• ই-পেপার

পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি ৪৮ দেশের পতাকায় বিশ্বকাপের আমেজ

খুলনা সিটি মেডিক্যালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

খুলনা অফিস
খুলনা সিটি মেডিক্যালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ক্রেন দিয়ে রোগী ও স্বজনদের নামিয়ে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরও ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নীচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কী কারণে লেগেছে তা জানা যায়নি। জেনারেটর ছাড়াও সেখানে ওই হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন রয়েছে। সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।

এদিকে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি দেখা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগীর স্বজনদেরকে জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দেখা যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সিঁড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও হাসপাতালটি ১৬ তলাবিশিষ্ট। তবে এতবড় হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের কোনো সিঁড়ি নেই। এজন্য রোগী ও স্বজনদের বেশ আতঙ্কগ্রস্ত দেখা যায়। 

আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। 

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ধোঁয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত হওয়ায় আশপাশের অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয়রাও কাজ করছেন।

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ রুখে দিতে বিজিবির পাশে মহেশপুরবাসী

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
বিএসএফের ‘পুশ ইন’ রুখে দিতে বিজিবির পাশে মহেশপুরবাসী
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ ইনের (জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার) একাধিক অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সেখানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আর এই সুরক্ষাকে আরো শক্তিশালী করতে বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সীমান্তের সাধারণ মানুষ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ। ফলে বিএসএফের একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারেনি। 

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। মহেশপুরের সঙ্গে ভারতের মোট ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার ৬৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও, যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ বেড়াহীন। মূলত এই অরক্ষিত ১০ কিলোমিটার সীমান্তকেই পুশ ইনের জন্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ। এর মধ্যে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা ও বাঘাডাঙ্গাসহ অন্তত পাঁচটি বিওপি এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বারবার ভেস্তে যাচ্ছে তাদের সেই অপকৌশল।

গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, ‘কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে ভারতের তৈরি সড়কে গত এক সপ্তাহে বড় বড় কিছু গাড়ি আসতে দেখেছি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বড় বড় গাড়িতে করে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন ধরে এনে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ।’ তবে গ্রামবাসী ও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে গত কয়েকদিনে অন্তত পাঁচটি পুশ ইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি জানান।

পাখরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিপুল হোসেন বলেন, ‘বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে লোক ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছে। কিন্তু তাদের এই অপচেষ্টা রুখতে আমরা এলাকাবাসী দিন-রাত বিজিবির পাশে আছি।’ সীমান্তের কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলেই গ্রামবাসী শোরগোল শুরু করছেন, মাইকিং করছেন এবং শক্তিশালী টর্চ লাইটের আলো ফেলে বিএসএফের চক্রান্ত ভণ্ডুল করে দিচ্ছেন।’

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো পুশ ইনের ঘটনা ঘটেনি। কয়েকবার পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে আমাদের বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে আমাদের সব ধরনের রিসোর্স ও জনবল কাজে লাগানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই মুহূর্তে দেশের সীমান্ত পাহারা কেবল বিজিবির একার দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, আনসার সদস্য এবং গ্রাম পুলিশও গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৈনিকদের সঙ্গে রাতের টহলে যোগ দিচ্ছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বিজিবি এক ইঞ্চি মাটিও ছাড় দেবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার আজগরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আনু মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৫) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একই ইউনিয়নের ছিলইন গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী।

রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি, পুরোহিত হাসপাতালে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি, পুরোহিত হাসপাতালে
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত অবস্থায় মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের উত্তর চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। আহত বিমল চক্রবর্তী চরপাতা ইউনিয়নের গোপাল গিরিধারী মন্দিরের পুরোহিত। 

জানা গেছে, মন্দিরের জমিদাতা শচিবালা দাস ছিলেন নিঃসন্তান। জীবদ্দশায় তিনি কাজল দাসদের কাছে সাড়ে ৫১ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এ ছাড়া মন্দিরের জন্য সোয়া ৮ শতাংশ জমি দেবোত্তর করে দিয়ে যান। তার মৃত্যুর পরও সাড়ে ৭ শতাংশ জমি রয়ে যায়। এতে ওই জমিতে তার সমাধি রয়েছে। বাকি অংশে শিব মন্দির স্থাপনের উদ্যোগে নেওয়া হয়। এরমধ্যে জমি দাবি করে কাজল ১৪৪ ধারা মামলা করে। ওই মামলা আদালত খারিজ করে দেন। সেখানে পরে শিবের মূর্তি বসানোসহ কর্মযজ্ঞ শুরু করলে ফের কাজলরা বাধা দেয়। এসব নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কাজল পুরোহিত বিমলের ওপর হামলা করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় মন্দিরের পুরোহিত বিমলের নাক ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

মন্দির কমিটির উপদেষ্টা পলাশ দাস বলেন, ‘মন্দিরের জমি কাজল নিজের দাবি করে একের পর এক মামলা ও ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। মন্দির স্থাপনে সে বাধা প্রদান করে আসছে। সবশেষ হামলা চালিয়ে তিনি আমাদেরকে মারধর করে। পুরোহিতকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’ 

কাজল দাসের স্ত্রী পপি দাস বলেন, ‘সচিবালা দাস থেকে আমরা ৫১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমিতে গিরিধারী মন্দিরের লোকজন রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক শিবমন্দির স্থাপন করে। এটি তাদের শয়তানি। এতে বাধা দেওয়ায় তারা লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার স্বামীকে মারার জন্য তারা ওই পেতে রয়েছে। 

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে বলেও শুনেছি। এ নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করা হবে। 

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’