• ই-পেপার

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইলন মাস্ক

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল স্লোভেনিয়া

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল স্লোভেনিয়া
ছবি : সংগৃহীত

স্লোভেনিয়ার নতুন রক্ষণশীল সরকার বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার দুই মন্ত্রীর ওপর জারি করা প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা।

গত বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোবের নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী সরকার গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এসব পদক্ষেপ নিয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরো কয়েকটি দেশও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

তবে গত সপ্তাহে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী জানেজ জানশার সরকার নেতানিয়াহু, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ-এরওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।

সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংলাপ পুনরায় শুরু করার পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা আইন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র রপ্তানি নীতিমালা বিবেচনায় অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে এর মেয়াদ শেষ হতে দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত জানসার সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি থেকে আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করেছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে যে তারা স্লোভেনিয়াতে একটি দূতাবাস খুলবে। দেশটির আশা, এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।

ক্ষমতায় আসার পর জানসার সরকার সরকারি ভবনগুলোতে প্রতীকীভাবে প্রদর্শিত ফিলিস্তিনি পতাকাও সরিয়ে দিয়েছে। উল্লেখ্য, স্লোভেনিয়া ২০২৪ সালে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। গোলোবের মধ্য-বামপন্থী সরকারের আমলে ইসরায়েল ও স্লোভেনিয়ার সম্পর্ক বেশ তিক্ত হয়ে ওঠে। সে সময় স্লোভেনিয়া গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছিল।

ফ্রান্সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নাগরিক সমাজের বৈঠক, দুই রাষ্ট্র সমাধানে জোর

অনলাইন ডেস্ক
ফ্রান্সে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল নাগরিক সমাজের বৈঠক, দুই রাষ্ট্র সমাধানে জোর
ফাইল ছবি

ফ্রান্সে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন আজ। এই বৈঠকে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানাবেন- জানায় রয়টার্স।

এই আলোচনায় কয়েক ডজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। জাতিসংঘের সমর্থনে তৈরি ‘নিউ ইয়র্ক ঘোষণা’র এক বছর পূর্তি সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয়েছে। ওই ঘোষণায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর ফ্রান্স, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই সম্মেলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, অঞ্চলে এখনও সংঘাত চলছে। বেসামরিক মানুষ মারা যাচ্ছে। সহিংসতার চক্রও অব্যাহত আছে। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রচেষ্টাও থেমে আছে।

বৈঠক শেষে একটি আট দফার ‘কর্মসূচির আহ্বান’ প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে। এই ঘোষণায় দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানানো হবে। পাশাপাশি ইসরায়েলের অবৈধ বসতি নির্মাণ বন্ধ করার আহ্বান থাকবে। এছাড়া গাজার পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিক সমাজের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা আরো জোরদার করার বিষয়গুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই পরিকল্পনা পরবর্তীতে জি-সেভেন নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তারা আগামী সোমবার থেকে ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলে বৈঠকে বসবেন।

পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার-ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিম তীরে অভিযান অব্যাহত, গ্রেপ্তার-ভাঙচুর ও হামলার অভিযোগ
ছবি: রয়টার্স

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন শহর ও গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার, স্থাপনা ভাঙচুর এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।পশ্চিম তীরের একাধিক এলাকায় একই দিনে এসব ঘটনা ঘটেছে। এতে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা আরো বেড়েছে।
 
উত্তর জর্ডান উপত্যকার আইন আল-হিলওয়েহ এলাকায় ৩৪ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নাগরিক লুয়াই কাদরি দারাঘমেহকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানায়, দারাঘমেহ তখন নিজের গবাদিপশু চরাচ্ছিলেন। এ সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা তার পথরোধ করে। পরে তারা ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীকে ডাকে। এরপর কোনো কারণ প্রকাশ না করেই সেনারা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এদিকে পশ্চিম তীরের নাবলুস শহরের কাছে আওয়ার্তা সামরিক চৌকির এলাকায় একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সেনারা গাড়িটি জব্দ করে। পরে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেরিকোর আল-নুয়াইমাহ এলাকায় বেদুইন সম্প্রদায়ের মালিকানাধীন চারটি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, আরব আল-তুরাইফাত বেদুইনদের এসব স্থাপনা সামরিক যন্ত্র ব্যবহার করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় আরো কয়েকটি বসতবাড়ি এবং গবাদিপশু রাখার স্থাপনা ভেঙে ফেলার জন্য নতুন নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

হেবরনের ইয়াত্তা এলাকার খাল্লেত আল-হোমস অঞ্চলে এক ফিলিস্তিনি কৃষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ সুসইয়া বসতি থেকে আসা সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা কৃষক মাহমুদ আল-মাসরির ওপর হামলা চালায়। তিনি তখন নিজের জমিতে গম ও যব কাটার কাজ করছিলেন। হামলার সময় তার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হেবরনের সাইর এলাকার হামরুশ অঞ্চলেও আরেকটি ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা একটি পানীয় জলের কূপে অজ্ঞাত একটি পদার্থ মিশিয়ে সেটি দূষিত করে দিয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ ওই কূপের পানি এলাকার অনেক মানুষ ব্যবহার করে থাকেন।

বেথলেহেমের হুসান গ্রামেও অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেনারা গ্রামে প্রবেশ করে আবু বকর আস-সিদ্দিক মসজিদের আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় বিকেলের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে বেশ কয়েকজনকে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেনারা তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে এবং কিছু সময় জিজ্ঞাসাবাদও করে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, স্থাপনা ধ্বংস এবং বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ড স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে এবং এলাকায় উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

উ. কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ, দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন ডেস্ক
উ. কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ, দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর অভিযোগে শুক্রবার আরো ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২৪ সালে তার বিতর্কিত সামরিক আইন জারির জন্য একটি অজুহাত তৈরির উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।

বিশেষ প্রসিকিউটররা গত এপ্রিল মাসে অভিযোগ করেন, ড্রোন ব্যবহার করে ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি’ তৈরি করার চেষ্টা করে ইয়ুন দেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন। এর আগে, জাতীয় সংসদকে কার্যত অচল করার উদ্দেশ্যে সামরিক আইন জারি করে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। নতুন এই রায় সেই দণ্ডের পরই এলো।

সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের একজন মুখপাত্র জানান, ড্রোন-সংক্রান্ত মামলায় ইয়ুনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, প্রসিকিউটরদের মতে এই ড্রোন অভিযান উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছিল। পাশাপাশি ড্রোনগুলো ভূপাতিত হওয়ার পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কিত কিছু গোপন তথ্যও ফাঁস হয়ে যায়। ইয়ুন বিদ্রোহের মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যই তিনি সামরিক আইন ঘোষণা করেছিলেন। 

তবে তার আইনজীবীরা ড্রোন-সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য, অভিযানের জন্য ইয়ুন কোনো পূর্ব নির্দেশ দেননি বা পরে অনুমোদনও দেননি। আইনজীবীদের মতে, ওই সময়ে উত্তর কোরিয়া সীমান্ত পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় আবর্জনাবাহী বেলুন পাঠাচ্ছিল। ড্রোন অভিযান ছিল তার জবাবে নেওয়া আত্মরক্ষামূলক ও বৈধ পদক্ষেপ। এর সঙ্গে সামরিক আইন ঘোষণার কোনো সম্পর্ক নেই। তারা প্রসিকিউশনের অভিযোগকে ‘অনুমানভিত্তিক ও মিথ্যা গল্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

দুই কোরিয়ার মধ্যে ড্রোন উড্ডয়ন দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনার অন্যতম কারণ। কারণ, দুই দেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেনি।

এ বছরের শুরুতে এক তদন্তে জানা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠিয়েছিলেন। এরপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে-মিউং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং প্রেসিডেন্ট লি-এর মন্তব্যকে ‘বিচক্ষণ আচরণ’ বলে স্বাগত জানান। তবে একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়া আবারও দক্ষিণ কোরিয়াকে তার সবচেয়ে বৈরী শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করায় দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।