• ই-পেপার

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, অপহৃত ১৩

মোদির আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক

অনলাইন ডেস্ক
মোদির আশ্বাসের পর ২৭ দিনের অনশন ভাঙলেন সোনম ওয়াংচুক
সংগৃহীত ছবি

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপ ও ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও বার্তার পরেই দীর্ঘ ২৭ দিনের মাথায় অনশন প্রত্যাহার করলেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে হাসপাতালের খাটে বসেই তিনি অনশন ভঙ্গ করেন।

অনশন ভাঙার সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমো এবং দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহ। অনশন প্রত্যাহারের পর উপস্থিত সকলে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদিও সমাজমাধ্যমে ওয়াংচুকের দ্রুত সুস্থতা এবং স্বাভাবিক ওজনে ফিরে আসা কামনা করেছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করে ওয়াংচুক জানান, দেশে কোনোভাবেই যেন হিংসা না ছড়ায়, সেই দিকটি মাথায় রেখে এবং কিছু শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পরেই তিনি অনশন তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই শর্তগুলির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শীঘ্রই একটি আলাদা ভিডিও প্রকাশ করবেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের হিংসা থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানান সোনম।

সোনম ওয়াংচুক শারীরিক অনশন প্রত্যাহার করলেও এই প্রতিবাদ এখনই সম্পূর্ণ থামছে না। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ওয়াংচুকের এই ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানালেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন, ভিডিও বার্তায় ফাস্ট ট্র্যাক বিলের আশ্বাস মোদির

অনলাইন ডেস্ক
প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন, ভিডিও বার্তায় ফাস্ট ট্র্যাক বিলের আশ্বাস মোদির

প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি দিতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের আশ্বাস দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, এই সংক্রান্ত একটি খসড়া বিল তৈরি করা হয়েছে।

মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটা বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল, যার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে সরকার এতেই সন্তুষ্ট নয়। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, শুক্রবার (২৪ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই খসড়া বিলে অনুমোদন নিয়ে আলোচনা হবে এবং আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) থেকেই সংসদে এই বিল পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।

শিক্ষায় এই অচলাবস্থার মাঝেই বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় শিক্ষাসচিব বিনীত জোশীকে সরিয়ে নতুন শিক্ষাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নরেশ গংওয়ারকে।

জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে ৬০টি দেশের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ

অনলাইন ডেস্ক
জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে ৬০টি দেশের ওপর মার্কিন শুল্ক আরোপ
ছবি: রয়টার্স

জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বাণিজ্য ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের প্রায় ৬০টি বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই শুল্ক শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। এর আওতায় যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান ও ভারতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার রয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এর ফলে চলতি বছরের শুরুতে বিদেশি পণ্যের ওপর অস্থায়ীভাবে চালু করা ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হবে এবং তার পরিবর্তে নতুন হার কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি করার নীতি গ্রহণ করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছিল, জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তার অনেকগুলোই আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না। আদালতের সেই রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন আইনি উপায়ে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে শুরু করে।

গত মাসে হোয়াইট হাউস প্রথম জানায়, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি, তাদের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই শুল্ক কার্যকর করা হচ্ছে। এক বিবৃতিতে গ্রিয়ার বলেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম—দুই সমস্যারই মোকাবিলা শুরু হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের শ্রমিকদের স্বার্থও সুরক্ষিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নতুন শুল্ক আরোপে ১৯৭৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ধারার আওতায় এমন বিদেশি বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর বা অন্যায্য বলে বিবেচিত হয়।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের শুল্ক আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এই নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এসব দেশ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ আসে। দপ্তর আরো জানায়, ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি বন্ধের বিষয়টিকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করছেন। এ পর্যন্ত ১০টি বাণিজ্যিক অংশীদার জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক তদন্তের পর আরো কয়েকটি দেশ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা চালু করেছে এবং তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। আর যেসব দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের জন্য শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রিয়ার বলেন, অনেক দেশ দ্রুত এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালু করায় তিনি উৎসাহিত। তবে শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয়, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নও করতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, আমদানি শুল্ক বাড়ালে মার্কিন শ্রমিকরা সুরক্ষা পান, দেশে উৎপাদন বাড়ে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হয়। ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। তিনি সেই উদ্যোগকে 'মুক্তি দিবস'(লিবারেশন ডে) হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য বাণিজ্য করেছে এবং সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সেই শুল্কের বড় অংশ বাতিল করে দেয়। আদালত জানায়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। আদালতের রায়ের পর যেসব প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তাদের কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলার ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর হোয়াইট হাউস নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপের পথ খুঁজতে শুরু করে। সেই সময় সব বিদেশি পণ্যের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যার মেয়াদ শুক্রবার শেষ হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ব্রাজিল, কানাডাসহ আরো কয়েকটি দেশের ওপর আলাদা শুল্ক আরোপ করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে বাণিজ্য যুদ্ধও শুরু হয়েছিল। যদিও বর্তমানে সেই উত্তেজনা কিছুটা স্থগিত রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি শুল্ক বাড়লে কফি, মাইক্রোওয়েভসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের অনেক পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। কারণ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত শুল্ক পরিশোধের খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপিয়ে দেয়।

ট্রাম্প প্রশাসন শুধু বাণিজ্য নয়, অন্যান্য নীতিগত বিষয়েও চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে একটি কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। উদাহরণ হিসেবে শ্রমনীতি নিয়ে মেক্সিকোর ওপরও শুল্কের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই শুল্কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো আইনি আপত্তি জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক দেশ ইতোমধ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ কিংবা আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আরো কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ১৬টি দেশের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের শেষ দিকে ওই দেশগুলোর বিরুদ্ধেও নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসতে পারে।

শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, মুম্বাই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি, মুম্বাই পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ভারতের মুম্বাই পুলিশের এক সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম পবন সাঙ্গলে। তিনি মুম্বাই পুলিশের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের একজন কনস্টেবল ও চালক। ঘটনার সময় তিনি মুম্বাইয়ের সায়ন পুলিশ স্টেশনে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ আসার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির আন্দোলন দিল্লি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্ক, চেম্বুর, আজাদ ময়দানসহ শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক বিক্ষোভ করছেন। এরইমধ্যে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যাতে পুলিশের এক গাড়ি চালককে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে দেখা যায়। পরে মুম্বাই কংগ্রেস তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি পুলিশভ্যানের ভেতর কয়েকজন তরুণ বসে আছে। পরে জানা গেছে, বুধবার মুম্বাইয়ের দাদর এলাকার শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের আটক করে। এ সময় সামনে চালকের আসনে বসা এক পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ফিরে যেতে এবং বিক্ষোভে আর না আসার নির্দেশ দিতে দেখা যায়।

ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাদের যদি এখানে আর কখনো দেখা যায়, আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না। আমি তোমাদের জীবন বরবাদ করে দেবো।’ এরপর তিনি তাদের মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে বলেন, ‘আমি তোমাদের ব্যাগে ৫০-৫০ গ্রাম পাউডার ঢুকিয়ে দেবো এবং তোমাদের জীবন ওখানেই শেষ হয়ে যাবে। জামিনও হবে না।’ অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, এই বিক্ষোভের কারণে তার নিজের জীবনও কঠিন হয়ে পড়েছে। আটক শিক্ষার্থীদের কেউ গোপনে ভিডিও করে। পরে সেই ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি শেয়ার করে মুম্বাই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘যদি এটি সত্য হয়, তবে এটি কেবল শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। কণ্ঠ তোলা কোনো অপরাধ নয়। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর জবাবদিহিতার মাধ্যমে দেওয়া উচিত, হুমকি দিয়ে নয়।’

এমনিতেই আন্দোলন দমনে মুম্বাই পুলিশের নানা কৌশল নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। মাদক মামলার হুমকির ঘটনা মুম্বাই পুলিশক আরো বিপাকে ফেলেছে। ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে মুম্বাই পুলিশ এর সত্যতা ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।

এর আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলমান ছাত্র বিক্ষোভে যাতে কেউ বারবার অংশ নিতে না পারে, সেজন্য মুম্বাইজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ঘরে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগের পদ্ধতি বেছে নিয়েছে। যাদের নামে ইতিমধ্যে এফআইআর রয়েছে বা আগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারা স্থানীয় থানা থেকে সরাসরি ফোন কল এবং মেসেজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং যাচাই করা স্ক্রিনশট থেকে দেখা গেছে, থানার সিনিয়র কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘরে থাকার এবং নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হোয়াটসঅ্যাপে অনবরত লাইভ লোকেশন শেয়ার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ভোরের দিকে মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যেখানে আগের সমাবেশে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, অপহৃত ১৩ | কালের কণ্ঠ