• ই-পেপার

১৬ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার নিশ্চিত করবে সরকার : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাইব্যুনালে প্রকৃত অপরাধীদেরই বিচার নিশ্চিত করবে সরকার : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে কোনো রাজনৈতিক হয়রানি নয়, বরং শুধুমাত্র প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করছে সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পলাতক আসামিদের জন্য সরকারি খরচে আইনজীবীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২০তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পলাতক আসামিদের ন্যায্য বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) রুলস অব প্রসিডিউর, ২০১০’ অনুযায়ী ১৭টি মামলায় ৪৪ জন আইনজীবীকে ‘স্টেট ডিফেন্স লইয়ার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার নিশ্চিত করছে যে, শুধুমাত্র যারা প্রকৃত অপরাধ করেছে তাদেরই বিচার হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ পুনর্গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচার কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

বিচার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্পন্ন করতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ পাস করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন এই সংশোধনীর ফলে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। এ ছাড়া ভার্চুয়াল শুনানি, ডিজিটাল সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান জানান, আসামিদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার এবং আইনজীবীর সঙ্গে একান্তে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। পলাতক হয়ে বিচার এড়ানোর প্রবণতা রোধ করতে ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। 

৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

ছয় দিন পর আবার শুরু সংসদ অধিবেশন

অনলাইন ডেস্ক
ছয় দিন পর আবার শুরু সংসদ অধিবেশন
সংগৃহীত ছবি

টানা ছয় দিন বিরতি শেষে আজ পুনরায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন-২০২৬)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, গত ৩০ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট পাসের পর অধিবেশন মুলতবি করা হয়। চলতি অধিবেশনে এরই মধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পাস হয়েছে। বাজেট পাসের পাশাপাশি অর্থবিল ও সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও সংসদের অনুমোদন পেয়েছে।

গত ১১ জুন সংসদে বাজেট উত্থাপনের পর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা দীর্ঘ সময় ধরে বাজেটের ওপর আলোচনা করেন এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতেও বক্তব্য দেন। এ সময় অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, নির্বাচন, আইন-শৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু তুলে ধরেন তারা। 

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার

বাসস
পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্নদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। ছবি : পিআইডি

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল সাক্ষাৎকালে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

‎শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। দেশটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়।’ দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

‎মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সমীক্ষা সম্পন্ন হলে অচিরেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা অনুমোদনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

‎প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার জন্য নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস অতীতে যেভাবে ভূমিকা রেখেছে তা অব্যাহত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

‎রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই ব-দ্বীপ। ভূ-প্রকৃতিভাবেও দেশ দুটির মধ্যে মিল রয়েছে।

বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ ও ভাঙ্গন প্রতিরোধে ডাচ সরকার কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডস যেভাবে ভূমিকা রেখেছে আগামীতেও তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

‎এ সময় পানিসম্পদসচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম উদ্দিন ও অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টিনসেন ও তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে নাশতা বৈঠক করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে সিলেটের উন্নয়ন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বিশেষ করে সিলেটি প্রবাসীদের অবদান, পর্যটন খাতের সম্ভাবনাসহ বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এমরান আহমেদ চৌধুরী ও মুফতি আবুল হাসান। এ ছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

নাশতা বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আলোচনায় সিলেটের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সিলেটের উন্নয়নের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় হয়।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো জোরদার করা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং উভয় দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নকে আরো গতিশীল করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।’