সম্ভাব্য ইসরায়েলি পাল্টা হামলার আশঙ্কায় দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশসীমা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
শুধু ইরানই নয়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সাময়িকভাবে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে ইরাক ও সিরিয়া। দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েল অতীতে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে আরো বৃহৎ পরিসরে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে যুদ্ধবিরতি সমঝোতা হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ রাখা। কিন্তু লেবাননে সামরিক অভিযান চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের উপকূলীয় এলাকা এবং জাহাজে বারবার হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেই প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে।
সংগঠনটি আরো অভিযোগ করে, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে এবং দেশটির বিরুদ্ধে একের পর এক হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘রবিবার রাতের অভিযান ছিল একটি সতর্কবার্তা।’ একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে এর জবাব হবে আরো ব্যাপক ও কঠোর।
এদিকে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসরায়েল। তেহরানের এ পদক্ষেপের জবাব ‘শক্তিশালী ও তাৎপর্যপূর্ণ’ হবে। রবিবার (৭ জুন) রাতে ইরানের হামলার পর ইসরায়েলি দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান অন্তত তিন দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সবগুলো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসরায়েলি সূত্রগুলোর একজনের ভাষ্য, অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পাল্টাপাল্টি হামলা ও কড়া অবস্থানের কারণে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরো বিস্তৃত হতে পারে।
আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, হাইফা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
তাদের দাবি, দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে, রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিই ছিল সেই ‘আগ্রাসনের প্রধান উৎস’। এ কারণেই ঘাঁটিটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।






