• ই-পেপার

নৌ-বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা পর্যবেক্ষণে কিম জং উন

অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অফিসে যোগদানের দিনই দিল্লিতে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় দিল্লির একটি আবাসিক সোসাইটি থেকে আকৃতি সুতার (২৮) নামে এক নববধূর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে পুষ্প বিহারের বাড়ি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে লোধি কলোনির একটি বহুতল ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। আকৃতির পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার বেকার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।

আকৃতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল আট বছরের প্রেমের পর আরস্তু সিক্কা নামের এক যুবকের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের ছুটির পর শনিবারই আকৃতি ছাতারপুরের একটি বেসরকারি কম্পানিতে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, অফিসে যোগ দিয়ে আকৃতি সহকর্মীদের জন্য একটি ছোট পার্টিরও আয়োজন করেছিলেন। এমনকি মৃত্যুর মাত্র তিন ঘণ্টা আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলার সময়ও তার আচরণ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তিনি মাকে জানিয়েছিলেন যে, পার্টি শেষ করে তিনি বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন।

আকৃতির কাকা মনঞ্জয় সুতার জানান, সন্ধ্যা ৬টায় মায়ের সাথে কথা বলার ঠিক দুই ঘণ্টা পর, অর্থাৎ রাত ৮টার দিকে আকৃতির স্বামী আরস্তু ফোন করে জানান যে আকৃতিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ পরিবারটিকে জানায় যে, লোধি কলোনির পালিকা কুঞ্জ এলাকার একটি আবাসিক সোসাইটির নিচে এক নারীর রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। পরে জানা যায় সেটি আকৃতির মরদেহ।

আকৃতির ২৪ বছর বয়সী ভাই অময় সুতার আত্মহত্যার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, তার বোন মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিলেন এবং তিনি কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারেন না। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বেকার স্বামী আরস্তু ও তার আত্মীয়রা আকৃতির ওপর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। যৌতুকের দাবিতে আকৃতিকে প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। মৃত্যুর মাত্র দুই দিন আগেও যৌতুক নিয়ে আরস্তুর সাথে আকৃতির ঝগড়া হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত হতে সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ছবি : রয়টার্স

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রুশবাহিনী। এতে সাতজন নিহত এবং আরো ২৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ও বাণিজ্যিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো ও মেয়র ভিতালি ক্লিচকো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন

মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, হামলার পর উদ্ধারকারী দলগুলো রাতভর বিধ্বস্ত ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য কাজ করেছে। রাজধানীর পোডিলস্কি জেলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই এলাকাটি থেকে মোট ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়টি শিশুও রয়েছে। 

কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিৎস্কি জেলাতেও রুশবাহিনী ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, একটি ২৫ তলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোনের টুকরো আঘাত হানলে দুজন নিহত হন। পাশেই অবস্থিত একটি ৩০ তলা ভবনে আগুন লেগে যায়। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবারের (২ জুলাই) এক হামলায় এই ভবনটিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিল। সে সময় রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ভোরে রাজধানী ও তার আশপাশে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায় এবং রুশ ড্রোন ঠেকাতে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল। ভয়াবহ এই হামলার পর কিয়েভের বহুতল ভবনগুলোতে আগুন লেগে যায় এবং ভেতরের অংশ ধসে পড়ে। হামলার কারণে বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় শহরের বায়ুর গুণমান মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়েছে। এ কারণে প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের জানালা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে শহরের হাজার হাজার বাসিন্দা মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজগুলোতে ভিড় জমান।

এই হামলার আগেই ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশবাসীকে সম্ভাব্য রুশ বিমান হামলা সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এদিকে ইউক্রেনের প্রতিবেশী এবং ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশ পোল্যান্ড, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে অল্প সময়ের জন্য আকাশে যুদ্ধবিমান উড়িয়েছিল।

খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ায় ভারতকে ইরানের ধন্যবাদ

অনলাইন ডেস্ক
খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়ায় ভারতকে ইরানের ধন্যবাদ
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজায় অংশ নেওয়ায় ভারত সরকার ও জনগণকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস। একে দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেছে তারা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানে এই অনুষ্ঠান হয়। খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানি দূতাবাস ভারতের সরকারি প্রতিনিধিদলসহ রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এই অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা ও বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন। এ ছাড়া প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী সালমান খুরশিদও খামেনির জানাজায় যোগ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দূতাবাস জানিয়েছে, ভারতীয়দের এই সহানুভূতি ও বন্ধুত্বের নিদর্শন ইরানের জনগণ সর্বদা স্মরণ করবে।

এদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনির জানাজায় যাতে বিশ্বনেতারা অংশ না নেন, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র পর্দার আড়ালে বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশ্বজুড়ে থাকা মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা জানাজার এক সপ্তাহ আগে থেকেই বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের তেহরানে যেতে নিষেধ করেন। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রুবিও ব্যক্তিগতভাবে অন্তত পাঁচটি আরব দেশের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিছু দেশকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, তেহরানে প্রতিনিধি পাঠালে মার্কিন উন্নয়ন সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এই চাপের মুখে অন্তত ১৩টি দেশ (যার মধ্যে পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা, পারস্য উপসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার দেশ রয়েছে) শেষ মুহূর্তে জানাজা থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় অথবা প্রতিনিধির সংখ্যা কমিয়ে দেয়। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শেষ বিদায় অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে বলেন, এটি খামেনিকে বিদায় জানানো নয়, বরং তার দেখানো পথচলা অব্যাহত রাখার একটি অঙ্গীকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েল ও তার মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এই সংঘাত বরং মুসলমানদের আরো কাছাকাছি এনেছে এবং শত্রুদের মানবাধিকারের দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে।

যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিলো চীন ও রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক
যৌথ সামরিক মহড়ার ঘোষণা দিলো চীন ও রাশিয়া
সংগৃহীত ছবি

আগামী সপ্তাহে চীনের উপকূলীয় শহর চিংদাওয়ের জলসীমা ও আকাশসীমায় যৌথ মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে চীন ও রাশিয়ার নৌবাহিনী। রবিবার (৫ জুলাই) চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স

এক বিবৃতিতে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘মহড়া শেষ হওয়ার পর উভয় পক্ষের কয়েকটি যৌথ দল সামুদ্রিক টহল পরিচালনা করতে প্রশান্ত মহাসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হবে। যৌথভাবে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই মহড়ার লক্ষ্য।’

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, এই মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে ছিংদাও উপকূলে পৌঁছেছে।

আগামী ৬ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে তারা।