• ই-পেপার

পাকিস্তানের কাশ্মীরে বিক্ষোভ অব্যাহত, আরো হতাহত ১৬

ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা

অনলাইন ডেস্ক
ওমান উপকূলে নতুন আতঙ্ক, পরপর ৩ ভারতীয় জাহাজে হামলা
সংগৃহীত ছবি

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ওমান উপকূলে আরো একটি ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি ভারতের দূতাবাস ও ওমান কর্তৃপক্ষ। 

গলফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে একটি ভারতীয় জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ নিয়ে পরপর তিনটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ

মাসকাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে ওমানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং আরও তথ্যের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছি।

এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কিংবা কোনো হতাহত বা আহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

তৃতীয় সামুদ্রিক ঘটনা

ওমান উপকূলে অল্প সময়ের ব্যবধানে এটি তৃতীয় সামুদ্রিক হামলা। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, নাকি এগুলো পৃথক ঘটনা- এ বিষয়ে ওমান কর্তৃপক্ষ এখনও তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

এমটি মারিভেক্সে আগুন

গত ৮ জুন প্রথম ঘটনা ঘটে, যখন হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। জাহাজটিতে তখন ২৪ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে আগুন লাগে এবং দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পরে জানা যায়, ভারতীয় নাবিকদের সবাই নিরাপদে ছিলেন। তবে আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়।

সেটেবেলোতে হামলা, নিহত ৩ ভারতীয় নাবিক

এরপর ১০ জুন ওমান উপকূলে ‘সেটেবেলো’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ জন ভারতীয় নাবিকের মধ্যে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল পরে নিশ্চিত করেন, নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন।

নৌপরিবহনমন্ত্রী তিনি জানান, জীবিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের মরদেহ স্বদেশে পাঠানোর জন্য সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দেন তিনি।

তদন্ত অব্যাহত

ভারত সরকার জানিয়েছে, সর্বশেষ ঘটনাসহ সাম্প্রতিক তিনটি সামুদ্রিক ঘটনার বিষয়ে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরো তথ্য প্রকাশ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূল ঘিরে চলমান নিরাপত্তা সংকট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভারতীয় নাবিকদের সম্পৃক্ততা থাকায় নয়াদিল্লি পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজর রাখছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ
রয়টার্স ছবি

চলমান বৈশ্বিক উত্তেজনার মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। বৃহস্পতিবার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে বলেছেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, পদত্যাগপত্রে জন হিলি অভিযোগ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকির মুখে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করতে যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার ও অর্থ মন্ত্রণালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, ‘দেশকে রক্ষার জন্য এই সময়ে যে সম্পদ প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে আপনি সক্ষম হননি এবং ট্রেজারি (অর্থ মন্ত্রণালয়) তা দিতে অনিচ্ছুক ছিল।’

এদিকে কয়েক মাস ধরে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ব্যয় সংক্রান্ত মতবিরোধের কারণে সরকারের বহুল প্রত্যাশিত ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ গত বছর থেকে আটকে আছে।

ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্প খাত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের দাবি, পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

একদিকে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ কমে আসছে, অন্যদিকে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত ব্রিটেনের সামরিক প্রস্তুতির ঘাটতিও সামনে নিয়ে এসেছে। চলমান এই সংঘাতে ব্রিটিশ নৌবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে একটি উন্নত যুদ্ধজাহাজ অঞ্চলে মোতায়েন করতে পারেনি।

প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো— সামরিক সরঞ্জাম ও সেবাখাতে অর্থায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করা। যাতে সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ ‘যুদ্ধ-প্রস্তুত’ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়। এ বিষয়ে গতকাল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানান, আগামী ৭ জুলাই শুরু হতে যাওয়া ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগেই পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হবে।

তবে পদত্যাগপত্রে হিলি বলেন, ‘ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের জন্য যে আর্থিক বরাদ্দ আমাকে দেওয়া হয়েছে—যার পূর্ণ বিবরণ আমি চলতি সপ্তাহের সোমবার বিকেলে প্রথম পাই। যদিও তা এই বিপজ্জনক সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার তুলনায় অনেক কম।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা আমাদের বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দেবে, অভিযানে নিয়োজিত সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে আরও অনিরাপদ করে তুলতে পারে।’

হিলির পদত্যাগ ব্রিটিশ সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি দেশটির প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক ব্যয় নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরো তীব্র করে তুলতে পারে।

আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি : ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন পরিস্থিতিতে দেশটির মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য আবারও উসকে দিচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

গত তিন বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’। 

মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিলের ৩.৮ শতাংশ থেকে বেশি।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা বলছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি।’

তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি মূল্যস্ফীতি বাড়াকে সমর্থন করেননি; বরং প্রত্যাশার তুলনায় মূল্যস্ফীতি আরো বেশি না হওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘যুদ্ধ চলার পরও মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে কম। যুদ্ধ শেষ হলে এটি আরো কমে যাবে এবং সংঘাত শুরুর আগের সময়ের চেয়েও নিচে নেমে আসবে।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং ইরানের জ্বালানির ওপর চাপ সৃষ্টির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তার মতে, ইরান সংঘাত শেষ হলে জ্বালানির দাম দ্রুত হ্রাস পাবে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলা শুরুর সময় এই দাম ছিল ২.৯৮ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন ও যোগাযোগ খাতেও ব্যয় বেড়েছে বলে সরকারি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। বর্তমানে সুদের হার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড সাধারণত সুদের হার বৃদ্ধি করে থাকে।

ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়ে বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারাও সমালোচনা করেছেন। সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘সাধারণ মানুষের প্রতি তার অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।’

টানা দ্বিতীয় রাতের সহিংসতায় বেলফাস্টে ১২ পুলিশ আহত, আটক ১৬

অনলাইন ডেস্ক
টানা দ্বিতীয় রাতের সহিংসতায় বেলফাস্টে ১২ পুলিশ আহত, আটক ১৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর উত্তর আয়ারল্যান্ডে টানা দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতা ও অস্থিরতা দেখা গেছে। এ ঘটনায় ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন এবং ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডবিষয়ক সেক্রেটারি হিলারি বেন বলেছেন, মঙ্গলবার রাতের তুলনায় বুধবার রাতে সহিংসতা কিছুটা কম ছিল। তবে দ্বিতীয় রাতেও দাঙ্গা চলতে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

এদিকে ছুরিকাঘাতে নিহত ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, তারা এই সহিংস ঘটনাগুলো দেখে খুবই মর্মাহত ও বিরক্ত।

সোমবারের ছুরিকাণ্ডের পর কো অ্যান্ট্রিম এলাকায় মুখোশধারী দাঙ্গাকারীরা পুলিশের দিকে ইট ও পেট্রল বোমা ছুড়ে মারে। বেলফাস্টের উত্তর-পশ্চিমে নিউ টাউনঅ্যাবির স্যান্ডিনোজ রাউন্ডঅ্যাবাউট এলাকায় পুলিশ ও দাঙ্গাকারীদের সংঘর্ষের সময় একটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক ও মুখ ঢাকা কয়েক ডজন ব্যক্তি অ্যান্ট্রিম রোডে জড়ো হয়ে ইট ও পাথর সংগ্রহ করছে। তারা হাতুড়ি দিয়ে পাথর ভেঙে পুলিশের দিকে নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত করছিল।

নিউ টাউনঅ্যাবির স্যান্ডিনোজ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুটি জলকামান ব্যবহার করে। সেখানে প্রায় ২০০ জন মানুষ জড়ো হয়েছিল। এ সময় কিছু বিক্ষোভকারী একটি পেট্রোল স্টেশনের কাছে পরিত্যক্ত একটি ভবনে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের ব্যারিকেড লক্ষ্য করে পেট্রল বোমাও নিক্ষেপ করে।

এ ছাড়া দাঙ্গাকারীদের বাড়ির সামনে থাকা চাকার ময়লার বিন টেনে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। ডেরি শহরের আর্ডমোর রোড এলাকাতেও বিভিন্ন জিনিসপত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দ্বিতীয় রাতেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় উত্তর আয়ারল্যান্ডে কিছু গণপরিবহন সেবা বন্ধ রাখা হয় এবং কয়েকটি স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করে।

এদিকে ৩০ বছর বয়সী হাদি আলোদিদ বুধবার আদালতে হাজির হন। সোমবারের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আহত স্টিফেন ওগিলভি একটি চোখ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আলোদিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্টিফেন ওগিলভির পরিবার জানিয়েছে, চল্লিশোর্ধ্ব ওগিলভি বর্তমানে বেলফাস্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল।

ছুরিকাঘাতে আহত স্টিফেন ওগিলভির পরিবার পুলিশ মারফত দেওয়া এক বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলা নিয়ে ছড়ানো ‘ভুল তথ্য’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সাম্প্রতিক সহিংসতা ও দাঙ্গার ঘটনায় নিজেদের ‘ঘৃণা ও বিরক্তি’ প্রকাশ করেছে।

পরিবারটি বলেছে, ‘এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যে সহিংসতা চলছে, আমরা তা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ।’ তারা আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক অভিবাসী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। স্বাস্থ্যসেবা ও আতিথেয়তা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং দেশের কার্যক্রম সচল রাখতে তাদের অবদান প্রয়োজন।’

এদিকে এই ঘটনার পর মঙ্গলবার বেলফাস্টে কয়েকটি বাড়ি, একটি বাস ও একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিছু মানুষকে তাদের জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘যারা এই বিভাজন ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’