• ই-পেপার

মির্জাপুরে বংশাই নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

সাটুরিয়ায় ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ

সাটুরিয়া মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
সাটুরিয়ায় ঘর থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় সুফিয়া বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের বেপারীপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল হোসেন পেশায় একজন অটোরিকশাচালক। সকালে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কিছুক্ষণ পর বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির একটি টিনশেড ঘরে আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের ছেলে ইসরাফিল দাবি করেন, তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে পেটের আলসারে ভুগছিলেন এবং মানসিক সমস্যাও ছিল। এ কারণে তিনি মাঝে মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয় নিয়ে তাঁর বাবা মাঝে মধ্যে মাকে মারধর করতেন।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুমকীতে ৬৬ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ

দুমকী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
দুমকীতে ৬৬ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ জব্দ
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর দুমকীতে ৬৬ কেজি গাঁজাসহ একটি পিকআপ জব্দ করেছে পটুয়াখালী র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা। ৭ জুলাই ভোররাতে দুমকী উপজেলার আঙ্গারিয়া বাজারের ব্রিজের ওপর থেকে গাঁজাসহ পিকআপটি জব্দ করা হলেও কাউকে আটক করা যায়নি।

র‌্যাব ও দুমকী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী র‌্যাব- ৮ এর স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ এর নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করলে গাঁজাবাহী পিকআপটি উপজেলার আঙ্গারিয়া বাজারের ব্রিজের ওপর পিকআপটি রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুমকী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে।  র‌্যাব ও পুলিশ পিকআপ থেকে ৬৬ কেজি গাঁজাসহ পিকআপটি জব্দ করে দুমকী থাকায় নিয়ে আসে।

তিনি আরো জানান, র‌্যাবের কাছে এমন চালানের সংবাদ থাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে গাঁজাসহ পিকআপটি রেখে পালিয়ে যায়। ইতিপূর্বে গত একমাসে দুমকীতে অভিযান পরিচালনা করে তিনটি বড় চালান জব্দ করেছে র‌্যাব।

দুমকী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম উদ্দীন জানান, পটুয়াখালী র‌্যাব-৮ এর সদস্যরা খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। গাঁজাসহ পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

টঙ্গীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি গাজীপুর
টঙ্গীতে সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১
হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার মনোয়ার হোসেন খোকন।ছবি: কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি মো. মনোয়ার হোসেন খোকন (৪৫)। তিনি টঙ্গীর দাঁড়াইল এলাকার মৃত কুদরত আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, তিনি টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক।

পুলিশ জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) রাতে টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় শ্রী নীল মোহন (৫০) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে প্রধান অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর জেরে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল নীল মোহনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় নীল মোহনকে ঘর থেকে বের করে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি মণ্ডল (৪০), ছেলে বিজয় মণ্ডল (১৪) এবং ভাতিজি চায়না (২২) আহত হন। হামলার সময় বাড়িতে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মণিরামপুর

স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে
ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের মণিরামপুরে আরিফুর রহমান (৮০) নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমের বিরুদ্ধে। সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে পারিবারিক কলহের জেরে তাকে হত্যা করেছেন বলে এ অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মণিরামপুর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের ছোট স্ত্রী শেফালি বেগমকে (৫৫) হেফাজতে নিয়েছে।

নিহত উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ডান পা পঙ্গু হওয়ায় আরিফুর রহমান স্বভাবিক হাঁটাচলা করতে পারতেন না। দুই মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর ৩০-৪০ বছর আগে শেফালিকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। এরপর দুই ছেলের বাবা হন তিনি। তার দুই ছেলে বিদেশে কর্মরত।

নিহতের বড় মেয়ের স্বামী আইয়ুব আলী বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরের সঙ্গে আমার কথা হয়। এরপর রাত ১১টার দিকে শুনি শ্বশুর মারা গেছেন। রাতেই এসে দেখি শ্বশুরের মরদেহ বারান্দায় খাটের ওপর পড়ে আছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শ্বশুরের ঘরের সামনে পাকা রাস্তার অপরপাশে চায়ের দোকান আছে। দোকানের লোকজন বলাবলি করছিল, রাতে শ্বশুর আমারে বাঁচাও বলে চিৎকার করছিলেন। বাড়ির গেটে তালা দেওয়া দেখে দোকানের লোকজন চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে পারেনি। শ্বশুরের কপালের ওপরে কাটা ক্ষত ছিল। রাতেই এসে বলেছি, আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলা হয়েছে। কারণ কিছুক্ষণ আগে যে সুস্থ ব্যক্তি ফোনে কথা বলেছে, দুই-তিন ঘণ্টার ব্যবধানে কোনো কারণ ছাড়া তার মৃত্যু হতে পারে না। মরদেহের ময়নাতদন্তে হত্যা প্রমাণিত হলে আমরা খুনির উপযুক্ত শাস্তি চাই।’

স্থানীয় মদনপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুনসুর আলী বলেন, ‘আরিফুরের এক ছেলের স্ত্রী বাড়িতে থাকত। সে শ্বশুরের দেখাশোনা করত। শাশুড়ির ওপর রাগ করে সোমবার দুপুরে সে বাবার বাড়িতে চলে গেছে। আরিফুর তখন ছেলের বউকে বাড়িতে থাকতে অনুরোধ করে। এই নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হলে আরিফুরকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করে স্ত্রী শেফালি।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিকেলে এ ঘটনা ঘটার তিন থেকে চার ঘণ্টা পর শেফালি বেগম নিহতের এক চাচাতো ভাইকে বিষয়টি জানায়। এরপর ঘটনা এলাকায় জানাজানি হয়। আরিফুর পঙ্গু হওয়ায় তাকে নির্যাতন করত তার স্ত্রী। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রীকে নিয়ে এলাকায় খরাপ কথা ছড়ায়। তখন থেকে তাদের পরিবারে দ্বন্দ্ব লেগে ছিল।’

মণিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির কপালে কাটা দাগ রয়েছে। এই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে কি না তা বলা যাচ্ছে না। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’