• ই-পেপার

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের ‘বিতর্কিত’ তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

অনলাইন ডেস্ক
বিল গেটসকে যেভাবে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন এপস্টেইন

চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইল প্রকাশের পর তার সঙ্গে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে এ বিষয়ে গেটসের একটি সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্যদের এসব তথ্য দিয়েছেন গেটস। সেখানে তিনি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন

হাউস ওভারসাইট কমিটির শুনানিতে উদ্বোধনী বক্তব্যে এই মার্কিন ধনকুবের বলেন, ‘আমি এপস্টেইনকে কখনো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকতে দেখিনি এবং এর কোনো আভাসও পাইনি।’

লিটল সেন্ট জেমস বা এপস্টাইন দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে বিল গেটস বলেন, ‘আমি কখনো তার দ্বীপ, তার খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাড়িতে যাইনি। আমি কখনো কাউকে ভুক্তভোগী বানাইনি। তিনি হয়তো একটি ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আমি তাতে সাড়া দিইনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানতে পারি, এপস্টিন আমার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সংবেদনশীল তথ্য জেনে গেছেন। এর মধ্যে ছিল আমার বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি।’

তবে এই পরকীয়া আর এপস্টেইনের সঙ্গে আমার মেলামেশার কোনো সম্পর্ক ছিল না। এগুলো আমার পরিবারের জন্য কষ্টদায়ক ছিল বলেও জানান তিনি।

গেটস তার সাক্ষ্যে অভিযোগ করেন, তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এপস্টেইন তার পরকীয়া সম্পর্কে যা জানতেন, তাতে আরও অনেক মিথ্যা তথ্য যোগ করে তার সঙ্গে আবার যোগাযোগ শুরু করতে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে গেটস আরো বলেন, ‘এপস্টেইন এই চেষ্টায় সফল হননি। আমার আসলে এপস্টেইনের সঙ্গে আমার দেখাই করা উচিত হয়নি।’

কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘সীমিত’ বলে বর্ণনা করেন গেটস। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তাদের যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

গেটসের সাক্ষ্য সম্পর্কে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবারি বলেন, ‘এপস্টিনের সুনাম বা কুখ্যাতি সম্পর্কে জানতেন বলে স্বীকার করেছেন বিল গেটস। তিনি স্বীকার করেছেন এপস্টিন যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত, তার ভাষায়, তিনি ধনী দাতাদের কাছে পৌঁছানোর গ্রহণযোগ্য একটি মাধ্যম হিসেবে এই সীমিত সম্পর্ক রেখেছিলেন।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছর কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের ফাইলগুলো প্রকাশের পর তার সঙ্গে গেটসের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই রুদ্ধদ্বার কক্ষে গেটসের এই সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে বলে জানায় মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননে দফায় দফায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৬
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননের টাইর জেলায় একাধিক ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে এ তথ্য জানায় আলজাজিরা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইর জেলার আল-আব্বাসিয়াহ শহরে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হন। একই জেলার দেইর কানুন আন-নাহের এলাকায় আরেকটি হামলায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনী ওয়াদি জিলু গ্রামের কাছে একটি মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ওই হামলায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এনএনএ জানিয়েছে, একই সময়ে টাইর জেলার আল-মাজাদেল এবং মাজদাল জুন শহরেও বিমান হামলা বা অভিযানের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা

অনলাইন ডেস্ক
ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা
সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূলে আরো একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ভারতের দূতাবাস ও ওমান কর্তৃপক্ষ। 

গলফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ নিয়ে পরপর তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ওমানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আরও তথ্যের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তৃতীয় সামুদ্রিক ঘটনা

ওমান উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি তৃতীয় সামুদ্রিক হামলা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এগুলো পৃথক ঘটনা- এ বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এমটি মারিভেক্সে আগুন

গত ৮ জুন প্রথম ঘটনা ঘটে, যখন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে তখন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগে এবং দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে জানা যায়, ভারতীয় নাবিকদের সবাই নিরাপদে ছিলেন। তবে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।

সেটেবেলোতে হামলা, নিহত ৩ ভারতীয় নাবিক

এরপর ১০ জুন ওমান উপকূলে ‘সেটেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পরে নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী তিনি জানান, জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ স্বদেশে পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

তদন্ত অব্যাহত

ভারত সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক তিনটি সামুদ্রিক ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূল ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাবিকদের সম্পৃক্ততা থাকায় নয়াদিল্লি পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে।

পাকিস্তানের কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত, আরো হতাহত ১৬

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানের কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত, আরো হতাহত ১৬

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এতে আরো আহত হয়েছে ৩৭ জন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য জানায়।

এর আগে বিভিন্ন দাবিতে অঞ্চলটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) নামে একটি সামাজিক সংগঠন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান সরকার আন্দোলন পরিচালনাকারী সংগঠন জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। 

এতে বিক্ষোভের তীব্রতা আরো বাড়ে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বল প্রয়োগ করলে সংঘর্ষ এক ব্যবসায়ী নিহতের ঘটনায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়। গত রবিবার বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনীর গুলিতে ৩০ জন হতাহত হয়। আহত হয় প্রায় ২০০-এর বেশি।

এতে বিক্ষোভ রাওলাকোট ছাড়িয়ে মুজাফফরাবাদ বাগ এবং নীলম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর পাশাপাশি পেট্রল বোমা ব্যবহার করেছে বলে প্রশাসন দাবি করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।