ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে পুলিশের অভিযানে একাধিক পেলেটের আঘাতে আহত হন ২৮ বছর বয়সী এক ক্রীড়া সাংবাদিক। তার শরীরে এখনো ৩০টির বেশি পেলেট রয়ে গেছে বল জানান চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
দেশটির সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ২২ জুলাই সফদরজং হাসপাতালের মেডিকেল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জন্তর মন্তরে শারীরিক হামলার সময় তার ডান হাত, বুক ও পিঠে পেলেটের আঘাত লাগে।
চিকিৎসকেরা তার শরীরে ছোট ছোট একাধিক ক্ষতচিহ্ন পান, যা পেলেটের আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক জানান, ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছিলেন।
তার দাবি, আন্দোলনের সময় সোনম ওয়াংচুককে সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হলে প্রথমে আকাশের দিকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হলেও পরে তা সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি বলেন, দৌড়ে পালানোর সময় একজন পুলিশ সদস্য তার দিকে অস্ত্র তাক করেন এবং কিছুক্ষণ পরই পিঠে গুলির মতো আঘাত অনুভব করেন। প্রথমে শরীরে ঝিনঝিন অনুভূতি হলেও পরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পরে জামা খুলে দেখেন, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বেঁধে আছে।
সেদিন রাতেই তিনি টিটেনাস ইনজেকশন নেন। পরদিন সন্ধ্যায় সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি হলে সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তার শরীরে ৩০টিরও বেশি পেলেট রয়েছে।
সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পেলেটগুলো বের করতে গেলে আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই আপাতত সেগুলো শরীরেই রেখে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পেলেটগুলো হাড়ের কাছাকাছি না লাগায় তিনি বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
বর্তমানে তিনি ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করছেন এবং অস্থি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ফলোআপ চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি অন্য একটি হাসপাতাল থেকেও দ্বিতীয় মতামত নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার জন্য সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এদিকে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) সাধারণত পেলেট গান ও শক ব্যাটন ব্যবহার করে থাকে। বিক্ষোভের দিন দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি আরএএফও ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল। তবে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগে সিআরপিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।




