• ই-পেপার

দেশে আজ যত দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

প্রতিদিন রেমিট্যান্স আসছে হাজার কোটি টাকার বেশি

অনলাইন ডেস্ক
প্রতিদিন রেমিট্যান্স আসছে হাজার কোটি টাকার বেশি

চলতি জুলাই মাসের প্রথম চার দিনেই দেশে এসেছে ৩৪ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে) এর পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার বা এক হাজার কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স।

রবিবার (৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। তবে গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৩৬ কোটি মার্কিন ডলার।

এর আগে জুন মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮১ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫১ কোটি ৫১ লাখ ডলার, বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৪৪ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে ১৮৫ কোটি ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এর আগে মে মাসে দেশে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। এপ্রিলে রেমিট্যান্স ছিল ৩১২ কোটি ৭৩ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে চলতি বছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠান ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

রেমিট্যান্স প্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

টাকা নিয়ে যত চ্যালেঞ্জ

তবু ব্যাংকে অলস অর্থ ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি

বিনিয়োগ স্থবিরতা অনিশ্চয়তায় ঋণ বিতরণে অনাগ্রহ

অনলাইন ডেস্ক
তবু ব্যাংকে অলস অর্থ ৩ লাখ ২৭ হাজার কোটি

দেশের ব্যাংকিং খাতে অলস অর্থের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। ঋণখেলাপির লাগামহীন বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ বিতরণে আগ্রহ হারাচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য মে মাস শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা, যা এক বছর আগেও ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ প্রতিদিন জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ২ কোটি টাকা। ছয় মাস পর ২০২৫ সালের জুনে তা বেড়ে হয় ২ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। এরপর চলতি বছরের মে মাসে তা ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ দেড় বছরের ব্যবধানে অলস অর্থ বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট তারল্য সম্পদ ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি রয়েছে অবাধ সরকারি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ মূলত ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডে। ফলে ব্যাংকগুলো অলস অর্থ নগদ হিসেবে ফেলে না রেখে ঝুঁকিমুক্ত আয়ের জন্য সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করছে।

ব্যাংকারদের মতে, ঋণ বিতরণ করে খেলাপির ঝুঁকি নেওয়ার চেয়ে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ এখন বেশি নিরাপদ ও লাভজনক। এসব সিকিউরিটিজ থেকে নিশ্চিত মুনাফা মিলছে, অন্যদিকে ঋণ খেলাপির ঝুঁকিও নেই। এর প্রভাব পড়েছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে। চলতি বছরের মার্চ শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৭২ শতাংশে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। এক বছর আগে এ হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকগুলো যখন ঋণ বিতরণ কমিয়ে দেয়, তখন শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় কার্যকর মূলধন সংগ্রহে সমস্যায় পড়ে। এর ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। তাদের ভাষায়, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বিপুল অলস অর্থ জমে থাকা আর বাস্তব অর্থনীতিতে ঋণের সংকট এটি আর্থিক শক্তিমত্তার নয়, বরং গভীর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার লক্ষণ। অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ব্যাংকঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণে অনীহার সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠেছে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায়। বর্তমানে মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩২ শতাংশেরও বেশি খেলাপি, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রায় ২০টি ব্যাংক কার্যত নতুন ঋণ বিতরণ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্য ব্যাংকগুলোও কঠোর যাচাইবাছাই ছাড়া নতুন ঋণ অনুমোদন করছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়কালের মুদ্রানীতি বিবৃতিতেও বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য সমভাবে বণ্টিত নয়। সুশাসনসম্পন্ন কিছু ব্যাংকে বিপুল উদ্বৃত্ত অর্থ জমা থাকলেও অন্যদিকে বেশ কয়েকটি ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও বলেছে, বেসরকারি খাতে ঋণের দুর্বল চাহিদা, আমানতের উচ্চ প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ কার্যক্রমের মন্থরগতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যাংকগুলো ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর ফলেই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উদ্বৃত্ত তারল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

টাকা নিয়ে যত চ্যালেঞ্জ

নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েই যাচ্ছে

ব্যাংক থেকে বেরিয়েছে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি

অনলাইন ডেস্ক
নগদ অর্থের প্রবাহ বেড়েই যাচ্ছে

আস্থার সংকটে বেরিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকের টাকা। মুদ্রাবাজারের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত রাখার পর আবার দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে তহবিল সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে টাকার প্রবাহ কমাতে বড় নোটের প্রচলন বন্ধ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েও এখন চাহিদা সামাল দিতে ভল্ট থেকে বড় নোট ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে উল্টো নগদ টাকার প্রবাহ বেড়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ স্ট্র্যাটেজিক লিকুইডিটি রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, মে ২০২৬-এর শেষ নাগাদ বাজারে মোট প্রচলিত মুদ্রা বা কারেন্সি ইন সার্কুলেশন (সিআইসি)-এর পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকায় উঠে গেছে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরি পলিসি স্টেটমেন্টের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সিআইসির প্রাক্কলন বা সিলিং ছিল মাত্র ২ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাণিতিক হিসাবকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ মানুষের হাতে বা ব্যক্তিগত সিন্দুকে আটকে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনের (২০২৪-২৫ অর্থবছর) সংরক্ষিত পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যায়, মে/জুন ২০২৫-এর শেষ নাগাদ সিআইসি ছিল প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ৩ লাখ ১৭ হাজার কোটি টাকায় উঠে যায়। প্রাপ্ত হিসাবে দেখা যায়, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বাজারে নগদ টাকার প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের মনে ব্যাংকিং খাতের ওপর আস্থার সংকট যে কতটা গভীর এটি তারই প্রমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্কলনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার যে কোনো মিল নেই, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথগুলোতে। ব্যাংকিং খাতের দায়িত্বশীল সূত্র ও মাঠপর্যায়ের ব্যাংকাররা নিশ্চিত করেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বড় নোটের অবৈধ মজুত কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগে বাজারে নতুন ৫০০ ও ১০০০ টাকার উচ্চমূল্যের নোটের সরবরাহ একপ্রকার অলিখিতভাবে সংকুচিত বা বন্ধ রেখেছিল। লক্ষ্য ছিল মানুষকে ছোট নোট ব্যবহারে বাধ্য করা। কিন্তু মে ২০২৬ শেষে সিআইসি প্রাক্কলিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক ধাক্কায় ৬৭,০০০ কোটি টাকা বেড়ে যাওয়ায় ছোট নোট (১০০ বা ২০০ টাকা) দিয়ে এই বিশাল নগদ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ১ লাখ টাকা ১০০ টাকার নোটে দিতে গেলে এটিএম বুথের ক্যাসেটে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন, তা সরবরাহ করা লজিস্টিক্যালি অসম্ভব। ফলে প্রাক্কলনের এই বিশাল ধাক্কা সামাল দিতে এবং এটিএম বুথগুলো সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন বাধ্য হয়ে ভল্টে আটকে রাখা ‘বঙ্গবন্ধু’র ছবিযুক্ত ৫০০ ও ১০০০ টাকার উচ্চমূল্যের নোটগুলোই আবার বাজারে সরবরাহ করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়া অর্থ কীভাবে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

বড় নোট বাতিল করার ঘোষণায় কি ব্যাংকে টাকা আসবে : জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাব করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সম্প্রতি বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, মানুষের কাছে নগদ টাকা থাকার পরও আস্থা না থাকায় তারা সেটি ব্যাংকে রাখছেন না। ঘরে রাখা ওই অর্থ ব্যাংকে ফেরাতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করার প্রস্তাব করেন তিনি। একই সঙ্গে বাতিল করার আগে পুরোনো নোট ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দুই মাস সময় বেঁধে দেওয়ার আহ্বান জানান। এরপর থেকেই বড় নোট বাতিলের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা-বিতর্ক চলছে। একটি পক্ষের মতে, দেশের অনানুষ্ঠানিক বা ছায়া অর্থনীতিতে যে বিপুল পরিমাণ কালোটাকা, হুন্ডি এবং জাল নোটের চক্র ঘুরপাক খাচ্ছে, তা ভাঙতে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা যেতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রস্তাবের উদ্দেশ্য সৎ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পদক্ষেপের ‘টাইমিং’ বা ‘সময় নির্বাচন’ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি তৃতীয় প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জানান, ‘আস্থার সংকট হোক, রাজনৈতিক অস্থিরতা হোক- বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের বাইরে রয়েছে। আমাদের নীতিনির্ধারকরা আস্থার পরিবেশ তৈরি করে ওই অর্থ ব্যাংকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ না নিয়ে যদি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন- তবে এটি মুদ্রাবাজারে বড় ধরনের শূন্যতা সৃষ্টি করবে। এই ‘শক’ সংকটকালীন অর্থনীতি নিতে পারবে না।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব মতে, বাজারে যে ৩ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার সিইসি আছে, এর মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই হলো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। অর্থাৎ প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের অর্থ কেবল এই দুটি উচ্চমানের নোটে রয়েছে। নগদ লেনদেননির্ভর এই অর্থনীতিতে একযোগে এ বিপুল পরিমাণ মুদ্রাবাজার থেকে তুলে নিলে পুরো সরবরাহ চেইন ও গ্রামীণ বাণিজ্য রাতারাতি অচল হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক চিফ ইকোনমিস্ট এম কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চলমান আর্থিক পরিস্থিতিতে ব্যাংক নোট বাতিলের প্রস্তাবটিকে কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। দেশের অর্থনীতি এমনিতেই লাইফ সাপোর্টে আছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নোট বাতিলের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিলে তা আর্থিক ও মুদ্রাবাজারে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

বিআইডিএসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, ২০১৬ সালে পার্শ্ববর্তী ভারতে  নোট বাতিলের ধাক্কা সামলানোর পেছনে তাদের শক্তিশালী ‘ইউপিআই’ (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস) নেটওয়ার্ক বড় ভূমিকা রেখেছিল, যা আমাদের ক্ষেত্রে এখনো প্রাথমিক স্তরে। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে ‘বাংলা কিউআর’ বা ক্যাশলেস সোসাইটির যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, তার ডিজিটাল অবকাঠামো এখনো সর্বস্তরে কার্যকর হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বড় নোট বাতিল করা হলে মুদ্রাবাজার শূন্য হয়ে পড়বে। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত হবে ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

বাজেট বাস্তবায়নে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণে বড় চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজেট বাস্তবায়নে বিনিয়োগ ও রাজস্ব আহরণে বড় চ্যালেঞ্জ

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ী ও কর বিশেষজ্ঞরা।

আজ রবিবার রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় বাংলাদেশ-জার্মান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিজিসিসিআই) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬ : ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অ্যাড ইন্টারিম আনজা কারস্টেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কর নীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং সদস্য (ভ্যাট নীতি) মো. আজিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বিজিসিসিআই সভাপতি মো. রোকনুজ্জামান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জনে কার্যকর বাস্তবায়ন কৌশল প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে, যা বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি আরো বলেন, উচ্চ সুদের হার ও সীমিত করদাতার ভিত্তির কারণে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে না। করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মো. রোকনুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কে আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা এবং সহজ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক শিল্পায়ন দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন আরও গতিশীল হবে।

বক্তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং নিয়মিত সংলাপের বিকল্প নেই।