ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক দম্পতির বাড়ির দুটি ঘর ভেঙে দিয়েছে এলাকাবাসী। এ সময় ঘর দুটির আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই দম্পতি মাদক ব্যবসায়ী। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডীদাসদি মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েক শ মানুষ একত্রিত হয়ে ঘর দুটিতে হামলা চালিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলছে। ঘরগুলোর মালিক চন্ডীদাসদি মহল্লার বাসিন্দা আইয়ুব শেখ (৫১)।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না আক্তার (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদককারবারীর সঙ্গে জড়িত। তাদের কারণে এলাকায় মাদকাসক্তির বিস্তার ঘটছে এবং যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ভাঙ্গা পৌরসভার চন্ডীদাসদি মহল্লার পশ্চিমপাশেই ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না ভাঙ্গা, নগরকান্দাসহ দুই-তিন উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় গাঁজা ও ইয়াবা কারবারি। এদের কারণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ময়না বেগম মাদক সম্রাজ্ঞী ও তার স্বামী আইয়ুব শেখ মাদকের ডিলার হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এ দম্পতির ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা ছাড়া উপায় নেই।
সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা ও ভাঙ্গা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের আইনজীবী মো. মাসুদ হোসেনও বাড়িঘর ভাঙচুরের সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, এ দম্পতি এলাকার বড় মাদককারবারী। এরা মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হন। আবার দুই-চারদিন পর জামিন নিয়ে চলে আসেন। আমরা এদের ভালো হয়ে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু, তারা ভালো হয়নি। তাই এলাকাবাসীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে মাদককারবারী দম্পতির দুটি ঘর ভেঙে দিয়েছে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, চন্ডীদাসদি গ্রামের আইয়ুব শেখ ও তার স্ত্রী ময়না বেগম বড় ধরনের মাদককারবারী। এদের বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করেছি। চলতি বছরও এদের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় মাদক আইনে তিনটি মামলা হয়েছে। এরা তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছে। এদের বাড়িঘর এলাকাবাসী ভেঙে দেওয়ার খবর কিছুক্ষণ আগে শুনেছি। পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।





