• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন

ম্যাখোঁর সফরের মধ্যেই সিরিয়ার রাজধানীতে ২ বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক
ম্যাখোঁর সফরের মধ্যেই সিরিয়ার রাজধানীতে ২ বিস্ফোরণ
ছবি : রয়টার্স

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কেন্দ্রে মঙ্গলবার সকালে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেলেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এলিসি প্রাসাদ। ম্যাখোঁ বর্তমানে সিরিয়ায় সফরে রয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠক করছেন।

একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দুটি বিস্ফোরক যন্ত্রের কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে রাজধানীর একটি হোটেলের কাছে একটি গাড়ি থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিস্ফোরণের খবরের মধ্যেই আহমেদ আল-শারা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ম্যাখোঁ স্বাগত জানান।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিস্ফোরণটি দামেস্কের ফোর সিজনস হোটেল থেকে প্রায় ১২৫ মিটার দূরে একটি প্রধান সড়কের পাশে ঘটেছে। ফরাসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে যাওয়ার পথে ম্যাখোঁ কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। সফর শেষে তিনি ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে এবং তার সফরসূচি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলবে।

সোমবার সন্ধ্যায় সিরিয়ায় পৌঁছে এমানুয়েল ম্যাখোঁ দেশটিতে সফরকারী প্রথম ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। গত বছর বাশার আল-আসাদের ২৪ বছরের শাসনের পতনের পর এই প্রথম কোনো ইইউ নেতা সিরিয়া সফর করলেন। এর আগে জুলাই মাসের শুরুতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে একটি ব্যস্ত ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ২২ জন আহত হন বলে জানিয়েছিল সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
 

ভারত

রাখালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সিংহ, যেভাবে রক্ষা পেলেন

অনলাইন ডেস্ক
রাখালের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল সিংহ, যেভাবে রক্ষা পেলেন
ছবি : ইন্ডিয়া টুডে।

ভারতের গুজরাটের ভাবনগর জেলায় এক রাখালের ওপর সিংহের ভয়াবহ হামলার ঘটনা ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পালিতানা তালুকার গারজিয়া গ্রামে। 

সেখানে একটি সিংহ হঠাৎ এক পশুপালকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সিংহটি ওই ব্যক্তিকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে। আশপাশের লোকজন প্রাণীটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করলেও প্রথমে সেটি শিকারকে ছাড়তে রাজি হয়নি।

এ সময় গ্রামবাসীদের চিৎকার শোনা যায় এবং কয়েকজন সিংহটিকে দূরে সরাতে পাথর নিক্ষেপ করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিংহটি পশুপালকের পায়ে কামড় বসায়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত পশুপালকের নাম কালুভাই বোগভাই গামারা। রবিবার সকালে তিনি নিজের বাড়িতে ছিলেন, তখনই সিংহটি হঠাৎ তার ওপর হামলা চালায়। হামলার পর তাকে দ্রুত পালিতানা সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ভাবনগর সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ঘটনার পরপরই বন বিভাগ গ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত সিংহটিকে শনাক্ত ও ধরার অভিযানও শুরু করেছেন কর্মকর্তারা।

পালিতানা বন বিভাগের কর্মকর্তা চিরাগ আমিন জানান, হামলার পর এলাকায় একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিংহটিকে ধরতে অভিযান চলছে। এ ঘটনার পর গারজিয়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে গবাদিপশুর মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের পরিবার এবং পশুসম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

চীনে ভূমিধসে ১৬ জন নিখোঁজ, বজ্রঝড়ে নিহত ৮; আহত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
চীনে ভূমিধসে ১৬ জন নিখোঁজ, বজ্রঝড়ে নিহত ৮; আহত শতাধিক
ছবি : রয়টার্স

.চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কানসু প্রদেশে পাহাড়ধসে অন্তত ১৬ জন মাটির নিচে আটকে পড়েছেন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্যোগে অন্তত ২৭৫ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানায়, প্রাদেশিক জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিধসের সময় মোট ৩৩ জন আটকা পড়েছিলেন। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৬ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

ভূমিধসের ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে চলতি সপ্তাহে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বজ্রঝড়, ভারি বৃষ্টি এবং তীব্র দমকা হাওয়া আঘাত হেনেছে। আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতির কারণে একাধিক স্থানে জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সোমবার রাতে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বজ্রঝড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
 

দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ১০ হাজার মানুষ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল, ঘরছাড়া ১০ হাজার মানুষ
ছবি: রয়টার্স

দক্ষিণ ফ্রান্সে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি বড় দাবানলের কারণে স্পেন সীমান্তের কাছাকাছি অন্তত দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই এলাকায় জোরালো বাতাস বইছে। ফলে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ফ্রান্সকে সহায়তা করতে সাইপ্রাস ও সুইডেন থেকে চারটি বিশেষ পানি ছিটানো উড়োজাহাজ পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ১০০ জনের বেশি দমকলকর্মীকেও ফ্রান্সে পাঠানো হবে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, এই সংকটে ইউরোপ ফ্রান্সের পাশে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান পিয়ের রেনো দ্য লা মোত জানান, দাবানলে এখন পর্যন্ত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন দমকলকর্মী রয়েছেন, যারা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফরাসি পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে ত্রেভিয়াক এলাকায় আগুনে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ফ্রান্স এবং পশ্চিম ইউরোপজুড়ে অস্বাভাবিক গরম পড়েছিল। দীর্ঘ সময়ের তাপপ্রবাহে বনাঞ্চল ও ঘাস শুকিয়ে যাওয়ায় এ বছর দাবানলের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম বড় সাইকেল প্রতিযোগিতা 'ট্যুর দ্য ফ্রান্স'- এর তৃতীয় ধাপের রুটের কাছাকাছি এলাকায়ও। নিরাপত্তার কারণে সোমবার ওই এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ট্যুর দ্য ফ্রান্সের পরিচালক ক্রিস্তিয়ান প্রুধোম বলেন, এতে দমকলকর্মীরা সহজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে পারছেন। তিনি আরো জানান, প্রতিযোগিতার সঙ্গে চলা গাড়ির বহরও কমিয়ে আনা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবার কাজে কোনো বাধা না হয়। 

এই ধাপের প্রতিযোগিতা ১৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। এটি স্পেনের গ্রানোলিয়ের্স শহর থেকে শুরু হয়ে ফ্রান্সের পিরেনে-ওরিয়ঁতাল অঞ্চলের লে জঁগলে গিয়ে শেষ হবে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, ইউরোপে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরো ঘন ঘন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপপ্রবাহ ও দাবানলের মতো দুর্যোগ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে তাপমাত্রা আবারও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। একই সময়ে পর্তুগাল ও স্পেনেও নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। তবে জুন মাসে যে রেকর্ড গরম পড়েছিল, এবার সেই মাত্রায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। স্পেনের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও দাবানলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ৯৭ শতাংশই সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা লেস গাভারেসের ভেতরে। তবে স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই এলাকার আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ সপ্তাহের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে। 

এদিকে কাতালোনিয়ায় দাবানলের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি আঞ্চলিক সরকারের চুক্তিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার পাশে অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার ব্যবহার করার সময় তার কাজ থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। অন্যদিকে, কাতালোনিয়ার দক্ষিণে কাস্তেয়োন প্রদেশে আরেকটি দাবানল সিয়েরা দে এস্পাদান জাতীয় উদ্যানে ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাটিতে কর্ক ওক গাছের বড় বন রয়েছে। আগুনের ঝুঁকির কারণে সেখান থেকে অন্তত ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুধু ফ্রান্স বা স্পেন নয়, পর্তুগালেও গত কয়েক দিনে শত শত দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সবচেয়ে বড় দাবানলে ইতোমধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমি পুড়ে গেছে। এই আয়তন প্রায় ১৪ হাজারটি ফুটবল মাঠের সমান।