• ই-পেপার

বেলিংহামের জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে ইংল্যান্ড

নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
নাটকীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের ইংল্যান্ড
জোড়ার গোল করার পর বেলিংহামের উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

প্রত্যাবর্তনের দারুণ সুযোগ ছিল মেক্সিকোর। ৫৪ মিনিটে ইংল্যান্ড ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ায়। কিন্তু সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারল না স্বাগতিকরা। তাতে ফল যা হওয়ার তাই হলো। ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল।

মেক্সিকো সিটিতে আজ ৩-২ ব্যবধানে পরাজয় দেখেছে মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন জুড বেলিংহাম। অন্যটি পেনাল্টি থেকে করেছেন হ্যারি কেইন। মেক্সিকোর হয়ে জাল খুঁজে পান জুলিয়ান কুইনোনেসের বিপরীতে রাউল হিমিনেজ।

বিস্তারিত আসছে...

ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনি না নিয়ে কেন গিমারাইস পেনাল্টি নিলেন, ব্যাখ্যা দিলেন কোচ
গিমারাইসের পেনাল্টি মিসের মুহূর্তটি। ছবি : রয়টার্স

স্কোরকার্ডটা ২-১ নয়, ভিন্ন কিছু হতে পারত। ম্যাচের ১৪ মিনিটে যদি ব্রুনো গিমারাইস পেনাল্টিতে গোল করতে পারতেন। নিউক্যাসলের মিডফিল্ডার সফল স্পটকিক নিলে হয়তো হাসিমুখেই মাঠ ছাড়ত ব্রাজিল।

‘নায়ক’ হওয়ার বিপরীতে তাই এখন ‘খলনায়ক’ গিমারাইস। নরওয়ের কাছে সেলেসাওরা হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় তাই প্রশ্ন উঠেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র থাকতে কেন গিমারাইস স্পটকিক নিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনাও হচ্ছে। 

তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। ম্যাচ শেষে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। স্পটকিক কারা নিবেন সেটার একটা তালিকা করেছিল ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। সেই তালিকায় শীর্ষ ৫ জনের মধ্যে নেই ভিনিসিয়ুস। 

মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই তালিকায় এগিয়ে ছিলেন গিমারাইস। আনচেলত্তির কণ্ঠে সেটাই ফুটে উঠেছে। ব্রাজিলের সহকারি কোচ বলেছেন, ‘আমাদের পেনাল্টির তালিকায় সবচেয়ে সেরা ছিল রাফিনিয়া। অ্যাভেইলএবল খেলোয়াড়দের মধ্যে সেরা ছিল নেইমার। এরপর ইগর থিয়াগো, গিমারাইস এবং গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি। এ কারণেই গিমারাইসকে নির্বাচন করা হয়েছে। আর আমরা ভেবেছিলাম মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে সেই সেরা।’

অর্থাৎ, পেনাল্টি তালিকার ছয়ে তার পরে ছিলেন ভিনিসিয়ুস। তালিকায় না থাকলেও পেনাল্টির আগে বল হাতে নিতে দেখা যায় রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গারকে। তবে ম্যাচে কারা পেনাল্টি মারবেন তা আগেই ঠিক করায় পরে গিমারাইসকে বল দিতে বাধ্য হন ভিনিসিয়ুস।

মাঠ ছাড়ার সময় আনচেলত্তির সুরে কথা বলেছেন ব্রাজিলের সহকারী কোচ ডেভিড আনচেলত্তিও। মিক্সড জোন দিয়ে বের হওয়ার সময় কার্লোর ছেলে ডেভিড বলেছেন, ‘গিমারাইস পেনাল্টি মারবে এটা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ তাই ঘটেছে।’

‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এখানেই শুরু, এখানেই শেষ হলো’ বলে অবসরের ইঙ্গিত নেইমারের

নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র গোলটি করার পরও দলের ২-১ ব্যবধানের হার ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ব্রাজিলের ‘গ্লোভো টিভি’কে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে নেইমার বলেন, ‘বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের ইতি ঘটেছে। এখন সব শেষ। আমি চেষ্টা করেছি, সত্যিই চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ হলো।’

কাকতালীয়ভাবে, ২০১০ সালে এই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সেই একই মাঠে দাঁড়িয়েই এবার বিদায়ের বার্তা দিলেন সেলেসাওদের এই সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

যদি এই ম্যাচের মাধ্যমেই নেইমারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে, তবে ব্রাজিলের হয়ে ১৩০ ম্যাচে ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্টের এক দুর্দান্ত পরিসংখ্যান নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন তিনি। এদিকে হলুদ জার্সিতে চারটি বিশ্বকাপ খেলেও কোন শিরোপা জিততে না পারা দ্বিতীয় খেলোয়াড় হলেন তিনি। থিয়াগো সিলভা এর আগে একমাত্র এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে অবসরে গিয়েছিলেন।

দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে সেলেসাওদের হয়ে ২০১৩ সালের কনফেডারেশনস কাপ এবং ২০১৬ রিও অলিম্পিকে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি স্বর্ণপদকই নেইমারের একমাত্র আন্তর্জাতিক সাফল্য।

ট্রাম্পের চাপেই কি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকারের শাস্তি স্থগিত করল ফিফা?

ক্রীড়া ডেস্ক
ট্রাম্পের চাপেই কি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকারের শাস্তি স্থগিত করল ফিফা?
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের মহানাটকীয়তার মাঝেই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিল ফিফা। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর বাঁচা-মরার লড়াইয়ের আগে মাঠের খেলা ছাপিয়ে এখন আলোচনায় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত। আর এই নাটকের নেপথ্যে সরাসরি জড়িয়ে গেলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এক ফোন কলেই যেন ‘ম্যাজিক’ দেখাল ফিফা! বসনিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হওয়া মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত থেকে অবিশ্বাস্যভাবে সরে এসেছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সংস্থা।

বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি পেয়েছিলেন ২৫ বছর বয়সী বালোগান। তবে দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের তারিক মুহারোমোভিচের অ্যাঙ্কেলে বুট দিয়ে আঘাত করায় ভিএআর পর্যালোচনার পর তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচে তার খেলা অসম্ভব ছিল। কিন্তু খবরের ভেতরের খবর হলো, এই নিষেধাজ্ঞার পরেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরাসরি ফোন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুরোধ জানান লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করার।

এর পরপরই ফিফা এক বিবৃতিতে ঘোষণা করে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেই মাঠে নামতে পারবেন বালোগান। তবে লাল কার্ডের সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং ‘ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোড’-এর ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী তার এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য ‘প্রবেশন’ বা স্থগিতাদেশে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী এক বছরের মধ্যে বালোগান এমন গুরুতর ফাউল আর না করলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

ফিফার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একে একটি ‘মহাবিপদ ও অবিচার’ থেকে মুক্তি হিসেবে উল্লেখ করে সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন। মার্কিন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোও শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, ওটা কোনোভাবেই লাল কার্ড ছিল না।

মার্কিন সকার ফেডারেশন স্বাভাবিকভাবেই এই ঘোষণায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে। দলের তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ জানান, অনুশীলনে যাওয়ার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবরটি দেখে প্রথমে নিজেদের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তারা।

ফিফার এমন ‘বিশেষ’ সিদ্ধান্তে চরম বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ফিফার নিয়মাবলী ও টুর্নামেন্টের বাইলজ তুলে ধরে তারা এই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ফিফা কোডের ২৭ নম্বর ধারা দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে জায়েজ করার চেষ্টা করা হলেও, একই কোডের ৬৬.৪ ধারা এবং টুর্নামেন্ট রেগুলেশনের ১০.৫ ধারা অনুযায়ী, সরাসরি বা দুটি হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখলে পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে’ কার্যকর হবে। চলতি বিশ্বকাপের আগের সব লাল কার্ডের ক্ষেত্রে এই নিয়মই কঠোরভাবে মানা হয়েছে। ফলে বালোগানের ক্ষেত্রে এই ছাড় ফিফার নিজস্ব আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ফুটবল বিশ্বকাপে অবশ্য রাজনৈতিক প্রভাব বা আপিলের মুখে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

১৯৬২ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে সেমিফাইনালে লাল কার্ড পেয়েছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি গ্যারিঞ্চা। কিন্তু চিলির দর্শক ও তৎকালীন চিলিয়ান প্রেসিডেন্ট হোর্হে আলেসান্দ্রির জোরালো জোরাজুরিতে ফাইনালে খেলার অনুমতি পান তিনি। ফাইনালে চেকোস্লোভাকিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।

এদিকে, গত বছর বাছাইপর্বে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ফিফা শেষ দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচগুলো খেলতে পেরেছিলেন সিআর-সেভেন।