• ই-পেপার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন

প্রাথমিক ট্রেন্ডে বাংলাজুড়ে গেরুয়া ঝড়

জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প
ছবি : রয়টার্স

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল কুমামতো প্রিফেকচারে। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য ১ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জাপান সরকার কিউশু দ্বীপের কুমামতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা এবং মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরাঘাত (আফটারশক) হতে পারে বলে সতর্ক থাকতে বলেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশি নিহত
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন দগ্ধ হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্সটাউনের ওই দোকানে আগুন লাগে। জানা গেছে, আগুন লাগার সময় তারা দোকানের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন।

ঘটনাটি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায় নিহত ছয় বাংলাদেশির নাম বা বিস্তারিত পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শেষ করে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে।

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

পরিস্থিতি তদারকি ও নিহতদের পরিচয় শনাক্তে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং উদ্ধারকারীরা সার্বিক সহযোগিতা করছেন।  নিহত ৬ বাংলাদেশি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

 

ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের সহায়তা চান জেলেনস্কি

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় ট্রাম্পের সহায়তা চান জেলেনস্কি
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে দেশটিতে পৌঁছেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, রাশিয়ার হামলা বেড়ে যাওয়ায় ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন এখন আরো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করা।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা আরো বাড়ানো। তিনি বলেন, 'আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার হলো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা। শান্তিকে আরো কাছে নিয়ে আসতে হবে।' হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠকের পর দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ইউক্রেনের এই সিনেটর দীর্ঘদিন ধরে কিয়েভের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। চলতি মাসের শুরুতে তিনি মারা যান।

দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার মধ্যে থাকা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্ত্র সরবরাহের নীতি থেকে কিছুটা সরে আসেন। এর পরিবর্তে তিনি ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কিনে ইউক্রেনে পাঠানোর সুযোগ দেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে রয়েছে। ওয়াশিংটন কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামনের সারির সেনারা যোগাযোগের জন্য যে স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে, সেটির সুবিধাও চালু রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন সম্পর্ক উন্নতির আরেকটি ইঙ্গিত পাওয়া যায় চলতি মাসের শুরুতে।  তুরস্কে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবেন। তিনি বলেন, কিয়েভ খুব দ্রুত এই ব্যবস্থা তৈরি করতে পারবে। রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরেই প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আসছে ইউক্রেন। ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক এমন এক সময় হচ্ছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার হামলা শুরুর চার বছরেরও বেশি সময় পার হয়েছে। যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে। রাশিয়া মঙ্গলবার জানিয়েছে, রাতভর ইউক্রেনের ৩৯০টির বেশি ড্রোন মস্কো অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করেছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলায় কিছু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রুশ বাহিনী দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি কৃষ্ণ সাগরে থাকা জাহাজ। মস্কোর দাবি, ওই জাহাজে ইউক্রেনের জন্য সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল। যুদ্ধের এই পরিস্থিতিতে জেলেনস্কির যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠককে কিয়েভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


 

‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘তোমরা পার্টি করছো, ওরা না খেয়ে আছে’

টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করানোর মাধ্যমে রাজনীতির মাঠে ধামাকা অভিষেক হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির। তবে আন্দোলনের আগে পরে তাদের আচার-আচরণ, কথাবার্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক ঘটনায় সিজেপিকে সমালোচনা সইতে হচ্ছে। সিজেপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের আচরণ, কথাবার্তাকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে সমালোচনা করছেন অনেকেই।

২০ জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রকাশ্যে বার্গার খেয়ে পদ হারিয়েছেন সিজেপির সাবেক মুখপাত্র বিজেতা দাহিয়া। তাদের স্লোগানের ভাষা ও সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টকে ‘বমি আমার মত’ বলে সমালোচনা করেছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। এবার সিজেপির নেতাদের সাফল্য উদযাপন ও নাচানাচির ভিডিও ক্ষুব্ধ করেছে তাদের নেতা ও শুভাকাঙ্খীদেরও।

আন্দোলনের মুখে গত শনিবার পদত্যাগের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সেদিন রাতেই দিল্লির একটি হোটেলে নেচে গেয়ে, কেক কেটে সাফল্য উদযাপনের পার্টি করেন সিজেপি। পার্টিতে সিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পার্টির ভিডিও সামসাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

সিজেপির আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে টানা ২৬ দিন অনশন করা অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুকও উদযাপনের স্টাইল পছন্দ করেনেনি।

তিনি বলেন, ‘বিজয়ের সাথে নম্রতাও থাকা উচিত।’ ‘মর্যাদা, সংযম এবং দায়িত্বশীলতার সাথে’ সাফল্য উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাফল্য অর্জনের মতোই সম্মান ও নম্রতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

সিজেপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইউটিউবার মেঘনাদও নিজ দলের নেতাদের নাচের ভিডিও দেখে ক্ষুব্ধ।

তিনি বলেন, আন্দোলন শেষ হওয়ার পর যখন ডজন ডজন আন্দোলনকারী রাস্তায় গৃহহীন ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল, তখন দলের নেতারা পার্টি করছিলেন। ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেঘনাদ জানান যে, তিনি এবং আরো কয়েকজন মিলে সেইসব ডজন ডজন আন্দোলনকারীদের খাবার ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন, যারা সিজেপি নেতাদের সাথে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যন্তর মন্তরে ক্যাম্প করছিলেন।

পার্টির ভিডিওটি নিয়ে মেঘনাদ লেখেন, ‘আমি ভোর ৪টার সময় এটি দেখছি। আমি এবং আরো কয়েকজন গত দুই দিন ধরে নিজেদের টাকা দিয়ে সিজেপি-র ফেলে যাওয়া এবং ক্ষুধার্ত স্বেচ্ছাসেবক ও আন্দোলনকারীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। আমি কিছুই বলতাম না, কিন্তু এই ভিডিওটা দেখার পর আমার প্রচণ্ড মাথা গরম হয়ে গেছে।’

সিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে মেঘনাদ বলেন, ‘যখন আপনারা পার্টি করছিলেন, তখনও দিল্লির রাস্তায় ৭০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী ও শিক্ষার্থী ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। কারণ আপনারা তাদের তোয়াক্কা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অভিনন্দন সিজেপি, শেষ পর্যন্ত আপনারাও অন্য আর দশটা সাধারণ রাজনৈতিক দলের মতোই হয়ে গেলেন।’

তবে সাফল্য উদযাপনের স্টাইলের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। বলেন, ‘আমরা যত দিন প্রয়োজন রাস্তায় বসে থাকতে পারি। আমরা নাচতে নাচতে প্রতিবাদ করতে পারি। আবার কোল্ড কফিতে চুমুক দিতে দিতেও দল গোছাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘এই প্রজন্মটা ঠিক এমনই। আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, স্থিতিস্থাপক এবং এদের কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা অসম্ভব।’

তিনি আরো যোগ করেন যে, সরকার এবং কিছু টেলিভিশন সঞ্চালক আসলে জেন জি এবং তরুণ প্রজন্মের ভাষাই বোঝেন না।

সৌরভ বলেন, ‘আঙ্কেল আর আন্টিরা অভিযোগ করতেই পারেন। তাদের আমাদের সহ্য করেই চলতে হবে!’ তিনি দাবি করেন, সে রাতের পার্টিটি আসলে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে একটি মিলনমেলা ছিল, যাদের আন্দোলনের নেতারা সম্মান জানাতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের নাচের দৃশ্যগুলো সামনে চলে এসেছে। কিন্তু তার আগে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে আমাদের মনখোলা কথাবার্তা হয়েছিল। আমরা মেঝেতে বসে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলছিলাম, এবং এটি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল।’

প্রাথমিক ট্রেন্ডে বাংলাজুড়ে গেরুয়া ঝড় | কালের কণ্ঠ