• ই-পেপার

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যু ৩০০০ ছাড়াল

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে কংগ্রেস : ধর্মেন্দ্র প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে কংগ্রেস : ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযোগ করেন তিনি। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের জন্য কাজ করার পরিবর্তে কংগ্রেস সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকারের আগ্রহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস।

প্রধান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদের অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে।

সোমবারের সিজেপি বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমনপীড়নের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রধানের এ মন্তব্য আসল। এ বিক্ষোভের শেষে দিল্লি পুলিশ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে, যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথিত অনিয়ম নিয়ে জবাবদিহি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। এ সহিংসতার জন্য আন্দোলনকারী ও পুলিশ একে অপরকে দোষারোপ করছে। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করে এবং তিনি হাসপাতাল থেকেই তার অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে আটক দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মুক্তি পেয়েছেন।

সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন রাহুল গান্ধী। গোটা রাত সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ চালানো হবে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি। এরপরই দিল্লি পুলিশ আটক করে কংগ্রেস নেতাকে। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাতেই হাজির হন সোনিয়া গান্ধী। তিনিও মন্দির মার্গ থানা থেকে ফিরে গিয়েছেন।

এছাড়াও সোমবার পুলিশ-সিজেপি সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধের পর আটক করা আরো ৭০ জনকে মঙ্গলবার ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগ ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের ধরনার বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর আচরণ নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালো দিন।’ এদিকে বেশি রাতে জন্তর মন্তর চত্বরে পৌঁছেছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তিনি সেজেপির বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। 

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। 

বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ‘ককরোচ’দের নিয়ে আসলে রাহুলের কোনো উদ্বেগ নেই। পুরোটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। সেই কারণেই তিনি বারবার তাঁর দাবিদাওয়া বদলাচ্ছেন। এর আগে আমেরিকায় গিয়ে তিনি ভারতের গণতন্ত্রের সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ করেন, ভারতে গণতন্ত্র চাপের মুখে পড়েছে। সংসদ, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি শাসকদল ও আরএসএসের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে।

অন্যদিকে, আপ নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, ‘রাহুল গোটা বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি আসলে বিজেপির চাপে রয়েছেন। তিনি যদি ছাত্র-যুবদের সমর্থন করতে চান, তাহলে তাঁর যন্তর মন্তরে যাওয়া উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাত, তাহলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আল জাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (নিউক্লিয়ার ডিল) যদি বাতিল না করা হতো, তবে ইরান অনেক আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতো। আমরা যদি সেই চুক্তি বাতিল না করতাম, তাহলে আজ ইসরায়েল থাকত না। কারণ ইরান বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলার কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এক বছর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস না করতাম, তাহলে আজ তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।’ আর এর ফলে শুধু ইসরায়েলই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশও তখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়ত বলে জানান তিনি।

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নামছেন ট্রাম্প?

অনলাইন ডেস্ক
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে নামছেন ট্রাম্প?
সংগৃহীত ছবি

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে গোটা বিশ্বের ওপর ছড়ি ঘোরাতে সব অস্ত্র নিয়ে মাঠে নেমেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলা থেকে তাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‍তুলে এনে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব প্রমাণ দিয়েছে। যদিও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি ‍যুদ্ধ আমেরিকানরা পছন্দ করছে না। তবে সামরিক অস্ত্রের বাইরেও ট্রাম্পের আরেকটি প্রিয় অস্ত্র আছে—শুল্ক।

গত বছর সব বাণিজ্য সহযোগী দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক বাতিল করে দিয়ে ট্রাম্পকে এই শুল্ক আগ্রাসন থেকে নিবৃত করেন। তারপরও থেমে যাননি ট্রাম্প। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ১২২-এর অধীনে সাময়িকভাবে ঢালাও ১০ ভাগ শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি, যার মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে।

বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞার বাইরে অস্ত্র হিসেবে শুল্ক ট্রাম্পের খুবই প্রিয়। নিজেদের বিশাল বাজারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে শায়েস্তা করতে কথায় কথায় শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। ভারত, রাশিয়া থেকে তেল কিনলে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হয়। গত সপ্তাহে ব্রাজিলের বাণিজ্য নীতিকে অন্যায্য দাবি করে বাণিজ্য আইনের ধারা ৩০১-এর অধীনে ব্রাজিলের অনেক পণ্যের ওপর ২৫ ভাগ নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অস্ত্র হিসেবে শুল্ক ট্রাম্পের এতই প্রিয়, গত সপ্তাহে কানাডায় দাবানলের কারণে উড়ে আসা ধোঁয়ায় পরিবেশের ক্ষতি পোষাতে কানাডার ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। দাবানল ট্যাক্স আরোপ না করলেও হুমকির তিনদিনের মাথায় সোমবার কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই শুল্ক কার্যকর হবে এবং এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্য পড়বে।

মেক্সিকো, কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও এ দুই প্রতিবেশীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভালো নয়। মেক্সিকোর সঙ্গে সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ। কানাডা আমেরিকার বন্ধু প্রতিবেশীই ছিল। তবে ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে রীতিমতো পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধিয়ে সম্পর্ক খারাপ করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় না হলেও আয়তনে বড় কানাডার রাজনীতিবিদ ও সাধারণ মানুষ ট্রাম্পের এ আহ্বানে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তারা এটিকে কানাডার সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবেই বিবেচনা করেন। দাবানলের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো শুল্ক আরোপের হুমকিও সাধারণ মানুষকে মর্মাহত করেছে। সর্বশেষ কানাডার কিছু পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপকে বিবেচনা করা হচ্ছে সরাসরি শত্রুতার ঘোষণা হিসেবে। চীন ছাড়া আর কোনো দেশের পণ্যের ওপরই যুক্তরাষ্ট্রের এত উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করার নজির নেই।

গত বছর বিশ্বজুড়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের পর অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেছে। কেবল কানাডা আর চীনই পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। পাল্টা শুল্ক আরোপ করেই বসে থাকেনি কানাডা। তারা চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি ভোলেননি ট্রাম্প। তাইতো কানাডাকে শায়েস্তা করতে প্রায় শত বছরের পুরোনো একটি আইন খুঁজে বের করেছেন তিনি। ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারা অনুযায়ী কানাডার পণ্যে ৫০ ভাগ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যদিও এ আইনের ব্যবহার বিরল।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, ডেইরি পণ্য ও অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার শুল্ক নিয়ে টানাপড়েনটা পুরোনো। ট্রাম্পের নানা বক্তব্য আর গত বছর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ঘটনা দুদেশের সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে গেছে। পাল্টা হিসেবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ির ওপর বাড়তি শুল্ক তো আরোপ করেছেই, পাশাপাশি চীন থেকে গাড়ি আমদানি বাড়িয়েছে। বাড়তি শুল্কের কারণে কানাডায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেইরি পণ্য ও অ্যালকোহলের বাজার ছোট হয়ে গেছে। কানাডায় দুধের আমদানি নির্ধারিত সীমা ছাড়ালে ৩০০ শতাংশের বেশি শুল্ক দিতে হয়। গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের মদ বর্জন করা হচ্ছে। বাড়তি শুল্কের কারণে কানাডায় মার্কিন গাড়ি রপ্তানি ২২ ভাগ এবং অ্যালকোহল রপ্তানি ৮১ ভাগ কমে গেছে। ডেইরি পণ্যের বাজারেও ধ্বস নেমেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ৫০ ভাগ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিল।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) সই হয়েছিল। কানাডা ও মেক্সিকো চুক্তিটি নবায়নের পক্ষে থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এখন আর সেই চুক্তি নিয়ে আগ্রহ নেই। যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চক্তি সংশোধন করতে চায়। নতুন আরোপিত শুল্কের ব্যাপারে ট্রাম্প এতটাই কড়া যে, ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতায় থাকা পণ্যকেও এ শুল্ক দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, ‘ইউএসএমসিএর সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপগুলো নিয়ে আসছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।’

গত রবিবার নিউজার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথা হয়েছে। কিন্তু তার পরদিনই আসলো ৫০ ভাগ শুল্কের বিশাল বোঝা। তবে মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরো জোরদার করতে তারা প্রস্তুত। মার্ক কার্নি বলেন, তার দেশ মুক্ত এবং ন্যায্য বাণিজ্যের সুফলে বিশ্বাসী। কার্নি আরো বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই কানাডা অবিরাম কাজ করে যাবে এবং দেশের শক্তি বাড়াতে ও কানাডার শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী ও পরিবারগুলোকে সহায়তা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

তবে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড মার্ক কার্নির মত অত কৌশলী নন। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, যদি এই শুল্ক কার্যকর করা হয়, তবে কানাডার উচিত হবে শুল্কের বদলে শুল্ক এবং ডলারের বদলে ডলার হিসেবেই এর জবাব দেওয়া।

মায়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যু ৩০০০ ছাড়াল | কালের কণ্ঠ