের একজন, যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্য তাঁর আছে।’

দুই দলের শেষ সাত ম্যাচের ছয়টিই ড্র, সর্বশেষ উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনাল ২-২ গোলের সমতায় শেষ হওয়ার পর শিরোপা নির্ধারিত হয়েছে পেনাল্টি শ্যুট আউটে। ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে দুই প্রতিবেশীর লড়াই আজও তেমন হাড্ডাহাড্ডিই হওয়ার কথা। ম্যাচ শেষে হয়তো ইয়ামাল বিদায় নেবেন, নয়তো ইয়ামালের হাতে রোনালদো। বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হতে যাচ্ছে তাই এটি। টরন্টোয় ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে গত পরশু রাতে ডালাসে পৌঁছেছে পর্তুগাল, স্পেনও তা-ই।

গতকাল দুই দলই এখানে অনুশীলন করেছে। ম্যাচের বাইরে থাকার মতো বড় কোনো ইনজুরি নেই কোনো দলেই। পর্তুগাল এই আসরে এখনো পর্যন্ত হারেনি কোনো ম্যাচ, কিন্তু পুরো ছন্দে এসেছে বলা যাবে না। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইটা জিতেছে তারা একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে। ম্যাচে ক্রোয়াটদের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ওদিকে স্পেন তাদের সেরা চেহারায় ফিরেছে বলেই ধরা হচ্ছে। চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে আসা ইয়ামালও জানিয়েছেন, তিনি এখন শতভাগ দেওয়ার মতো অবস্থাতেই আছেন। লুইস দে লা ফুয়েন্তে সতর্কতার সঙ্গেই তাঁর দলের সেরা অস্ত্রটিকে এ পর্যন্ত ব্যবহার করেছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ১৯ মিনিট, ৪৫ মিনিট সৌদি আরবের সঙ্গে আর উরুগুয়ে ম্যাচে ৭৬ মিনিটের পর সর্বশেষ অস্ট্রিয়া লড়াইয়ে ৮৫ মিনিট মাঠে ছিলেন বার্সেলোনা তারকা। আইবরিয়ান ডার্বিতে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকার লক্ষ্য নিয়ে নিশ্চয়ই নামছেন ইয়ামাল।

তারকাবহুল ফ্রন্টলাইনের পেছনে দুই দলের মাঝমাঠও যথেষ্ট শক্তিশালী। রদ্রি, পেদ্রিদের বিপরীতে যুগল জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া। এই ম্যাচ তাই সামর্থ্যের সেরা পরীক্ষাটাই নেবে।

ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
গিমারাইসের পেনাল্টি মিসের মুহূর্তটি। ছবি : রয়টার্স

স্কোরকার্ডটা ২-১ নয়, ভিন্ন কিছু হতে পারত। ম্যাচের ১৪ মিনিটে যদি ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টিতে গোল করতে পারতেন। নিউক্যাসলের মিডফিল্ডার সফল স্পটকিক নিলে হয়তো হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ত ব্রাজিল।

‘নায়ক’ হওয়ার বিপরীতে তাই এখন ‘খলনায়ক’ গিমারাইস। নরওয়ের কাছে সেলেসাওরা হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তাই প্রশ্ন উঠেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থাকতে কেন গিমারাইস স্পটকিক নিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হচ্ছে। 

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। ম্যাচ শেষে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। স্পটকিক কারা নিবেন সেটার একটা তালিকা করেছিল ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। সেই তালিকায় শীর্ষ ৫ জনের মধ্যে নেই ভিনিসিয়ুস। 

মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই তালিকায় এগিয়ে ছিলেন গিমারাইস। আনচেলত্তির কণ্ঠে সেটাই ফুটে উঠেছে। ব্রাজিলের সহকারি কোচ বলেছেন, ‘আমাদের পেনাল্টির তালিকায় সবচেয়ে সেরা ছিল রাফিনিয়া। অ্যাভেইলএবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা ছিল নেইমার। এরপর ইগর থিয়াগো, গিমারাইস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। এ কারণেই গিমারাইসকে নির্বাচন করা হয়েছে। আর আমরা ভেবেছিলাম মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই সেরা।’

অর্থাৎ, পেনাল্টি তালিকার ছয়ে তার পরে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তালিকায় না থাকলেও পেনাল্টির আগে বল হাতে নিতে দেখা যায় রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গারকে। তবে ম্যাচে কারা পেনাল্টি মারবেন তা আগেই ঠিক করায় পরে গিমারাইসকে বল দিতে বাধ্য হন ভিনিসিয়ুস।

মাঠ ছাড়ার সময় আনচেলত্তির সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তিও। মিক্সড জোন দিয়ে বের হওয়ার সময় কার্লোর ছেলে ডেভিড বলেছেন, ‘গিমারাইস পেনাল্টি মারবে এটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ তাই ঘটেছে।’

‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করার পরও দলের ২-১ ব্যবধানের হার ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ব্রাজিলের ‘গ্লোভো টিভি’কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

কাকতালীয়ভাবে, ২০১০ সালে এই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই একই মাঠে দাঁড়িয়েই এবার বিদায়ের বার্তা দিলেন সেলেসাওদের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

যদি এই ম্যাচের মাধ্যমেই নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে, তবে ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্টের এক দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন তিনি। এদিকে হলুদ জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও কোন শিরোপা জিততে না পারা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন তিনি। থিয়াগো সিলভা এর আগে একমাত্র এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে অবসরে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে সেলেসাওদের হয়ে ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি স্বর্ণপদকই নেইমারের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাফল্য।

বেলিংহামের জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
বেলিংহামের জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে ইংল্যান্ড

আজতেকা স্টেডিয়ামের গ্যালারি ঠাসা মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারি চিৎকারে কান পাতা দায়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঢেউ তুলছিল মেক্সিকো। কিন্তু মাঠের ফুটবলে মাঝেমধ্যে সব হিসেব উল্টে যায় রূপকথার মতো। ঠিক তেমনই হলো; ম্যাচের স্রোতের বিপরীতে মেক্সিকোকে স্তব্ধ করে কেবল দুই মিনিটের ঝড়ে জোড়া গোল করে বসলেন জুড বেলিংহাম। মেক্সিকান দুর্গ কাঁপিয়ে প্রথমার্ধেই চালকের আসনে থ্রি লায়ন্সরা।

ম্যাচের ৩৬ মিনিটে মেক্সিকোর আক্রমণ নস্যাৎ করে দিয়ে এক দুর্দান্ত প্রতিআক্রমণের সূচনা করেন ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তার পা থেকে বল পেয়ে ডেকলান রাইস মধ্যমাঠ পেরিয়ে ডান প্রান্তে পাস বাড়ান বুকায়ো সাকার উদ্দেশ্যে। সাকা বক্সে নিখুঁত এক ক্রস ভাসান। বলটি অধিনায়ক হ্যারি কেইনের নাগাল না পেলেও সেখানে ওঁৎ পেতে ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহাম। মেক্সিকান ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দারুণ এক ডাইভিং হেডে বল জালে জড়ান তিনি।

সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক দুই মিনিট পর আবারও আজতেকা স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয় ইংল্যান্ড। মেক্সিকোর কিক-অফের পরপরই তাদের রক্ষণভাগে হাই-প্রেস করে থ্রি লায়ন্সরা। মাঝমাঠে দুর্দান্ত লড়াই করে বল কেড়ে নেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। তাঁর পা থেকে বল পান হ্যারি কেইন। এবার আর নিজে শট না নিয়ে বক্সে ফাঁকায় থাকা বেলিংহামের দিকে নিখুঁত থ্রু বাড়ান কেইন। মেক্সিকান গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপন করেন বেলিংহাম।

৩৮ মিনিটের মধ্যে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া স্বাগতিকরা ৪২ মিনিটে এক গোল পরিশোধ করে ম্যাচে ফেরার আভাস দেয়। মেক্সিকোর হয়ে ব্যবধান কমানো গোলটি করেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। প্রথমার্ধের নাটকীয়তা শেষে বেলিংহামের জোড়ার ওপর ভর করেই ২-১ গোলের লিড ধরে রেখে বিশ্রামে গেছে ইংল্যান্ড।