• ই-পেপার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে মোবাইল নিয়ে ঢোকা বন্ধ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের নতুন হামলা, লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা
ফাইল ছবি

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, টাইর শহরের বাইরে শামা শহরের সামনের একটি পাহাড়ি এলাকায় সর্বশেষ হামলাটি হয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর কয়েক মিনিট আগে দক্ষিণ লেবাননের বিনতে জবেইল জেলাতেও আরেকটি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই সময় কাফরা শহরের দিক থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা এসব হামলায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক হামলাই গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনার খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। এর মধ্যে হাসপাতালের আশপাশের এলাকাও রয়েছে।

সম্প্রতি জাবাল আমেল হাসপাতালের কাছের একটি ব্যাংক ভবনে হামলা চালানো হয়েছে। হাসপাতালটি দক্ষিণ লেবাননের এখনো চালু থাকা শেষ কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রের অন্যতম। টাইর শহরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই হাসপাতালের ওপর চিকিৎসাসেবার জন্য নির্ভরশীল।

এর আগে আরেকটি বিমান হামলায় হাসপাতালের ঠিক বিপরীত পাশে থাকা একটি আবাসিক ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই হামলার প্রভাব হাসপাতালেও পড়ে এবং ভবনটির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলাগুলো বারবার হাসপাতালের খুব কাছাকাছি এলাকায় হচ্ছে। যদিও সরাসরি হাসপাতালকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না, তবুও বিস্ফোরণের কারণে হাসপাতালের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে।

তাদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতে সাহস পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে এলাকাবাসীর মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে পুরো টাইর শহর ঘিরে বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এরপর অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে চলে গেলেও এখনো কিছু বাসিন্দা দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয়দের মতে, যারা এখনো সেখানে রয়েছেন, তারা প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। কারণ অঞ্চলটিতে হামলা, গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলেও গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলা চলতে থাকার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বিউফোর্ট দুর্গের কাছের কয়েকটি কৌশলগত উঁচু স্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরো বেড়েছে এবং নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 

ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত যাচাই করতে পারছে না আইএইএ
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারছে না আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ- ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটোমিক এনার্জি এজেন্সি)। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো সংস্থাটির একটি গোপন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংবাদ সংস্থা এপি ওই প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছে।

প্রতিবেদনে আইএইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর থেকে সংস্থাটির পরিদর্শকরা এসব স্থাপনায় প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আইএইএ বলেছে, ইরানের কাছে বর্তমানে কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, সেই ইউরেনিয়ামের ধরন কী, সেগুলো কোথায় সংরক্ষণ করা হয়েছে কিংবা ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করেছে কি না- এসব বিষয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারছে না।

সংস্থাটি আরো সতর্ক করে জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী ইরানের ওপর যে তদারকির দায়িত্ব আইএইএর রয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কার্যকরভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তারা তেহরানকে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। আইএইএর ভাষায়, এ বিষয়ে ইরানের দায়িত্ব পালন করা 'অত্যন্ত জরুরি ও অপরিহার্য'।

এপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আগের প্রতিবেদনের পর থেকে আইএইএ- এর পরিদর্শকরা মাত্র একটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। সেটি হলো বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ১ থেকে ৩ জুন সেখানে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

আইএইএর সর্বশেষ নথিভুক্ত তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধকৃত ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে আর খুব বেশি প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

এদিকে আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রতি আবারও সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানে পৌঁছানো।

গ্রোসি আরো বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হলে তা বাস্তবায়ন ও তদারকিতে আইএইএ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন

অনলাইন ডেস্ক
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন
ছবি : রয়টার্স

গবেষকরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে একেবারে নতুন ধরনের একটি টিকা তৈরি করা হয়েছে। টিকাটি অনেক ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে এবং ভবিষ্যতে মহামারী প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে বলে আমা করা হচ্ছে। 

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ কেমব্রিজের গবেষকরা বলছেন, এই প্রথম কোনো টিকার মূল উপাদান সম্পূর্ণভাবে এআই দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এবং পরে সেটি মানুষের ওপর পরীক্ষাও করা হয়েছে।

নতুন টিকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯-এর সব ভ্যারিয়েন্ট এবং প্রাণীদের মধ্যে থাকা এমন করোনাভাইরাস, যা ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে নতুন মহামারীর কারণ হতে পারে।

যদিও গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও ইবোলার বিরুদ্ধে একই ধরনের টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন।

সাধারণভাবে টিকা আমাদের শরীরকে কোনো ভাইরাস বা রোগজীবাণু শনাক্ত করতে শেখায়, যাতে সংক্রমণ হলে শরীর দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তবে অনেক ভাইরাস সময়ের সঙ্গে নিজেদের গঠন বদলে ফেলে বা মিউটেশন ঘটায়। ফলে পুরোনো টিকা কম কার্যকর হয়ে যায়। এ কারণেই কোভিড-১৯ ও মৌসুমি ফ্লুর টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

গবেষক দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় ভাইরাসের পেছনে ছুটে চলি। আমাদের লক্ষ্য হলো ভাইরাসের আগেই প্রস্তুত থাকা, যাতে নতুন প্রাদুর্ভাব বা মহামারী শুরু হওয়ার আগেই সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়।’

গবেষকদের আশা, এআই নির্ভর এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে আরো দ্রুত ও কার্যকর টিকা তৈরি করা যাবে এবং নতুন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশ্ব ভালোভাবে প্রস্তুত থাকতে পারবে।

এটা কীভাবে কাজ করে?

সাধারণত কোনো ভাইরাসের বর্তমান ধরন বা স্ট্রেইনকে ভিত্তি করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের জিনগত তথ্য সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য বিশ্বজুড়ে পরিচালিত ভাইরাস নজরদারি কর্মসূচি থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন ভাইরাস শনাক্ত করা হয়।

এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এসব জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি বিশেষ ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করে। অ্যান্টিজেন হলো ভ্যাকসিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ এটিকে চিনেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শেখে।

গবেষকদের মতে, এই সুপার-অ্যান্টিজেন এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট ভাইরাস নয়, বরং পুরো একটি ভাইরাস পরিবারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এমনকি ভাইরাসের রূপ পরিবর্তন হলেও বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লেও এটি কার্যকর থাকতে পারে।

গবেষণা দলের সদস্য অধ্যাপক জোনাথন হিনি বলেন, এই প্রথম এআই দ্বারা তৈরি কোনো অ্যান্টিজেন মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মতে, প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করছে এবং মানবকল্যাণে এর সম্ভাবনা অত্যন্ত বড়।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমন টিকা তৈরি করা, যা শুধু বর্তমানের ভাইরাস থেকে নয়, ভবিষ্যতে নতুন রোগ বা প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে এমন ভাইরাস থেকেও মানুষকে সুরক্ষা দেবে।’

গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি সফল হলে মহামারীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তখন বিজ্ঞানীরা নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর টিকা তৈরির পরিবর্তে আগেভাগেই সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তুলতে পারবেন। এআই-নির্ভর নতুন টিকার পরীক্ষায় আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি নতুন ধরনের টিকার প্রাথমিক মানব পরীক্ষায় ৩৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল টিকাটি মানুষের জন্য নিরাপদ কি না তা যাচাই করা। গবেষকরা বর্তমানে প্রায় ২০০ জনকে নিয়ে বড় একটি পরীক্ষা চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জানা যাবে টিকাটি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কতটা কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অব ইনফেকশন’-এ প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, টিকাটি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর এখন পর্যন্ত সামান্য প্রভাব দেখিয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিজ্ঞানীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সল ফাউস্ট বলেন, এআই-ভিত্তিক এই নকশার ‘স্পষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে’ এবং এটি খুবই রোমাঞ্চকর একটি অগ্রগতি।

তিনি কয়েকটি পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। তার মতে, ভাইরাস যখন ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন সম্ভাব্য মহামারীর বিরুদ্ধে আগাম টিকা তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন একটি সার্বজনীন ফ্লু টিকা নিয়ে প্রাণীদের ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যা সফল হলে প্রতি বছর নতুন করে হালনাগাদ করার প্রয়োজন হবে না।

একই সঙ্গে তারা এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুর বিরুদ্ধেও একটি টিকা তৈরি করছেন। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, বর্তমানে পাখিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস ভবিষ্যতে মানুষের মধ্যেও সংক্রমিত হয়ে মহামারীর কারণ হতে পারে। এ ছাড়া তারা ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বরের বিরুদ্ধে একটি টিকা তৈরির পরিকল্পনা করছেন, যার মধ্যে ইবোলাও থাকবে। বর্তমানে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে যে ইবোলা প্রাদুর্ভাব চলছে, তার জন্য এখনও কোনো কার্যকর টিকা নেই।

গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকলেও অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের পরিচালক অধ্যাপক অ্যান্ড্রু পোলার্ড বলেছেন, প্রাণীদের ওপর করা গবেষণায় এই পদ্ধতির পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের আশা, এআই-ভিত্তিক এই প্রযুক্তি সফল হলে ভবিষ্যতে এমন টিকা তৈরি করা সম্ভব হবে, যা নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারবে এবং মহামারী মোকাবিলায় বিশ্বকে প্রস্তুত করে তুলতে পারে। 

গবেষণাটি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক অ্যান্ডি পোলার্ড বলেন, এটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি ফলাফল। তার মতে, অনেকেই হয়তো ভাবেননি, বিজ্ঞানীরা এ ধরনের বিস্তৃত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের শরীরে টিকাটি কতটা কার্যকর প্রমাণিত হয়। কারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরীক্ষাগারের ইঁদুরের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। বছরের পর বছর বিভিন্ন সংক্রমণের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

অধ্যাপক পোলার্ডের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে টিকা গবেষণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি বলেন, এআই এমনভাবে উন্নত হচ্ছে যে, এটি আগে থেকেই অনুমান করতে পারবে কোনো টিকার প্রতি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে সাড়া দেবে। এর ফলে নতুন টিকা তৈরির প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হবে এবং আরো বেশি মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও যত্ন গবেষণা জাতীয় ইনস্টিটিউট-এর বৈজ্ঞানিক পরিচালক অধ্যাপক মেরিয়ান নাইট এই গবেষণাকে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি এই ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’-এর সফল পরীক্ষা প্রমাণ করছে যে ভবিষ্যতে বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান নতুন এক দিগন্তের দিকে এগোচ্ছে। তার মতে, এটি টিকা প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
 

ফিলিস্তিনি গ্রাম উচ্ছেদে ইসরায়েলি নির্দেশ, নিন্দা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিস্তিনি গ্রাম উচ্ছেদে ইসরায়েলি নির্দেশ, নিন্দা জাতিসংঘের
ছবি: রয়টার্স

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে অবস্থিত খান আল-আহমার এলাকার ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনিদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) একটি বিশেষ কমিটি।

কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের এই উদ্যোগ ইসরায়েলের একটি পরিকল্পিত ও বেআইনি নীতি। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও আধিপত্যের ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমসহ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বহুবার ভোট দিয়েছে। তাই এসব এলাকায় জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন বা ফিলিস্তিনিদের জোর করে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিপন্থী।

কমিটির মতে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের এ ধরনের পদক্ষেপ ১৯৪৮ সালে শুরু হওয়া ‘নাকবা’র ধারাবাহিকতাকেই আজো বজায় রাখছে। ‘নাকবা’ বলতে ফিলিস্তিনিদের ব্যাপকভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঐতিহাসিক ঘটনাকে বোঝানো হয়।

এদিকে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের তথাকথিত ‘ই-১ এলাকায় অবস্থিত খান আল-আহমার জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি ইসরায়েলি সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই খান আল-আহমারের বাসিন্দারা উচ্ছেদের আশঙ্কার মধ্যে বসবাস করছেন এবং এ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।