• ই-পেপার

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ রুখে দিতে বিজিবির পাশে মহেশপুরবাসী

টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি প্রতিমন্ত্রী টুকু

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি প্রতিমন্ত্রী টুকু
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরিফ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভাপতি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপিকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নবনিযুক্ত সভাপতির নেতৃত্বে টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনসেবার মান আরও উন্নত হবে।

খুলনা সিটি মেডিক্যালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট

খুলনা অফিস
খুলনা সিটি মেডিক্যালে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১২ ইউনিট
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনা মহানগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাসপাতাল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ক্রেন দিয়ে রোগী ও স্বজনদের নামিয়ে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে আরো ৬টি ইউনিট সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে ফায়ার সার্ভিসের খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নীচতলার জেনারেটর রুম থেকে ধোয়া দেখার পর ফায়ার সার্ভিস খবর দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ঠিক কোন জায়গা থেকে বা কী কারণে লেগেছে তা জানা যায়নি। জেনারেটর ছাড়াও সেখানে ওই হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন রয়েছে। সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।

এদিকে, আগুনের চেয়ে ধোঁয়া বেশি দেখা গেছে ঘটনাস্থলে গিয়ে। এজন্য হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগীর স্বজনদেরকে জানালার গ্লাস ভেঙে অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দেখা যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসের মই দিয়ে সিঁড়ি সংলগ্ন জানালা থেকেও রোগী ও স্বজনদের নামাতে দেখা যায়। ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত যেতে পারে, যদিও হাসপাতালটি ১৬ তলাবিশিষ্ট। এজন্য রোগী ও স্বজনদের বেশ আতঙ্কগ্রস্ত দেখা যায়।

আগুনের ঘটনার পরপরই বেশকিছু রোগীকে নামিয়ে শান্তিধাম মোড়স্থ ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল ও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ধোঁয়ার কারণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত হওয়ায় আশপাশের অবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ও রোগীদের সরিয়ে নিতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয়রাও কাজ করছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। এখন পর্যন্ত সবকিছু মোবাইলে খোঁজখবর রাখছেন তিনি। কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি।

লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার আজগরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আনু মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৫) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একই ইউনিয়নের ছিলইন গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী।

পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি ৪৮ দেশের পতাকায় বিশ্বকাপের আমেজ

মেনহাজুল ইসলাম
পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি ৪৮ দেশের পতাকায় বিশ্বকাপের আমেজ
সংগৃহীত ছবি

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সেই আমেজ ছুঁয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের একটি বিদ্যালয়েও। শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে বালিকা বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পতাকার রঙে-রঙে সেজে ওঠা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের ক্ষুদে মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পতাকা প্রদর্শনীর পাশাপাশি ক্রীড়াভিত্তিক কুইজ ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা বিদ্যালয় চত্বরে প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পরিচিতি, জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরি করে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়ী জান্নাত বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দেশের পতাকা তৈরির কাজে অংশ নিয়েছি। এতে বিভিন্ন দেশের নাম ও তাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘আমি ব্রাজিল দলের সমর্থক। কয়েকটি দেশের পতাকা তৈরি করেছি। তবে মেক্সিকোর পতাকা বানানো তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল।’

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো দেশের জাতীয় পতাকা আগে কখনো দেখিনি। এই আয়োজন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি শিক্ষণীয়ও। ভবিষ্যতে বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে—এটাই আমাদের স্বপ্ন।’

বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক রুখসানা খাতুন জানান, পতাকা প্রদর্শনীর পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ফুটবল বিশ্বকাপ ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, সংস্কৃতি ও পরিচিতি সম্পর্কে জানতে পারছে। পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও তাদের আগ্রহ বাড়ছে।’

বিশ্বকাপকে ঘিরে বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ায় উদ্যোগটি প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার এমন আয়োজন এলাকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।