• ই-পেপার

১৪ জুন হায়দরাবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করবে সিজেপি

শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি : ইরান

অনলাইন ডেস্ক
শান্তিচুক্তি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি : ইরান
সংগৃহীত ছবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দীর্ঘ তিন মাসের যুদ্ধ শেষে শুক্র বা শনিবারের (১২, ১৩ জুন) মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সই হতে পারে। চুক্তিটি হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ নৌচলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে ইরান তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, খসড়ার বড় অংশ চূড়ান্ত হলেও তারা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।

যদি এই চুক্তিটি সফল হয়, তবে এটি হবে বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। কারণ গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এইমাত্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের একটি চমৎকার নিষ্পত্তি করেছি।’ তিনি জানান, ইউরোপে এই সপ্তাহান্তেই চুক্তিটি সই হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বাক্ষর করতে পারেন।

ট্রাম্প আরো জানান, এই চুক্তির মূল শর্ত হলো—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তাদের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বা জব্দ করে রাখা শত শত কোটি ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে তাদের নীতিনির্ধারক সংস্থায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ইরান তার অলঙ্ঘনীয় সীমারেখায় কোনো আপস করবে না।

সূত্র : রয়টার্স

মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল 'ইনজেনুইটি', বদলে গেছে গ্রহ অনুসন্ধানের ধারণা

অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গল অভিযানে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল 'ইনজেনুইটি', বদলে গেছে গ্রহ অনুসন্ধানের ধারণা
সংগৃহীত ছবি

মঙ্গল গ্রহে উড়তে পারে এমন একটি ছোট হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনা যখন শুরু হয়েছিল, তখন হয়তো কেউই ভাবেননি এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এত বড় পরিবর্তন এনে দেবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিই ঘটেছে। নাসার ইনজেনুইটি হেলিকপ্টার শুধু অন্য একটি গ্রহে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়নই করেনি, বরং ভবিষ্যতের গ্রহ অনুসন্ধানের নতুন পথও দেখিয়েছে।

নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এবং অ্যারোভাইরনমেন্টের প্রকৌশলীরা ২০০০ সালের শুরুর দিকে এই ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার পর ২০১৮ সালের ১১ মে নাসা ঘোষণা দেয়, তাদের ‘মার্স ২০২০’ অভিযানের সঙ্গে একটি ছোট হেলিকপ্টারও মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। তবে তখনও খুব কম মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন, এই ছোট হেলিকপ্টার একদিন মহাকাশ গবেষণার অন্যতম সফল প্রযুক্তি পরীক্ষায় পরিণত হবে।

ইনজেনুইটিকে শুরুতে তৈরি করা হয়েছিল একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে। এর উদ্দেশ্য ছিল খুবই সীমিত- মঙ্গল গ্রহের অত্যন্ত পাতলা বায়ুমণ্ডলে একটি হেলিকপ্টার উড়তে পারে কি না, সেটি প্রমাণ করা। বিজ্ঞানীরা দেখতে চেয়েছিলেন, হালকা ওজনের একটি উড়ন্ত যান সেখানে নিরাপদভাবে উড্ডয়ন করতে এবং কাজ চালিয়ে যেতে পারে কি না।

এটি সফল হলে ভবিষ্যতে রোভার বা মহাকাশযানগুলোর আগে আকাশপথে এলাকা পর্যবেক্ষণ করতে পারতো। এতে বিপজ্জনক স্থান এড়িয়ে নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা সহজ হতো। একই সঙ্গে ওপর থেকে এমন অনেক ভূতাত্ত্বিক গঠন দেখা যেত, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে শনাক্ত করা কঠিন। ফলে মঙ্গলের পৃষ্ঠে অনুসন্ধানের কাজ আরও দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো।
 
২০২১ সালের ১৯ এপ্রিল ইনজেনুইটি ইতিহাস গড়ে। সেদিন এটি প্রথমবারের মতো অন্য কোনো গ্রহে শক্তি ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। এই ঘটনাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার কিটি হকে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের প্রথম উড্ডয়নের সঙ্গে তুলনা করেন। নাসাও এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে স্মরণীয় করে রাখতে রাইট ভ্রাতৃদ্বয়ের বিখ্যাত ‘রাইট ফ্লায়ার’ বিমানের কাপড়ের একটি ছোট টুকরো ইনজেনুইটির সঙ্গে বহন করেছিল। এই সফল উড্ডয়ন শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন ছিল না, এটি মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

শুরুতে পরিকল্পনা ছিল মাত্র ৩০ দিনের একটি পরীক্ষামূলক মিশন পরিচালনা করা হবে এবং ইনজেনুইটি সর্বোচ্চ পাঁচবার উড়বে। কিন্তু বাস্তবে এই ছোট হেলিকপ্টার প্রায় তিন বছর ধরে কাজ চালিয়ে যায়। মিশন শেষ হওয়ার আগে এটি মোট ৭২টি সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন করে। ফলে এটি শুধু পরীক্ষামূলক যন্ত্র হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং মঙ্গলে থাকা পারসিভিয়ারেন্স রোভারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীতে পরিণত হয়। এর সাফল্য দেখিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের গ্রহ অভিযানে আকাশপথে চলাচলকারী যান যুক্ত করা হলে অনুসন্ধানের গতি ও কার্যকারিতা অনেক বাড়বে।

মঙ্গল গ্রহে উড্ডয়ন করা পৃথিবীর তুলনায় অনেক বেশি কঠিন। কারণ মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলের মাত্র ১ শতাংশ ঘন। এত পাতলা বায়ুতে ভেসে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উত্তোলন শক্তি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইনজেনুইটির দুটি কার্বন ফাইবার ব্লেড প্রতি মিনিটে প্রায় ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ বার ঘুরত। পৃথিবীর অধিকাংশ হেলিকপ্টারের তুলনায় এটি অনেক বেশি গতি। এ ছাড়া প্রকৌশলীদের ধুলাবালি, তীব্র বিকিরণ এবং রাতে মাইনাস ৯০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যাওয়া তাপমাত্রার মতো কঠিন পরিবেশ মোকাবিলা করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ইনজেনুইটি সফলভাবে উড়তে পেরেছে এবং দীর্ঘ সময় ধরে নির্ভরযোগ্যভাবে কাজও করেছে।

ইনজেনুইটির আগে মঙ্গল গ্রহে রোভার পরিচালনা ছিল ধীর ও জটিল একটি কাজ। রোভারকে প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে হতো। মিশন পরিচালনাকারীরা মূলত মাটি থেকে তোলা ছবির ওপর নির্ভর করতেন। ফলে নিরাপদ পথ নির্বাচন অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ত। অপরচুনিটি ও কিউরিওসিটির মতো রোভারগুলোকে মাঝেমধ্যে পথ পরিবর্তন করতে হয়েছে। কখনো কখনো বিপজ্জনক এলাকা এড়িয়ে আবার আগের পথে ফিরে যেতে হয়েছে। ২০১৪ সালে অপরচুনিটি রোভার নরম মাটিতে আটকে গেলে প্রকৌশলীরা কয়েক সপ্তাহ ধরে উদ্ধার পরিকল্পনা পরীক্ষা করেন। পরে সেটিকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। ইনজেনুইটি সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার একটি কার্যকর সমাধান দেখিয়েছে।


মজার বিষয় হলো, ইনজেনুইটির মিশন কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈরী পরিবেশের কারণে শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৭২তম উড্ডয়নের সময় এটি অবতরণের আগে মাটির দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য ঠিকভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। ফলে নেভিগেশন ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং হেলিকপ্টারটি শক্তভাবে সবলে অবতরণ করে। এতে এর ব্লেডগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আর সেগুলো মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এর মধ্য দিয়েই ইনজেনুইটির মিশনের সমাপ্তি ঘটে। তবে শেষ মুহূর্তেও এটি বিজ্ঞানীদের মূল্যবান তথ্য দিয়ে গেছে।

ইনজেনুইটির সাফল্যের গল্প যতটা উজ্জ্বল, শুরুটা ততটা সহজ ছিল না। নাসা এবং জেপিএলের অনেক বিজ্ঞানী শুরুতে এই প্রকল্প নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, অতিরিক্ত খরচ, সময় এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে মূল বৈজ্ঞানিক মিশন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পারসিভিয়ারেন্স প্রকল্পের বিজ্ঞানী কেনেথ ফারলি তখন বলেছিলেন, যদি কয়েক সপ্তাহ শুধু উড্ডয়ন পরীক্ষাতেই ব্যয় হয়, তাহলে রোভারের মূল গবেষণা কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে। তবে ইনজেনুইটির ধারাবাহিক সাফল্য দ্রুত সেই সন্দেহ দূর করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এটি মঙ্গল অভিযানের সবচেয়ে সফল প্রযুক্তি পরীক্ষাগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

ইনজেনুইটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, এটি প্রমাণ করেছে মঙ্গল গ্রহে নিয়ন্ত্রিত উড্ডয়ন শুধু সম্ভবই নয়, বরং এটি গ্রহ অনুসন্ধানের জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এই মিশন আরো দেখিয়েছে, সাধারণ ভোক্তাপর্যায়ের প্রযুক্তি—যেমন স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রসেসর—উপযুক্তভাবে পরিবর্তন করে মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে প্রকৌশলীরা এখন অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারছেন, মঙ্গলের মতো পরিবেশে উড়ন্ত যান কীভাবে কাজ করে, কী ধরনের নকশা সবচেয়ে কার্যকর এবং কোন সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা প্রয়োজন। বিশেষ করে নেভিগেশন, সেন্সর প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন ব্যবস্থার উন্নয়নে ইনজেনুইটির অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখছে।


সব মিলিয়ে ইনজেনুইটি শুধু একটি সফল প্রযুক্তি পরীক্ষা নয়। এটি গ্রহ অনুসন্ধানের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে। ছোট এই হেলিকপ্টার দেখিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে শুধু মঙ্গল নয়, সৌরজগতের আরো অনেক গ্রহ ও উপগ্রহে আকাশপথে অনুসন্ধান চালানো সম্ভব। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, আগামী কয়েক দশকে যে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ ড্রোন তৈরি হবে, তাদের পেছনে ইনজেনুইটির অবদান থাকবে সবচেয়ে বেশি।

ইরানে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত, বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে ট্রাম্পের হামলা স্থগিত, বিশ্ববাজারে ডলারের দরপতন
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করায় আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় এবং স্বর্ণের দামও বেড়ে যায়।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির পথ তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনা এখন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ নিয়ে গঠিত একটি বড় আঞ্চলিক জোটও এই চুক্তির প্রতি সমর্থন দিয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান এই চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

সাধারণত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বা সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডে অর্থ রাখেন। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং এর মূল্যও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু যখন যুদ্ধ বা সংঘাত কমার সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা দেখা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ যেমন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায় এবং দামও নিচে নামে। বৃহস্পতিবার ঠিক এমনটিই ঘটেছে। ট্রাম্পের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত পাওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।

এর আগে দিনের শুরুতে ট্রাম্প কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাতে ইরানের ওপর ‘খুব কঠিন আঘাত’ হানতে পারে। এ ছাড়া তিনি ইরানের জ্বালানী অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের হামলার পর পরিস্থিতি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে সেই আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়।

সুইস ফ্রাঁর বিপরীতে ডলারের মূল্য ০ দশমিক ৬৮ শতাংশ কমে ০ দশমিক ৭৯৪৮-এ নেমে আসে। দিনের শুরুতে যে সামান্য লাভ হয়েছিল, তাও হারিয়ে ফেলে ডলার। পাশাপাশি টানা চার দিনের উত্থানের ধারাও থেমে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ইয়েন, ইউরোসহ কয়েকটি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান পরিমাপকারী ডলার সূচক ০ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ৯৯ দশমিক ৬৪-এ নেমে আসে। এটি প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান।

মনেক্স ইউএসএর ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক হুয়ান পেরেজ বলেন, বিনিয়োগকারীরা এখন এমন পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন, যেখানে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ে আবার কিছু সময় পর তা কমেও যায়। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বা সংঘাতের আশঙ্কা থাকলে ডলার শক্তিশালী হয়। কিন্তু যখন মনে হয় যুদ্ধ থেমে যেতে পারে এবং শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ে। এর ফলে ডলারের চাহিদা কমে যায়।

ব্যানকবার্ন গ্লোবাল ফরেক্সের প্রধান বাজার কৌশলবিদ মার্ক চ্যান্ডলারও একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে এসে শান্তির সম্ভাবনার কথা বলায় বিনিয়োগকারীরা বেশি ঝুঁকি নিতে শুরু করেছেন। ফলে তারা শেয়ার ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ কিনছেন এবং ডলার বিক্রি করছেন।


ডলারের দুর্বলতার কারণে ইউরো, পাউন্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মতো অন্যান্য প্রধান মুদ্রার দাম বেড়েছে।

ইউরোর মূল্য ০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ১৫৮২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও দিনের শুরুতে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদের হার বাড়ানোর পর ইউরো কিছুটা দুর্বল হয়েছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলার লক্ষ্যেই সুদের হার বাড়ানো হয়।

ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪১৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের দাম ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০৪৮ ডলারে ওঠে।

অন্যদিকে জাপানি ইয়েনের মূল্য ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৯ দশমিক ৭৩ ইয়েনে পৌঁছায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হার এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে জাপান সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে লেনদেন শেষ করে। এর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক সূচক সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। দিন শেষে সূচকটি ২ দশমিক ৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের মুনাফার হারও কমেছে। ১০ বছর মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা ৮ দশমিক ৭ বেসিস পয়েন্ট কমে ৪ দশমিক ৪৫৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সাধারণত বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ থেকে অর্থ সরিয়ে শেয়ারবাজারে গেলে বন্ডের চাহিদা ও মুনাফার হারে পরিবর্তন দেখা যায়।

ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ২০৯ দশমিক ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। 

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের নেতৃত্বে প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বাজারের ধারণা, সেখানে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হবে। রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ অর্থনীতিবিদও মনে করছেন, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে। তবে আর্থিক বাজারের অনেক ব্যবসায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধরে বিনিয়োগ কৌশল সাজাচ্ছেন।

এদিকে আগামী সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ১৫ ও ১৬ জুনের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে জানা গেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেও গভীরভাবে নজর রাখছেন।

তিন বছরের বেশি কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভার মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
তিন বছরের বেশি কোমায় থাকার পর থাই রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভার মৃত্যু

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কোমায় থাকার পর থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে থাই রাজপ্রাসাদ। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।

রাজপ্রাসাদের তথ্যমতে, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে কুকুর নিয়ে ব্যায়াম করার সময় তিনি হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। চিকিৎসকেরা পরে জানান, হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট গুরুতর অনিয়মিত হৃদস্পন্দন তার এই অবস্থার জন্য দায়ী।

বিবৃতিতে বলা হয়, চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা দিলেও তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে তিনি মারা যান।

রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর তিনি রাজা ভাজিরালংকর্ন ও তার প্রথম স্ত্রী প্রিন্সেস সোমসাওয়ালির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে দেশে ফিরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন এবং কারাগার সংস্কার, বিশেষ করে নারী বন্দিদের অধিকার নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইনের শাসনবিষয়ক ইউএনওডিসির শুভেচ্ছাদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কারের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

২০২১ সালে রাজা ভাজিরালংকর্ন তাকে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং জেনারেল পদমর্যাদা প্রদান করেন।

ফিটনেসপ্রেমী হিসেবে পরিচিত বজ্রকিতিয়াভা দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতায়ও নিয়মিত অংশ নিতেন। তার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং রাজার আস্থাভাজন হওয়ার কারণে তাকে থাইল্যান্ডের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করতেন। ৭৩ বছর বয়সী রাজা ভাজিরালংকর্ন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করেননি। যদিও থাই রীতি অনুযায়ী সিংহাসনের উত্তরাধিকারী সাধারণত পুরুষ হন, ১৯৭৪ সালের সাংবিধানিক সংশোধনী নারীদেরও সিংহাসনে আরোহণের সুযোগ দিয়েছে।

রাজকুমারীর মৃত্যুতে থাইল্যান্ডের রাজপরিবার তাদের অন্যতম প্রভাবশালী ও অভিজ্ঞ সদস্যকে হারাল। একই সঙ্গে দেশটির রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রশ্নটি আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র : বিবিসি