ইউরোপজুড়ে নতুন করে তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এতে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে উচ্চ সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিক টাইমস বলছে, পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পর্তুগাল ও দক্ষিণ স্পেনে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় সংস্থাটি জানায়, আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর নতুন একটি শক্তিশালী তাপপ্রবাহ তৈরি হচ্ছে, যা শিগগিরই ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে।
এর আগে গতকাল সোমবার ডব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের পরিচালক হান্স ক্লুগে ৪১টি দেশের প্রতিনিধি, ইউরোপীয় কমিশন এবং নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ থেকে শিক্ষা এবং আসন্ন তাপপ্রবাহ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ক্লুগে বলেন, যেসব দেশে ‘হিট-হেলথ অ্যাকশন প্ল্যান’ রয়েছে, তারা জুনের তাপপ্রবাহে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পেরেছে এবং জনগণকে তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি প্রাথমিক হিসাব এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০ থেকে ২৮ জুনের তাপপ্রবাহ ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে তীব্র। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে, অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছিল। হান্স ক্লুগে বলেন, ইউরোপজুড়ে এখনো বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা, গৃহহীন মানুষ এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বয়স্কদের কাছে পর্যাপ্ত সুরক্ষা পৌঁছানো যাচ্ছে না। এখন আমাদের সামনে দুটি বড় কাজ—সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে যে দুর্বলতাগুলো দেখা গেছে, পরবর্তী তাপপ্রবাহের আগেই সেগুলো দূর করা এবং এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা। যা শুধু চরম গরমে প্রতিক্রিয়া দেখাবে না, বরং আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে।