বিশ্বের প্রথম ট্রিলিওনিয়ার ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, তিনি বর্ণবাদী নন। তিনি জানান, তার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয় এবং তাদের এক সন্তানের নাম রাখা হয়েছে ভারতীয় এক নোবেলজয়ী পদার্থবিজ্ঞানীর নামানুসারে।
সম্প্রতি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলানের মহাকাব্যিক ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’র কাস্টিং নিয়ে বিতর্কের জের ধরে ইলন মাস্ককে ‘বর্ণবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কেউ কেউ। সম্প্রতি স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর মাস্কের সম্পদ ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ট্রিলিয়নের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছিলেন। তবে স্পেসএক্স-এর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় তার সম্পদ এক ট্রিলিয়নের নিচে নেমে গেছে।
‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে টেসলা এবং স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্ক তাকে ’বর্ণবাদী’ বলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার সঙ্গী অর্ধেক ভারতীয়। তার সঙ্গে আমার চার সন্তান রয়েছে। তাদের একজনের নাম এক বিখ্যাত ভারতীয় পদার্থবিজ্ঞানীর নামানুসারে রাখা হয়েছে।’ মাস্কের সঙ্গী শিভন জিলিস কানাডায় বেড়ে উঠেছেন। তবে তার বাবা ভারতীয়। জিলিসের সঙ্গে তার চার সন্তানের এক ছেলের মধ্যনাম রাখা হয়েছে ‘শেখর’। ভারতীয়-আমেরিকান পদার্থবিজ্ঞানী এবং নোবেল বিজয়ী সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখরের নামানুসারে এই নামকরণ করা হয়।
আমি বর্ণবাদী নই, এমন দাবি করে ইলন মাস্ক বলেন, ‘আমার কম্পানিতে যারা কাজ করছেন তাদের দিকে তাকালে দেখবেন, আমাদের এখানে উচ্চ পদে সব বর্ণের কর্মকর্তারা আছেন। আমি মনে করি না সেখানে কোনো বর্ণবাদ আছে।’
তিনি ’মুসলিম-বিদ্বেষী’ কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মাস্ক বলেন, ’মানুষ যদি পশ্চিমা সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিপরীত চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কোনো দেশে আসে, তবে আমি তার বিরুদ্ধে। আমি ধর্ষণ ও খুনের বিরুদ্ধে। পশ্চিমা বিশ্বে আমরা যে নিয়ম ও আইনগুলো মেনে অভ্যস্ত, তার বিরোধী কোনো নিয়ম বা আইন চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আমি।’
ক্রিস্টোফার নোলান ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’-তে বৈচিত্র্যময় কাস্টিং করার কারণে মাস্ক তাকে ’শ্বেতাঙ্গ-বিদ্বেষী বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং নোলান নিজের সততা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। ‘দ্য ওডিসি’তে হেলেনের চরিত্রে অস্কার জয়ী কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী লুপিটা ইয়ংওকে কাস্ট করা নিয়েই বিতর্কের শুরু। একজন এক্স ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, হোমারের মূল টেক্সটে হেলেনকে ’ফর্সা চামড়ার’ এবং ’সোনালী চুলের’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তখন মাস্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, নোলান তার ‘সততা হারিয়েছেন’ এবং তিনি ’হোমারের কবরে প্রস্রাব করছেন’। কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেত্রী নেওয়ায় মাস্ক একে ’ঐতিহাসিকভাবে ভুল’ বলে আখ্যা দেন।
মাস্ক দাবি করেন, ক্রিস্টোফার নোলান অস্কার পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতেই জোর করে সিনেমায় এই ‘ডাইভারসিটি’ এনেছেন। সমালোচনার জবাবে লুপিটা ইয়ংও মনে করিয়ে দেন, হেলেন কোনো ঐতিহাসিক চরিত্র নন। বরং গ্রিক পুরাণের একটি কাল্পনিক বা পৌরাণিক চরিত্র। তাই এখানে যেকোনো বর্ণের মানুষ অভিনয় করতেই পারেন।
বিতর্ককে আরো উস্কে দিয়ে মাস্ক জানিয়েছেন, তার এআই ভিডিও টুল ‘গ্রক ইমাজিন’ দিয়ে চলতি বছরের শেষের মধ্যে ‘দ্য ওডিসি’-র একটি সম্পূর্ণ এবং ’ঐতিহাসিকভাবে নিখুঁত’ চলচ্চিত্র বানাবেন।




